আন্তর্জাতিক কমিউনিটি / আন্তর্জাতিক রাজনীতি/ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক / নিউজ ডেস্ক।
এবারে ফিলিস্তিনের গাজা থেকে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এত বেশী সংখ্যক রকেট ছুড়েছে তার সক্ষমতা নিয়ে ইসরাইলের সমর ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ হতে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরাও হতবাক। ইসরাইল ফাইটার বিমান দিয়ে বোম্বিং করে গাজার মত ঘনবসতিপূর্ন জনপদের নিরীহ মানুষদের মেরেছে, অনেক বিল্ডিং মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের এত বড় এস্টাবলিশমেন্টে হাজার হাজার রকেটে লাগাতার আঘাত হানা ক্ষুদ্র হামাসের পক্ষে কিভাবে সম্ভব?
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী শক্তিশালী মিশরের গোপন সহযোগিতা ছাড়া হামাসের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মিশর কেন এটা করছে? তার কি স্বার্থ? আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এর কারন হলো নীল নদ ও সুয়েজ খালের পানি। ভৌগোলিক রাজনীতিতে নদীর পানি যে নতুন সমীকরণে হিসাব নিকাশ করতে পারে তার উদাহরণ হলো মিশর, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন সংঘাত।
কি সেই নদীর পানি?
মিশরের অর্থনীতির প্রাণ হলো, নীল নদের মিঠাপানির প্রবাহ আর সুয়েজ খালের জাহাজ পারাপারের আয়। কিন্তু ইদানীং মিশরের আয়ের এই দুটি বড় উৎসকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে ইসরাইল।কিন্তু মিশর তার এই জাতীয় স্বার্থ কখনো জলাঞ্জলি দিবে না। এজন্য ইসরাইলকে সরাসরি হুমকি না দিলেও মিশর এক নতুন রাজনীতির হিসাব নিকেশ কষছে ফিলিস্তিনের হামাসকে নিয়ে। সে গোপনে হামাসকে শক্তিশালী করে ইসরাইলের উপর পরোক্ষ কিন্তু হুমকির মতই চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন ১৯৭৮ সালে মিশর ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে অনেক কিছুই ছাড় দিয়েছে। কিন্তু সেই ইসরাইল যখন এবার তার নীল নদ ও সুয়েজ খালের পানি নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে তখন সে বসে থাকতে পারে না। তথ্যমতে, ইথিওপিয়ার সুউচ্চ পর্বতমালার হ্রদ ও ঝর্ণা থেকে উৎপত্তি হয়ে নীল নদের পানির প্রবাহের বড় অংশ মিসরের উপর দিয়ে ভূমধ্যসাগরে পড়েছে। মিশরের অর্থনীতির প্রধান অবলম্বন নীল নদ। ইথিওপিয়া এ নদের উৎসমূলে ‘রেনেসাঁ বাঁধ’ নামের এক বিশাল বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করে ২০১১ সালে। মিশরের বড় ক্ষোভ হলো এই বাঁধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্থের জোগানদাতা ইসরাইল ও ইহুদি লগ্নিকারকরা। ইসরাইল এখানে বিনিয়োগে শরীক করায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও । বাঁধে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইথিওপিয়াকে সমৃদ্ধ করলেও তা মিশর ও সুদানকে নীলের ন্যায্য পানি থেকে বঞ্চিত করবে। এ জন্য মিশর বাধা না দিলেও সুদানকে সাথে নিয়ে সে চেয়েছিল ইথিওপিয়ার সাথে একটি সমঝোতা চুক্তিতে , যাতে তারা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও ইথিওপিয়াকে এতে রাজী করানো যাচ্ছে না। এজন্য মিশর ইসরাইলের গোপন কূটচালকেই কারন হিসেবে দেখছে। সমগ্র আফ্রিকার জীববৈচিত্র্য ও জীবন-জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নদের পানির ওপর নির্ভর করে এগারোটি দেশ। যেমন বুরুন্ডি, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, সুদান, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া এবং উগান্ডা। তাছাড়া মিসরের মিষ্টি পানির ৯৬ শতাংশের উৎস নীল নদ। সুদান ও মিশরের মধ্যে ১৯৫৯-এ স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির মাধ্যমে নীলের মিঠা পানির বরাদ্দ ঠিক করা হয়। এই চুক্তি অনুসারে মিশর ও সুদানকে যথাক্রমে প্রতি বছর যথাক্রমে ৫৫.৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার (বিসিএম) এবং ১৮.৫ বিসিএম পানি দেয়া হয়। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্যার সময়ে প্রধান নীল নদের পানির বেশির ভাগ অংশ ‘নাইল’ নীল এবং আটবারা হয়ে ইথিওপীয় মালভূমি থেকে আসে। ইথিওপিয়ার উপনদীগুলো নীল নদের পানি সরবরাহ করে প্রায় ৮৬ শতাংশ। ইথিওপিয়া সুদান থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে এবং আদ্দিস আবাবার উত্তর-পশ্চিমে নাইল নীল নদের উপরে গ্র্যান্ড ইথিওপীয় রেনেসাঁ বাঁধের (জিইআরডি) নির্মাণ কাজ শুরু করে ২০১১ সালে । বাঁধের জলাধারটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪০৪০ মিটার উপরে পূর্ণ সরবরাহ স্তরে ১৮৭৪ বর্গকিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে থাকবে ৭৪৪ বিসিএমের সক্রিয় জলাধার। এই বাঁধ নির্মাণে মিশরের বড় উদ্বেগ হলো, এর জলাশয় পূরণের সময়কালে নীল নদের পানি থেকে সে এর কত অংশ পাবে। ইথিওপিয়া এর মধ্যে রেনেসাঁ বাঁধ স্থাপন করে প্রথম পর্যায়ের জলাধার ভরার কাজ সম্পন্ন করার পর ইতোমধ্যে নীলের পানি প্রবাহ অনেকখানি কমে গেছে। মিশর ও সুদান দুই দেশই চেয়েছিল দ্বিতীয় দফা পানি প্রত্যাহারের আগে ইথিওপিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট চুক্তি সম্পন্ন করা। এ জন্য আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ইথিওপিয়া তাতেও রাজী নয়। এজন্য অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশ ইথিওপিয়া উল্টো মিশরকে হুমকি দিচ্ছে। এই হুমকির পেছনে যে ইসরাইল তা মিশর ভাল করেই জানে। সে বুঝতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে এতদিন আগুন নিয়ে খেলে ইসরাইল এখন পানি নিয়ে খেলতে চাইছে। এ অবস্থায় মিশর শক্তি প্রয়োগের বিষয় বিবেচনায় এনে তার প্রতিরক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনতে থাকে ।
এরই প্রেক্ষাপটে মিশরের অর্থনীতির জন্য আরেকটি ভয়ংকর বার্তা নিয়ে আনতে চায় ইসরাইল। যেমন সুয়েজ খাল থেকে মিসর প্রতি বছর পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করে। সম্প্রতি সুয়েজ খালে একটি কার্গোবাহী জাহাজ আড়াআড়িভাবে আটকা পড়লে ছয় দিনের জন্য জাহাজ পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় বিপুল জাহাজ জট। তখন সুয়েজ খালের বিকল্প একটি খাল খননের প্রস্তাব আনে ইসরাইল । সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে যৌথ উদ্যোগে সিনাই উপত্যকার পাশ দিয়ে সুয়েজের বিকল্প হিসাবে জাহাজ আসা যাওয়ার একটি খাল খননের প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় ইসরাইল। শুধু তাই নয়, সুয়েজ খালের বিকল্প হিসাবে ইসরাইলের লোহিত সাগরের বন্দর ইলাতকে ভূমধ্যসাগরে সংযুক্ত করার জন্য এই খাল খননের পরিকল্পনা করা হচ্ছে । এটা অনেক ব্যয়বহুল প্রকল্প যা ইসরাইলের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আরব আমিরাতকেও এখানে লাভজনক বিনিয়োগের টোপ দিয়েছে ইসরাইল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক শ’ মিটার উঁচু পাহাড় কেটে সিনাই উপদ্বীপের পূর্ব প্রান্তের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (১৫৫ মাইল) পূর্বদিকে খাল খনন করতে গেলে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। সুয়েজ খাল এই রুটের চেয়ে ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) ছোট এবং উচ্চতা মাত্র ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট) পর্যন্ত। মিসর সুয়েজ খালের সমান্তরালে একটি নতুন খাল নির্মাণ করতে চাইলে ইসরাইল-সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রকল্প ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশে বিদ্যমান খালটিকে প্রসারিত করতে পারে।
