আন্তর্জাতিক কমিউনিটি/নিউজ ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে ফের আলোচনায় এখন কোয়াড। আফগানিস্থানে বিপর্যয়ের পর ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন কোয়াড। কারন হিসেবে বলা হচ্ছে পাকিস্তানের মাধ্যমে আফগানিস্তান এখন চীনের প্রভাব বলয়ে। ভারতও সেখানে সুবিধা করতে পারছে না।তাই আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এখন কোয়াডকে নিয়ে নতুন হিসেব নিকেশ কষছে তার মিত্রদের নিয়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন বিশ্লেষণই উঠে এসেছে।
কোয়াড হলো চতুর্দেশীয় একটি জোট বা কোয়াড্রল্যাটারাল সিকিওরিটি ডায়ালগ বা QUAD। এর সদস্যদেশগুলো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত এটিকে কোন সামরিক জোট বলতে না চাইলেও জোটটি আসলে চীনকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য একটা উদ্যোগ হিসেবে প্রচার রয়েছে আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা বিভিন্নভাবে এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের পরপরই দেশগুলোর সরকার প্রধানরা ওয়াশিংটন ডিসিতে ২৬ সেপ্টেম্বর কোয়াড এর দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হওয়ায় এটি আরো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়শহিদি সুগা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, কোয়াড এর বন্ধন আরো মজবুত হয়ে ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে।
এশিয়ার আরেক সুপার পাওয়ার ভারতকে নিয়ে কোয়াড এর এমন এগিয়ে চলা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশল – বলছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এটা আসলে অপ্রতিরোধ্য চীনকে যথাসম্ভব রুখে দেওয়ার একটা কৌশল। তবে চীনও বসে থাকবে, এমন ভাবারও কোন কারন নেই। চীনও চাইবে রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে একটি শক্তি বলয় গড়ে তুলতে। এতে এ অঞ্চলে উত্তেজনাই বাড়বে।
তবে এবারের শীর্ষ বৈঠক শেষে ব্রিফিং এ বলা হয়েছে, কোভিড, জলবায়ু পরিবর্তন, নতুন প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহ ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মুখোমুখি সমালোচনামূলক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে । বিষয়গুলোর অবস্থান এবং দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট। বলা হয়েছে প্রতি বছর একটি চতুর্ভুজ সম্মেলন হবে। আমরা বলতে পারি যে কোয়াডের প্রচেষ্টা পুরোপুরি শিকড় ধরেছে। আমরা আরও, বিশ্বাস করি আমাদের বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল কারণ আমরা একটি মুক্ত ও খোলা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় জোন করার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা আরও উন্নত করার জন্য কাজ করছি।
























