
নিউজ ডেস্ক : দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এনে মুজিব বর্ষে নতুন আঙ্গিকে দলকে পরিচালিত করছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। করোনা দুর্যোগে অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা, মুজিববর্ষে ব্যাপক বৃক্ষ রোপনের পাশাপাশি এবার তারা নদী রক্ষা আন্দোলনে শরীক হয়েছে। শুধু তাই নয়, কর্ণফুলি দখল ও দূষণ রোধে সরকারী সংস্থা চট্টগ্রাম বন্দরকেও তারা আহবান জানিয়েছেন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে। তাদের অভিযোগ কর্ণফুলি নদী ব্যবহার ও তদারকি কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর নিজেই নদীকে দূষণ ও অবৈধ দখলে মদদ দিচ্ছে স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্তদের। বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজ বিজ্ঞানীরা আওয়ামী লীগের এই গঠনমূলক রাজনীতিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, যে কোন গণসংগঠনের উচিত স্থানীয় মানুষের দাবী, আশা আখাংকা ও দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে সামাজিক আন্দোলনে শরীক হওয়া। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী “মুজিব শতবর্ষ২০২০” উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কর্ণফুলী ও দেশের নদনদী দখল দূষণমুক্ত করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত হয় সাম্পান মিছিল। সাম্পান শোভাযাত্রায় বক্তারা বলেন, বন্দর মোহনা থেকে হালদা মোহনা পর্যন্ত ষোল কিলোমিটার কর্ণফুলী রক্ষার দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দরের। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের খেয়ালখুশি মতো নদীর তীর ও নদী লিজ দিয়েছে। কিন্তু কর্ণফুলী ড্রেজিং ও দখলমুক্ত করেনি। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন নদী ও নৌকাকে ভাল বেসেছেন। তার জন্মশতবার্ষিকীর এই শোভাযাত্রায় একটাই দাবী দখল দূষণমুক্ত হোক। নদীর অভয়মিত্রঘাট থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, মাটি ও মানুষের নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু । তিনি সব সময় নিজেকে মাঝি কূলি মজুরের সহযোদ্ধা ভাবতেন। তাঁর এই জন্মশতবার্ষিকীতে সাম্পান মাঝিদের দাবী তাদের ঘাট ফিরিয়ে দেয়া হোক। সেই সাথে চট্টগ্রাম বন্দরকে অবশ্যই কর্ণফুলী রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানবক্তা হিসাবে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আজম নাসির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলীর মোহনায় । দখল দূষণে কর্ণফুলী গতিপথ হারালে বন্দর বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থনীতি সঞ্চালনের মতো দেশে অন্য বিকল্প বন্দর নাই। তাই কর্ণফুলী রক্ষার সকল ব্যবস্থা চট্টগ্রাম বন্দরকেই করতে হবে। শোভাযাত্রা পূর্ব আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক লায়ন দিদারুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর কারণে আমাদের এই স্বদেশ। তার জন্মশতবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ বৈচিত্র্যময় খেলাধূলার আয়োজন করেছে। সাম্পান খেলা এর অন্যতম। শোভাযাত্রায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলীউর রহমান, কর্ণফুলী গবেষক প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী। আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মশিউর রহমান, ত্রান ও সমাজ কল্যান সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো: আবু তাহের, সদস্য সাইফুদ্দিন বেলাল, হাজী মোহাম্মদ বেলাল, সাবেক কাউন্সিল হাসান মুরাদ বিপ্লব, শৈবাল দাশ সুমন প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যান সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এম পেয়ার আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি জাফর আহমদ, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, ইছানগর বাংলাবাজার সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্নদ লোকমান দয়াল, সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ, অর্থ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, আবুল হোসেন আবু ইছানগর সদরঘাট সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক ফরিদ হোসেন প্রমুখ। নগরীর অভয়মিত্র ঘাট থেকে শুরু হয়ে সাম্পান শোভাযাত্রা কর্ণফুলী ব্রিজ হয়ে পুনরায় অভয়মিত্র ঘাটে সমাপ্ত হয়। শোভাযাত্রায় দুই শতাধিক সাম্পান অংশগ্রহন করে। শনিবার বিকাল ৩টায় অভয়মিত্র ঘাটে সাম্পান খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ###























