মিডিয়া কমিউনিটি / নিউজ ডেস্ক :
গণমাধ্যমে মূলধারা না হলেও সোশ্যাল মিডিয়া নামে পরিচিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অপেক্ষাকৃত বেশী মুক্ত হওয়ায় এটি হয়ে উঠছে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী একটি ধারা। অবাধ তথ্য প্রবাহে মূলধারা নামে পরিচিত সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে তথ্য প্রদানে নানান চাপ ও সীমাবদ্ধতার কারনে এর বিকল্প হিসেবে অধিক মুক্ত তথ্য প্রবাহ হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো। আজ ৩ মে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ব মিডিয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর জরীপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরীপে দেখা যায়, বিশ্বের ৪ শত কোটি ৩৩ লক্ষ মানুষ (৪.৩৩ বিলিয়ন) সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। শতকরা হিসেবে এটা ৫৫%, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক থেকেও বেশী। এরমধ্যে ১৭ টি সোশ্যাল মিডিয়ার রয়েছে ৩ শত কোটিরও বেশী মানুষ, যারা নিয়মিত সক্রিয়। মাসিক ইউজারস হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনো পর্যন্ত ফেইসবুকে সক্রিয় ২ শত কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ। তারপরেই রয়েছে ইউটিউব ২ শত কোটি ৩০ লক্ষ। হোয়াটসঅ্যাপ ২ শত কোটি, ফেইসবুক ম্যাসেন্জার ১ শত কোটি ৩০ লক্ষ, ইন্সটাগ্রাম ১ শত কোটি ২৯ লক্ষ, উইচ্যাট ১ শত কোটি ২২ লক্ষ, টিকটক ৭০ কোটি ৩২ লক্ষ। গবেষকদের মতে মূলধারার মিডিয়াগুলো বিভিন্ন চ্যালেন্জের সম্মুখীন। এখানে কর্মরত সাংবাদিকদের যথাযথ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন নিয়ম ও নির্দেশনার বেড়াজালে সংবাদ দিতে দেরী করায় দ্রুত শূন্যস্থান পূরণ করে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো। আবার সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যগুলো পুরোপুরি সংবাদ না হলেও সেগুলোই আগে পাওয়ায় বেশী গ্রহনযোগ্যতা পাচ্ছে মানুষের কাছে। তাছাড়া মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রী থাকলেও মাঠপর্যায়ের ও তৃনমূল মানুষের স্বপ্ন, আশা আখাংকা ও চাহিদা জানতে ব্যর্থ। তাই তারা উপযুক্ত নিউজ কনটেন্টও মানুষকে দিতে পারছে না। যার ফলে তাঁরা পিছিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো অনেকটা স্বাধীন ও মুক্ত মতামত প্রকাশের বড় প্লাটফর্ম। তরুণ ও মেধাবী একঝাক মিডিয়া কর্মীদের একটি কমিউনিটিও গড়ে উঠেছে এই প্লাটফর্মে। মুক্ত দুনিয়া থেকে মুক্ত তথ্য আহরণ করে বিকশিত হচ্ছে এই অনলাইন সেক্টর। এটা ডিজিটাল প্লাটফর্ম নামেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নিত্য নতুন কনটেন্ট, কনসেপ্ট ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা থাকায় সেগুলো গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে বিশাল এক জনগোষ্ঠীর কাছে।
সেই প্রেক্ষিতে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোও এখন সোশ্যাল মিডিয়াকেই সংবাদের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনও দেখা যায়, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোই সম্পাদনা করে নিউজ হিসেবে চালিয়ে দেয় মূলধারার গণমাধ্যমগুলো। এটা অনেকটা খোলা পণ্য নতুন আকর্ষণীয় প্যাকেটে নিয়ে বাজারজাত করা। নিউজ নামক নতুন আকর্ষণীয় প্যাকেটের পণ্যগুলো মানুষ খেয়ে হজম করলেও তারা জানে সেগুলো কিছুটা বাসী খাবার। এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাধব দীপ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া হলো সময়ের বাস্তবতা ও প্রযুক্তিগত উত্তরন। এটাকে মেনে নিয়েই মেইনস্ট্রিমের গণমাধ্যমগুলো এখন তাদের কনটেন্ট আপডেট করছে। এমনকি তাদের পরিবেশিত নিউজগুলো ফেইসবুক, ইউটিউবের মত সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্মে লিংক দিচ্ছে। কারন এখানেই আছে তাদের নিউজ ও ভিডিও কনটেন্টগুলো দেখার বিশাল এক কমিউনিটি। বর্তমান সরকারের গৃহীত ডিজিটাল বাংলাদেশ এজেন্ডাগুলো এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইন্টারনেট সহজলভ্য করার সরকারী উদ্যোগগুলো অবশ্যই দেশের মিডিয়া সেক্টরকে আরো সমৃদ্ধ ও বিকশিত করেছে। এটা সরকারের একটি বড় সাফল্য বলা যেতে পারে। এখন উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অভিযানে যে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের ডাক এসেছে, সেজন্য প্রয়োজন অনলাইন দুনিয়ায় দাপিয়ে বেড়ানো। মুক্ত এই পৃথিবীর পাঠশালা থেকে যতই তথ্য আহরন করা যাবে ততই দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। কারন তথ্যই এখন বড় সম্পদ। তথ্যের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, অবকাঠামো, গণতন্ত্র সহ সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
….. স্পেশাল রিপোর্ট। সরোয়ার আমিন বাবু।
























