Home ট্যুরিজম কমিউনিটি ট্যুরিজমের সম্ভাবনায় বাংলাদেশ

কমিউনিটি ট্যুরিজমের সম্ভাবনায় বাংলাদেশ

0
নিউজ ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আধুনিক কনসেপ্টগুলির মধ্যে কমিউনিটি ট্যুরিজম অন্যতম। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে নিত্য নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কয়েকটি জনপদে বিশেষ করে ভাটি অঞ্চল, নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল ও পাহাড়ী এলাকায় এর সম্ভাবনা ব্যাপক। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী জেলাগুলোতে ভ্রমণ রিপোর্টে কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিষয়টি উঠে আসে। দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে রয়েছে কমিউনিটি ট্যুরিজমের অপার সম্ভাবনা। এখানকার আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলো হলো, কলসিমুখ( রামগড়), মায়াবিনী লেক(পানছড়ি), আলুটিলা ভিউ পয়েন্ট, রিছাং ঝর্ণা, ঝুলন্ত সেতু( হর্টিকালচার পার্ক), পাহাড়ী জুম চাষ, চেংগী নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ইত্যাদি। এখানে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর বর্ণিল সংস্কৃতি হতে পারে পর্যটন খাতের উন্নয়নের চাবিকাঠি। কমিউনিটি ট্যুরিজমের মাধ্যমে জেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এ বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য জেলা পরিষদকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও ভ্রমণপিপাসুদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। খাগড়াছড়িতে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাসহ পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বসবাস। তাদের বর্ণিল সংস্কৃতি ও রীতি-নীতির প্রতি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে উঠলেও বাংলাদেশে এখনও পিছিয়ে। এর ফলে পাহাড়ে বেড়াতে আসা পর্যটকরা স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর বৈচিত্র্যময় সংস্কতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হতে পারছে না। ফলে দিনে দিনে স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন সম্ভাবনা যেমন পিছিয়ে পড়ছে তেমনি এ সমস্ত ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার সঙ্গে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরী হচ্ছে না। কমিউনিটি ট্যুরিজমের চালু হলে জেলায় পর্যটক সমাগম বাড়বে। খাগড়াছড়ি বেড়াতে এসে স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠীর জীবন-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি হলে খাগড়াছড়ি সম্পর্কে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে। এতে পর্যটকদের পাশাপাশি উপকৃত হবে স্থানীয় জনগণ। কমিউনিটি ভিত্তিক ট্যুরিজম চালু হলে পর্যটকরা বেড়াতে এসে বিভিন্ন কমিউনিটিতে অবস্থান করে একদিকে যেমন স্থানীয়দের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, পরিবেশ-প্রতিবেশ সম্পর্কে বিশদভাবে জানার সুযোগ পাবে, ঠিক তেমনি স্থানীয়রা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে – যা সম্প্রীতি রক্ষায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করবে। দেশ-বিদেশ থেকে খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসা পর্যটকগণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অবগাহনের যদি স্থানীয়দের বর্ণিল সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে একাত্ম হতে পারে, তবে নিঃসন্দেহে তা হবে তাদের জন্যে বাড়তি পাওনা। তাই কমিউনিটি ট্যুরিজম বিকশিত হলে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়ে যাবে উল্লেখযোগ্য হারে। আর পর্যটকের সংখ্যা যত বাড়বে, স্থানীয়দের জীবন যাত্রার মানে তত ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খাগড়াছড়ির পর্যটনের উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগার পিছনে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতাকে দুষছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ২০১৪ সালে স্থানীয় পর্যটনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এই খাতে কোনও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জেলা পরিষদকে মূল্যায়ন না করায় খাগড়াছড়িতে পর্যটনের উন্নয়ন হয়নি।’ তবে এক্ষেত্রে আশার বাণী শুনিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘খাগড়াছড়ির পর্যটন নিয়ে সরকারের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। কিছুদিন আগেও জেলার বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনকে নিয়ে ভার্চুয়াল সভা করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী অংশ নেন। সভায় উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, জেলায় ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে ট্যুরিজম স্পটগুলোর ওপর জরিপ চালানো হবে। জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে স্থাপনা নির্মাণ সহ উন্নয়ন কাজ হবে। কমিউনিটি ভিত্তিক ট্যুরিজম চালুর বিষয়টিও সরকারের ভাবনায় আছে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবন-মান উন্নয়নে স্থানীয়দেরকে পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে।’ তথ্যসূত্র / রেফারেন্স : অন্জন দাস/ ট্রাভেলার্স নিউজ বিডি/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here