
পার্বত্য চট্টগ্রাম সচেতন ছাত্র সমাজ ও নাগরিকবৃন্দ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল এবং আ্যমিউজমেন্ট পার্ক নির্মাণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান জেলা শহরের প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই মানববন্ধনে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শত শত ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয়। ছাত্রনেতা বং চক ম্রো এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেট মাধবী মারমা, এ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মার্মা, উদীচির সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যসা মং মার্মা, ছাত্রনেতা রিপন চক্রবর্তীসহ আরো অনেকে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, চিম্বুক পাহাড়ে ম্রো জনগোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মিত হলে তারা উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়বে। কাপ্রুপাড় থেকে নাইতং পাহাড় হয়ে জীবন নগর পর্যন্ত স্থাপনা নির্মাণ করা হলে তাদের সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। উল্লেখ্য, গত ০৮ অক্টোবর চিম্বুক পাহাড়ের পাঁচ তারকা হোটেলসহ বিলাসবহুল পর্যটনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিভিন্ন পাড়ার ম্রো জনগোষ্ঠীরা। কারা এই ম্রো বা মুরং কমিউনিটি? বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে যে সব অধিবাসী বসবাস করেন তারা ম্রো ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ( Mro Community) নামে পরিচিত । তাদের দাবী তাদের ভিটেমাটি ও জুমচাষের জমিতে কোন বানিজ্যিক বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণ করা যাবে না। তারা বলছেন, পাহাড়ের মানুষকে পাহাড়ি জীবনে থাকতে দিন। বিলাসবহুল পর্যটন গিরি বানিয়ে চিম্বুক পাহাড়ের ম্রোসহ অন্যান্য আদিবাসীদের জীবন অনিশ্চিত করে তুলবেন না। তারা আরো বলছেন, আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই , তবে তা অবশ্যই হতে হবে পাহাড়ের সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ রক্ষা করে। পর্যটন স্থাপনা হোক তবে তাতে যেন জীববৈচিত্র্যের উপাদানগুলো অক্ষুন্ন থাকে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায় কয়েকটি পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তার মধ্যে একটি হল ম্রো জনগোষ্ঠী। মিয়ানমার বা বার্মার ভাষায় এদেরকে বলা হয় ম্রো। বাংলা ভাষায় এরা মুরং নামে পরিচিত। পাহাড়ে উচু করে ঘর বানিয়ে বসবাস করে বলে এদেরকে টং মুরংও বলা হয়। গবেষকদের মতে, মুরংরা হলো মায়ানমারের পশ্চিমে বসবাসকারী চিন জাতির উপশাখা। তারা মিয়ানমারের রাখাইনেও বসবাস করে। বাংলাদেশের বান্দরবানের পাশাপাশি রাংগামাটি ও প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গতেও ম্রোদের বসবাস। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রায় ২৫ হাজার, মিয়ানমারে প্রায় ২০ হাজার ও ভারতে প্রায় ২০ হাজার ম্রো বসবাস করে। ম্রোদের দাবীমতে তাদের পূর্ব পুরুষেরা মিয়ানমারের কালাদান নদীর অববাহিকায় বসবাস করত। অন্য গোত্র ও জনগোষ্ঠীর সাথে সংঘাত ও বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা আশেপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক আগে থেকেই তারা বাংলাদেশের মাটি,মানুষ,নদী ও প্রকৃতিকে ভালবেসে সবার সাথে মিলেমিশে একটি উন্নত জীবন ও জনপদ নির্মাণে সদা কর্মচঞ্চল।
