Home প্রবাসী বাইডেন- হ্যারিসের জয়ের অন্যতম নেপথ্যে আমেরিকার অভিবাসী কমিউনিটি

বাইডেন- হ্যারিসের জয়ের অন্যতম নেপথ্যে আমেরিকার অভিবাসী কমিউনিটি

0

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী অভিবাসীদের দেশ হলো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। এদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া অভিবাসী কমিউনিটির বসবাস, যারা দেশটির উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তারা নেপথ্যে কাজ করেছেন জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসের জয়লাভে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিবাসীদের নিয়ে রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের অপেক্ষাকৃত সহজ উদার নীতি এক্ষেত্রে বাইডেন- হ্যারিসের জয়লাভের অন্যতম কারন হতে পারে। নির্বাচনের আগে ও পরে অভিবাসীদের শান্তি পূর্ণ মিছিল সমাবেশে ব্যাপক অংশগ্রহন তাই প্রমান করে। তবে রিপাবলিকানদের মাঝেও অভিবাসীদের অংশ গ্রহণ থাকলেও বিভিন্ন ইস্যুতে তারা ছিল দ্বিধা বিভক্ত। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মাঝে অভিবাসীদের আনন্দ সহকারে অংশ গ্রহণ বাইডেন- হ্যারিসের জয়কে প্রশস্ত করেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট অভিবাসীদের সবাই ভোটার না হলেও আমেরিকার এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতি দশজন ভোটারের মধ্যে একজন হলেন অভিবাসী ভোটার । এ সংখ্যা প্রায় ২৩ মিলিয়ন। অভিবাসীদের অর্ধেকই বসবাস করেন ক্যালিফোর্নিয়া(৫.৫ মিলিয়ন), নিউইয়র্ক(২.৫ মিলিয়ন), ফ্লোরিডা(২.৫ মিলিয়ন), টেক্সাস(১.৮ মিলিয়ন), নিউ জার্সি(১.২ মিলিয়ন) এবং বাকী সংখ্যা বসবাস করে অন্যান্য স্ট্যাটগুলোতে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যা অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ৩১ তম। । এক্ষেত্রে সর্বপ্রথমে আছে মেক্সিকো, তারপর ভারত,চীন, ফিলিপাইন, এল সালভেদর,ভিয়েতনাম, কিউবা,ডোমিনিকান রিপাবলিক, সাউথ কোরিয়া, গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া, কানাডা, জ্যামাইকা, হন্ডুরাস, হাইতি,বৃটেন, জার্মানি, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা, পেরু, ইকুয়েডর, পোল্যান্ড,পাকিস্তান, নাইজেরিয়া,রাশিয়া, ইরান, তাইওয়ান, ইউক্রেন, জাপান, ইটালী ও বাংলাদেশ। বাকীগুলো পৃথিবীর অন্যান্য দেশের। ২০১৯ এর তথ্যনুযায়ী বাংলাদেশ কমিউনিটির সংখ্যা প্রায় ২৬১৩৪৮ জন। এবারের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশ কমিউনিটির অংশগ্রহন চোখে পড়ার মত। তবে তার চেয়েও বেশী তাদের মাঝে আগ্রহ তৈরী হয়েছে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী সেন্টারে বাংলা ভাষার ব্যবহার। বাংলাদেশ কমিউনিটির বাংলা ভাষাভাষী অধ্যুষিত বিভিন্ন নির্বাচনী সেন্টারগুলোতে দেখা যায়, ভোটারদের সহজ নির্দেশনার পোস্টারগুলোতে ইংরেজি, স্পেনিশ, চাইনিজ,জাপানি ভাষার সাথে বাংলা ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার এমন সম্মান বাংলাদেশ কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত মর্যাদা পূর্ণ বলছেন কয়েকজন প্রবাসী। তারা বলছেন, বুঝা গেল আমেরিকা আসলেই যে একটি সমমর্যাদা, সমানাধিকার ও মানবাধিকারের দেশ । আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম একজন দক্ষিণ এশিয় অভিবাসীর সন্তান কমলা হ্যারিস প্রথম মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তা প্রমাণ হল। বহির্বিশ্বে আমেরিকার এতদিন যে ইমেজ সংকট ছিল তা পুনরুদ্ধারে এ নির্বাচন ভুমিকা রেখেছে। পাশাপাশি ট্রাম্প যুগে এতদিন অভিবাসী কমিউনিটির মাঝে যে একপ্রকার সন্দেহ ও অবিশ্বাস ছিল তাও দূরীভূত হয়েছে। তারা এখন আরো সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করে আমেরিকার উন্নয়ন ও গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here