KSRM
Home কমিউনিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম ভূমিকা রাখছে।  মতবিনিময় সভায় বক্তারা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম ভূমিকা রাখছে।  মতবিনিময় সভায় বক্তারা

0

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী/জনকল্যাণ/নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ বা ক্ষুদ্র অর্থায়ন কার্যক্রম সারা বিশ্বে অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক খাত হিসেবে সুপরিচিত।  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুতেই দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির আর্থিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বার্থ সংরক্ষণ ও ভাগ্য উন্নয়নে ছোট বা ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের জামানত ও সুদবিহীন ঋণ প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে Rural Social Service(RSS) প্রকল্পের আওতায় সর্বপ্রথম সুদ ও জামানত বিহীন ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধি অর্জনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমাজসেবা কার্যক্রমের পাশাপাশি ঋণ প্রদান কার্যক্রম শুরু করে।
শনিবার( ২ অক্টোবর) দুপুরে    মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি’র উদ্যোগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে  চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীগণের সাথে মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত মতামত ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে অথরিটি এর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার  মোঃ  কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডিসি  আ.স.ম. জামশেদ খোন্দকার, এমআরএ এর পরিচালক মোহাম্মদ মাজেদুল হক ও মোঃ নূরে আলম মেহেদী । এসময়  অথরিটি উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মুহাম্মাদ শাহজালাল সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিতি ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এমআরএ এর পরিচালক  মোহাম্মদ মাজেদুল হক,  সেক্টরের হাল নাগাদ তথ্য পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন এমআরএ এর পরিচালক মোঃ নূরে আলম মেহেদী। এছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের সনদ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীগণ বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি তাঁর  বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।  এসকল কার্যক্রম দৃশ্যমান প্রচার ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।
মতবিনিময় সভায় বলা হয়, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেই এ খাতের উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে স্টাডি পরিচালনা, বাংলাদেশ ব্যাংকে Microfinance Reseach and Reference Unit (MRRU) প্রতিষ্ঠা ও স্টিয়ারিং কমিটি গঠন  প্রভৃতি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দারিদ্র বিমোচন ও আর্থিক সহায়ক দক্ষ এবং টেকসই ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা বিনির্মাণে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইন ২০০৬ অনুসারে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সনে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর  প্রয়োজনীয় লোকবল ও বিধিবিধান প্রনয়ন করে এমআরএকে কার্যকর করা হয়।

এমআরএ বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুযায়ী The Societies Registration Act, 1860; The Trust Act, 1882; ও The Voluntary Social Welfare (Control and Registration) Ordinance, 1961 অথবা কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত কোন স্বেচ্ছাসেবী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সনদ প্রদান, প্রয়োজনে সনদ স্থগিত/বাতিল, অনসাইটি ও অফসাইট সুপারভিশনের মাধ্যমে সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মনিটরিং, অর্থায়নকারী সংস্থার স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও নীতি প্রণয়ন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদি সম্পাদন করে থাকে। এ পর্যন্ত ২ বার (২০০৬-০৭২০১১-১২ অর্থবছরে) সনদের জন্য আবেদন আহবান করা হলে মোট আবেদনকৃত ৫,৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অথরিটি কর্তৃক ৮৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সনদ প্রদান করা হয় এবং অথরিটি’র বিধি-বিধান পরিপালনে ব্যর্থ হওয়ায় ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের সনদ বাতিল করা হয়। ফলে বর্তমানে অথরিটির সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৪৬টি। ৩০ জুন ২০২০ ভিত্তিক তথ্যানুযায়ী এমআরএ’র সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশব্যাপী প্রায় ২১ হাজার শাখা ও পৌনে ২ লক্ষ জনবলের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ গ্রাহকের মাঝে (যার ৯১% নারী) বছরে ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে। গ্রাহকদের বার্ষিক সঞ্চয় প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
“মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইন, ২০০৬” এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এমআরএ’র সনদ ব্যতীত কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই এবং একই আইনের ৩৫(১)(ক) ধারা অনুযায়ী এমআরএ’র সনদ ব্যতীত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে সমাজসেবা অধিদফতর, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মস কিংবা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস হতে নিবন্ধন নিয়ে কোন স্বেচ্ছাসেবী , অলাভজনক সংস্থা, ফাউন্ডেশন বা ট্রাস্ট এবং এনজিও কর্তৃক এমআরএ’র সনদ গ্রহণ না করে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া সমবায় সমিতি কর্তৃক নিজেদের সদস্য বা শেয়ারহোল্ডারের বাহিরে ঋণ প্রদান কিংবা সঞ্চয় গ্রহণ ও একাধিক শাখা পরিচালনার সুযোগ নেই।

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবেলাসহ দরিদ্র অসহায় মানুষের সহায়তা প্রদান প্রভৃতি সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশ্বব্যাপী মহামারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পাশপাশি স্খাস্থ্যবিধিও সরকারি নির্দেশনা মেনে সচেতনতা তৈরী, স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী, ঔষধপত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী  বিতরণ, হেলথ ক্যাম্পের মাধমে সহায়তা প্রদান, আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে মানুষের পাশে থেকে সামাজিক উন্নয়ন সেবা প্রদান করছে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরত অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরো শিক্ষা জীবনের  জন্য প্রতি মাসে ৩-৫ হাজার টাকার “বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বৃত্তি” চালু করেছ।

এমআরএ প্রতিষ্ঠার পর মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি বিধিমালা, ২০১০ প্রণয়ন, ক্রমহাসমান স্থিতি পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রঋণের সার্ভিস চার্জের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণে (বর্তমানে সর্বোচ্চ ২৪%), গ্রাহক সঞ্চয়ের উপর ন্যূনতম ৬% (প্রতি মাসের শুরু এবং শেষের গড় স্থিতি ভিত্তিক হিসাবায়নের শর্তে) মুনাফা প্রদান এবং সাপ্তাহিক কিস্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ দিনের গ্রেস পিরিয়ড়সহ ন্যূনতম ৪৬ কিস্তিতে ঋণ আদায়, স্থায়ী সম্পদ অর্জনে অথরিটির পূর্বানুমোদন গ্রহণের বিধানসহ প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ  বিধি-বিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া দক্ষ মানব সম্পদ সুষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের লোকবলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ই-রেগুলেশন প্রবর্তন ও ক্ষুদ্রঋণের নির্ভুল ও সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ডাটাবেইজ স্থাপনের পাশাপাশি ব্যাংকিং সেক্টরের ন্যায় ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরের জন্য ক্ষুদ্রঋণ তথ্য ব্যুরো (MF-CIB) প্রতিষ্ঠার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ঢাকার বাইরে এমআরএ’র কোন  অফিস না থাকলেও উপরিলিখিত বিধি-বিধান  সঠিকভাবে বাস্তবাযনপূর্বক এখাতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে এমআরএ নিরলসভাবে কাজ করছে। আপনি জানেন যে, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয় সাধনে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রযেছে ফলে বেআইনী ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বন্ধ এবং এমআরএ’র সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহকে বৈধ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয়ভাবে সহায়তা প্রদানসহ বিদ্যমান বিধি-বিধান বাস্তায়নে মাঠ প্রশাসনের সহায়তা একান্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য,  চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৬টি জেলার (চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন) ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৬টি এবং শাখা অফিস ৫৫২টি। এদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে মতবিনিময়ের জন্য এ সভা আয়োজন করা হয়েছে।

…….. প্রেস রিলিজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here