এনআরবি কমিউনিটি / নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কিন্তু সেই প্রবাসীদের অধিকাংশই পরিবার পরিজন ছেড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে ঈদ উদযাপন করে থাকেন। এটা তাদের জন্য সাময়িক একটি আনন্দ উৎসবও। কিন্তু করোনা মহামারীর কারনে এবারে তাদের ঈদ উদযাপন ছিল অনেকটা ব্যতিক্রমী। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারী দূর্যোগের মাঝে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঈদুল ফিতর পালন করেছে প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটি। নানান সীমাবদ্ধতার মাঝেও সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে এসব মহাদেশে ঈদ উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে। প্রবাসী কয়েকজন কমিউনিটি নেতাদের থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় নেটিভ অধিবাসীদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা ছিল আগের চেয়ে অনেক ভাল। ইউরোপে প্রতিবারের মত এবারও সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত হয়েছে পর্তুগালে।ইতালিতে মুসলিম কমিউনিটির কেন্দ্রীয় সংগঠন উনিয়নে দেল্লে কমুনিতা ইসলামিকে দিতালিয়া (উকোই) সকল দেশের মুসলিম কমিউনিটির মাঝে সমন্বয় করে থাকে৷ ঈদ উৎসবে সবাইকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছে উকোই৷ একইসাথে ইতালিস্থ ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের স্বীকৃত সংগঠন আসোশাৎসিয়নে ইসলামিকা ইতালিয়ানা দেইলি ইমাম এ দেল্লে গুইদে রেলিজিয়সে’র সংগঠনটিও সহযোগিতা করে থাকে । বিশেষ করে , ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে উকোই (UCOII) এদেশের মুসলিম কমিউনিটির স্বার্থ সংরক্ষণ করে থাকে। ফ্রান্স, জার্মানী,বেলজিয়াম, বৃটেন, রাশিয়া,স্পেন সহ ইউরোপের প্রায় সব দেশেই বসবাসরত মুসলিম কমিউনিটি এবারের ঈদ পালন করেছে যথাযথ নিয়ম ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঞ্চলে সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ব্যবস্থাপনায়।করোনার ভয়ঙ্কর ছোবল থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় মোনাজাতের মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে মুসল্লিরা ভিন্ন এক আমেজে নামাজ আদায় করেন। চমৎকার আবহাওয়া থাকায় অনেক মসজিদের ব্যবস্থাপনায় খোলা মাঠে ঈদ জামাতে মানুষের ঢল নেমেছিল। নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের পরিচালনাধীন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদোগে একটি হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত নামাজে ২০ হাজারের অধিক মুসল্লির সমাগম ঘটেে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরপর তিনটি জামাতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। নিউইয়র্কের এস্টোরিয়া, ওজনপার্ক, নিউকার্ক, কোনি আইল্যান্ড, ব্রঙ্কস, ম্যানহাটানেও বেশ কয়েকটি মসজিদের উদ্যোগে বড় বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেটস, নিউ হ্যামশায়ার, রোড আইল্যান্ড, টেক্সাস, আরিজোনা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ইলিনয়, মিনেসোটা, কানসাস, লুইজিয়ানা, আলাবামা ও শিকাগোতে করোনার বিধি মেনেই বিপুল উৎসাহে ঈদ উদযাপন হয়েছে। নিউইয়র্কের পরই সর্বোচ্চসংখ্যক বাংলাদেশি বাস করছেন মিশিগানে। ডেট্রয়েট, হ্যামট্রামেক ও ওয়ারেন এর বিভিন্ন মসজিদ বায়তুল মোকারম, মসজিদুন নুর, আল ফালাহ মসজিদ, আল ইসলাহ মসজিদ, বায়তুল মামুর মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার অব ওয়ারেন, মসজিদ আল ফাতাহসহ বাংলাদেশিদের দ্বারা পরিচালিত অন্যান্য মসজিদে আফ্রিকান ও আরবীয় কমিউনিটির অধিকাংশ মুসলিম অংশ নেয়। তবে মসজিদ কর্মকর্তাদের অনুরোধ রক্ষায় কোথাও কোলাকুলির সুযোগ ছিল না। কানাডার মেনিটোবা, অন্টারিও সহ কয়েকটি প্রদেশে ঈদের জামাতের কোন খবর পাওয়া যায় নি। তবে সরকারের অনুরোধে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে সবাই যার যার মত মসজিদ প্রাংগনে, বাড়ীতে ও পার্কে আলাদা ভাবে নামাজ পড়ে।সামাজিক দূরত্ব মেনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বাংলাদেশী বাঙ্গালী বসবাস করে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানকার জোহানসবার্গেই অপেক্ষাকৃত বেশী বাংলাদেশী বিভিন্ন ব্যবসা বানিজ্যে জড়িত। এছাড়াও সেখানকার কেপটাউন, প্রিটোরিয়া, ডারবানেও প্রবাসী কমিউনিটি ঈদ উদযাপন করেছে আনন্দ উৎসবের সাথে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবেশী রাষ্ট্র মোজাম্বিকেও উদ উদযাপন হয়েছে সব নিয়ম কানুন মেনে। তাছাড়া উত্তর আফ্রিকার মরক্কো, মিশর, লিবিয়া,আলজেরিয়া সহ বিভিন্ন আফ্রিকান দেশসমূহে শান্তি পূর্ণ ভাবে উদ উদযাপন হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির মাঝে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় দেখা গেছে। সিডনি সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ঈদ উদযাপন হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত ইমাম কাউন্সিলের ইউনিভার্সেল ক্যালেন্ডার এবং মুনসাইটিং অস্ট্রেলিয়ার কমিটির পরামর্শে দুই দিন ঈদ উদ্যাপন হয়। সারিহিলস মসজিদ, ব্ল্যাকটাউন ঈদগাহ মাঠ, লাকেম্বার প্যারিপার্ক কমপ্লেক্স, সেফটন মসজিদ, ম্যারিকভিল টাউন হল সেন্টার, অলিম্পিক পার্ক গ্রাউন্ড, রুটিহিল, মিন্টো, ইংগেলবার্ন, রকডেল, কোগরাহ, মেট্রাভিল, মাস্কট, ইস্টলেকস এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জানান কয়েকজন প্রবাসী। এশিয়ায় সবচেয়ে বেশী প্রবাসী বাংলাদেশীদের বসবাস মধ্য প্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে। তন্মধ্যে সৌদি আরবেই বেশী। মক্কা, মদীনা, রিয়াদ,জেদ্দা ও তায়েফে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির মাঝেও ছিল ঈদের আমেজ। এছাড়াও কাতার,কুয়েত,আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইনেও প্রবাসী বাংলাদেশীরা নিরাপদ সামাজিক দূরত্বে থেকে ঈদ উদযাপন করে। মালয়েশিয়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী কমিউনিটির মাঝে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঈদ উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে।
ছবি: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কমিউনিটির ঈদ নামাজ।
সূত্র : প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির কয়েকজন থেকে পাওয়া তথ্য।





















