KSRM
Home কমিউনিটি সিকিউরিটি কোম্পানি ‘ থ্রি সিক্সটি’ পালন করল ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অফিসার্স ডে

সিকিউরিটি কোম্পানি ‘ থ্রি সিক্সটি’ পালন করল ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অফিসার্স ডে

0

নিউজ ডেস্ক :  বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হল ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অফিসার্স ডে। মূলত বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ডদের কাজের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই দিনটি উদযাপন করা হয়।
বাংলাদেশে অন্যান্য কোম্পানির মত  সিকিউরিটি থ্রি সিক্সটি ( Security 360) লিমিটেড বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে  দিনটি উদযাপন করেছে। কোম্পানির  অফিসে কেক কাটা, র‍্যালি, সিকিউরিটি গার্ডদের সম্মাননা প্রদর্শন অনুষ্ঠান ইত্যাদির আয়োজন  ছিল বেশ আকর্ষণীয়।
এ বিষয়ে কোম্পানিটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, সিকিউরিটি গার্ডরাও আমাদের মতোই রক্তমাংসে গড়া মানুষ। তাদেরও উপযুক্ত সম্মান প্রাপ্য। মূলত এটাই আমাদের এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল। আসুন আমরা সকলেই এই সমাজসেবকদের যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন এবং  তাদের প্রতি মানবিক ও সদয় আচরণ করি।
বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রাইভেট সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি শুরু মুলত ৯০ দশকে। সেনাবাহিনীর কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারের হাত ধরে বাংলাদেশে এই শিল্পের যাত্রা শুরু ১৯৮৮ সালের দিকে। শুরুতে খুব অল্প পরিসরে হলেও ধাপে ধাপে এর ব্যাপ্তি ব্যাপক আকার ধারন করে। গতানুগতিক দারোয়ান প্রথা থেকে বারিয়ে ১৯৯৪-৯৫ সালের দিকে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রাইভেট সিকিউরিটি নিয়ে কাজ শুরু করে। কিছু দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশী ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারন করে।
বাংলাদেশে প্রাইভেট সিকিউরিটির উত্থান মূলত ২০০১ সালে নিউইয়র্ক এ সন্ত্রাসী হামলার পর। দেশীয় প্রতিষ্ঠান এর পাশাপাশি বিদেশী ডিপ্লমেটিক মিশন, এনজিও, ইউ এন এর প্রতিষ্ঠান সমূহ, আন্ত্রজাতিক প্রতিষ্ঠান গারমেন্টস কিম্বা নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ধিরে ধিরে প্রাইভেট সিকিউরিটির উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে থাকে।
জানা যায়, বহুজাতিক ও  বিদেশী মালিকানাধীন সিকিউরিটি কোম্পানির পাশাপাশি এদেশের নামকরা বহু শিল্প গ্রুপ এই সেক্টরে অর্থ লগ্নি করছে।  বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৯০০ এর অধিক প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি কাজ করছে। খুব দ্রুত মানুষ গতানুগতিক দারোয়ান ধারনার এর বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষিত সিকিউরিটি গার্ডের দিকে ঝুকে পড়ছে। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কমপ্লায়েন্স ইস্যু বাধ্যতামূলক হওয়ায় এ সেক্টরের গুরুত্ব খুব দ্রুত বাড়ছে। ইদানীং নানা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন এপার্টমেন্ট এ প্রাইভেট সিকিউরিটির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
একটা সমীক্ষায় জানা গেছে বর্তমানে এই সেক্টরে প্রায় ৮ লক্ষ লোক কাজ করছে। বাজার ব্যাবস্থা অনুযায়ী আরও অন্তত ৮ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আরো জানা যায়, আজকাল মানুষ যেখানেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে সেখানেই সিকিউরিটি গার্ডের চাহিদা বাড়ছে। এপার্টমেন্ট থেকে আবাসিক এলাকা, ফ্যক্টরি থেকে কর্পোরেট অফিস, ব্যাংক,  এটিএম বুথ, এনজিও, বিদেশী দুতাবাস সহ সব খানেই প্রাইভেট সিকিউরিটির গুরুত্ব খুব দ্রুত বাড়ছে। শুধু সিকিউরিটি গার্ড ই নয়, নিরাপত্তা সম্পর্কিত সব এরিয়াতেই সিকিউরিটি কোম্পানি গুলো খুব দক্ষতার সাথে এগিয়ে আসছে। সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা গুলোর পাশাপাশি প্রাইভেট সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান গুলো দারুন ভাবে কাজ করছে। ইদানিং বডি গার্ড, ক্লোজ প্রটেকশন সার্ভিস, ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস, ইলেক্ট্রিনিক্স সিকিউরিটি সার্ভিস, মেরিটাইম সিকিউরিটি সার্ভিস, ডেথ ক্লেইম ইনভেস্টিগেশন, ইভেন্ট সিকিউরিটি ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনেও প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো অনেক অবদান রেখে চলেছে। দিনে দিনে এ সেক্টরের কাজের পরিধি খুব দ্রুত বাড়ছে।
এই সেক্টরের আইনগত ভিত্তি নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানা যায়, বাংলাদেশে দ্রুত অগ্রসরমান এই সেক্টরে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে সরকার এই বাংলাদেশ প্রাইভেট সিকিউরিটি এক্ট বিল পাশ করে। এটি  প্রাইভেট সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য একটা আশীর্বাদ হিসেব বিবেচনা করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাইভেট সিকিউরিটি একটি স্বীকৃত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
এ নিয়ে বিভিন্ন সিকিউরিটি কোম্পানির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আলাপে জানা যায়, বাংলাদেশ দ্রুত অগ্রসরমান একটি উন্নত দেশের তালিকায় এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা গুলোর পাশাপাশি প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি গুলোর এগিয়ে যাওয়া অবশ্যই সময়ের দাবী। এ সেক্টর যত দ্রুত দক্ষতার সাথে এগিয়ে যাবে তত দ্রুত দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় অভূতপূর্ব অগ্রগতি হবে। সরকারের নিজস্ব নিরাপত্তা সংস্থা গুলোর উপর চাপ কমবে। জনগণ ও সম্পদের স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বর্তমানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বিদেশী প্রতিষ্ঠান এ সেক্টরে অর্থ লগ্নি করছে।
তবে তারা বলেন বর্তমানে প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানির প্রতিবন্ধকতা সমূহও কম নয়। ক্রমবরধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে বেশ কিছু সমস্যার কারনে এই সেক্টর নানা ভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। যেমন, ১। মোট বিলের উপর ভ্যাট প্রদান, ২।দারোয়ান প্রথা থেকে বেরিয়ে না আসা, ৩। বেতন প্রদানে অনিহা অর্থাৎ খুব কম টাকায় লোক নেওয়ার প্রবনতা। ৪। উপযুক্ত সুযোগ সুবিধার অভাব
৫। প্রফেশনালিজমের অভাব ৬। নিয়োগকর্তা কর্তৃক  অসদাচরণ ৭। চাকুরির নিরাপত্তা ৮। সামাজিক অবস্থান
৯। ডিউটির সময়কাল  ১০। ছুটিছাটার অভাব ১১। গার্ডের ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার অভাব ইত্যাদি।
তবে সরকারের কিছু  উদ্যোগ ও সিকিউরিটি কোম্পানিগুলোর সদিচ্ছায়  উপরোক্ত সংকটগুলো কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন তারা। পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, শিক্ষিত মানুষের আগমন ও উন্নত প্রযুক্তিগত উত্তরনের কারনে এই সেক্টর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here