KSRM
Home লিডারশিপ মোজাম্বিকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা ইসলাম মিয়া।

মোজাম্বিকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা ইসলাম মিয়া।

0
লাল সবুজের পতাকা বুকে নিয়ে জীবন জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার পরিজনকে একটু সুখে রাখতে বিদেশ বিভুইয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন অনেক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। যারা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের রিজার্ভ ফান্ডকে সমৃদ্ধ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন । হাজার মাইল দূরে থাকলেও বুকে ধারন করে আছেন তারা লাল সবুজের পতাকা। বাংলাদেশ আছে তাদের হ্নদয়ে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যাদের অন্তরে। আফ্রিকা মহাদেশের মোজাম্বিকে বসবাসরত তেমনি একজন প্রবাসী নেতা এম এ ইসলাম মিয়া। পিতার নাম আনোয়ার আলী। মোজাম্বিকের মকুবা, জামবেজীয়া আছেন তিনি। তার দেশের বাড়ী চট্টগ্রামের বাশখালীর ছনুয়া ১২ নং ওয়ার্ড ০১ ছেলবন। কমিউনিটি টিভির নিয়মিত আয়োজন ‘প্রবাসে বাংলাদেশ কমিউনিটি লিডার ‘ বিভাগে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে অনলাইন মোবাইল সংলাপে জানা গেল অনেক রোমাঞ্চকর তথ্য । জানা গেল মোজাম্বিকে হাজারো বাংলাদেশ কমিউনিটির জীবন জীবিকার সংগ্রাম, আশা, স্বপ্ন, সমস্যা, ব্যবসা বানিজ্যের সম্ভাবনা ও রাজনীতি চর্চার বিভিন্ন দিক। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মেজাম্বিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইসলাম মিয়া বলেন, আমি ১৯৯৪ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করে ১৯৯৫ সালে রাজাখালী ফৈয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের যুগ্ন আহবায়ক মনোনীত হই। তখন থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। তখন বি এন পি ক্ষমাতায় থাকায় চাকুরি না পেয়ে আর্থিক অবস্থা চিন্তা করে ২০০৩ সালে মোজাম্বিকে পাড়ি জমাই । মোজাম্বিকে আফ্রিকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মোজাম্বিক শাখা গঠন করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামের একটা বটবৃক্ষ রোপন করি, সে বট বৃক্ষ এখন ডালপালা দিতে শুরু করে। বিগত ৪ বছর যাবত আমরা জাতীয় দিবস সহ সাংগঠনিক প্রোগ্রাম করে আসছি। গত ১ লা নভেম্বর আওয়ামী লীগের একটি বর্ধিত সভা আয়োজন করি। কিন্তু উক্ত বর্ধিত সভা জামায়াত, বি এন পি ও হাইব্রিড নেতা আমাদের অনুষ্ঠানে ২ বার পুলিশের মধ্যেমে বানচাল করতে চেয়ে ছিল। সেই দিন রাতে আমার আই. ডি, কার্ড সহ দলীয় ব্যানার নিয়ে যায়, পরে থানায় দুই বার গিয়ে অনেক তদন্ত করে আমার আই ডি এবং ব্যানার ফেরত দেয় তারা । শত প্রতিকূলতার মাঝেও মোজাম্বিকে আমাদের তৃনমুল কর্মিরা সারাজীবন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম মোজাম্বিকে চালিয়ে যেতে পারে অঙ্গীকারবদ্ধ । এখন আপনারা কি চান, জানতে চাইলে ইসলাম মিয়া বলেন, আজ আমরা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাউথ আফ্রিকা থেকে শুরু করে বাংলাদেশেসহ সারা বিশ্বের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সৈনিক, সাংবাদিক, রাজনীতি ব্যাক্তিত্ব সহ সকল কে অনুরোধ করব, আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,পররাষ্ট্রমন্ত্রালয় সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পৌছানোর ব্যাবস্হা করবেন। কে বা কারা মোজাম্বিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করতে চায়? সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। একে একে আমরা সব জানাব দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই। পরিশেষে দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করতে চাই, মোজাম্বিক আওয়ামী লীগ ও যুবলীগকে জামায়াত, বি এন পি ও হাইব্রিড থেকে আমরা রক্ষা করবই। মোজাম্বিকে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এদেশে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন কৃষি খামার বাড়ী, দোকান, রেষ্টুরেন্টে কাজ করে। কেউ স্বাধীনভাবে ছোট বড় ব্যবসাও করে। বাংলাদেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় প্রতিবেশী সাউথ আফ্রিকার উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস রয়েছে। মোজাম্বিকেও বাংলাদেশ দূতাবাস স্থাপন হলে জনশক্তি রপ্তানি ও ব্যবসা বানিজ্যের দ্বার উন্মোচিত হবে। তিনি আরো বলেন, এদেশে প্রচুর পরিমানে ভুট্টা, কাজুবাদাম, তিল, গ্রিন মোগ ভিন্স ইত্যাদি ভালো চাষ হয়। ফল ফ্রুটস এর মধ্যে আম, কমলা, মাল্টা বেশ সুস্বাদু ও রপ্তানি হয়। এখানে জনসংখ্যার ২০% শ্বেতাঙ্গ(হোয়াইট) , যারা ব্যবসা বানিজ্যের নেতৃত্বে। বাকীরা কৃষ্ণাঙ্গ( ব্ল্যাক) অধিবাসী। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আছে ভারতীয়, যারা গত একশত বছর আগে থেকেই এদেশের ব্যবসা বানিজ্য করে যাচ্ছে। ইসলাম মিয়া বলেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এখানে ব্যবসা বানিজ্য করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। উদ্যোগ নিলে এখানে হতে পারে এগ্রো বেইজড শিল্প কারখানা। হতে পারে সিমেন্ট, তেল, আটা, ময়দা ফ্যাক্টরী। দেশটি সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোজাম্বিক সাউথ আফ্রিকার সীমানা ও ভারত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী একটি দেশ যার আয়তন ৮০১,৫৯০ বর্গ কিলোমিটার। এর বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২৯.৫ মিলিয়ন। জনসংখ্যার প্রায় ৫৬% খ্রীস্টান, প্রায় ১৮% মুসলিম, বাকীরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। দীর্ঘদিন পর্তুগিজ কলোনি থাকায় এদেশের রাস্ট্রীয় ভাষা পর্তুগিজ। তবে ইংরেজি ও স্থানীয় কয়েকটি ভাষাও রয়েছে। ১৯৭৫ সালে স্বাধীন হয়ে সে বছরই দেশটি জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে। আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য মোজাম্বিকে যথেষ্ট খনিজ, বনজ ও প্রাণীজ সম্পদ রয়েছে। তবে কারিগরি দক্ষতা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কারনে দেশটি সম্পদ আহরণে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ ও তার দল নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি? জানতে চাইলে ” মিয়া মোজাম্বিক” নামে পরিচিত বাংলাদেশ কমিউনিটির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু আমার হ্নদয়ে। বাংলাদেশ কমিউনিটির জন্য জনকল্যানমূলক কাজ করার পাশাপাশি আমার শুধু উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সূদুর প্রবাসে মোজাম্বিকেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এতে শত বাধা বিপত্তি আসলেও আমি আমার জীবনকে প্রিয় বাংলাদেশ ও দলের জন্য উৎসর্গ করে দেব, ইনশাআল্লাহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here