প্রায় ১২ শতাংশ বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্য সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে হয়। ইসরাইলের প্রস্তাবিত সুয়েজ খালের এই বিকল্প ক্যানেল মিসরীয় অর্থনীতির জন্য এক ধরনের মৃত্যু পরোয়ানার সামিল। এটা মিশর কখনো মেনে নিবে না।
অন্যদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তথাকথিত আব্রাহাম শান্তি চুক্তি আলোচনায় সৌদি আরব ও আমিরাতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উপেক্ষিত থাকে মিসর ও জর্দানের মতো প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ। এটা ইসরাইলের নতুন রাজনীতি, যা মিশর ও জর্দান মোটেই ভালোভাবে নেয়নি। সবদিক বিবেচনা করে ইরান ও তুরস্ক দুই দেশের সাথেই গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলে মিশর। ভূমধ্যসাগর প্রশ্নে গ্রিস সাইপ্রাসের সাথে থেকে তুরস্ক ও মিশরকে আটকাতে চায় ইসরাইল। এটা মিশর ও তুরস্ক পরস্পরকে আরো কাছে টানছে। ইসরাইল যেখানে মিশরের নীল নদের পানি প্রত্যাহার এবং সুয়েজ খালের বিকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সেখানে তুরস্ক ভূমধ্যসাগরের তেল গ্যাস অনুসন্ধানে সহযোগিতা দানের প্রস্তাব করেছে কায়রোকে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের হামাসকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরো শক্তিশালী করার গোপন মিশনে নেমেছে মিশর ও তুরস্ক। ইসরাইলের সামরিক বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ্যেই বলছেন, মিশরের মদদ ছাড়া হামাসের এভাবে জেগে উঠা অসম্ভব। যে ইসরাইল বছরের পর বছর গাজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে সেখানে কিভাবে হামাস হাজারে হাজারে রকেট বানায় ও আগের চেয়ে আরো বেশী দক্ষতার সাথে নিক্ষেপ করে। মিশরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি করে মিশর ইসরাইলকে একটা কড়া বার্তাই দিল যে, ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য মিশর এখনো প্রাসঙ্গিক। সংঘাত চলাকালে ফিলিস্তিনিদের শক্তিশালী রাজনৈতিক সমর্থনও দিয়েছে মিশর। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে সেনা অভিযান বন্ধ করতে এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বাইডেন এ সময় প্রথম মিসরীয় প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনে কথা বলেন। এ থেকে ইসরাইল সুস্পষ্ট বার্তা পেল যে, এ মধ্যপ্রাচ্যে মিশরের এখনো গুরুত্ব কমে নি। শান্তি চুক্তির পর হামাস শাসিত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের জন্য আল সিসি ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া মিসরীয় সরকার গাজায় সহায়তার জন্য বোঝাই করা ১৩০টি ট্রাকের একটি বিশাল সহায়তা কাফেলাও পাঠিয়েছে। চিকিৎসা পাওয়ার জন্য আহত ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের অনুমতি দিয়ে গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংটি পুনরায় চালু করেছে। এই ক্রসিংটি মিসরের সিনাই উপদ্বীপের সাথে গাজা ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপন করেছে। শুধু তাই নয় ইসরাইলের চাপ সৃষ্টির জন্য হামাসের বিষয়ে মিশরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের নিউজেও পরিবর্তনের বিষয়টিও লক্ষ্য করা যায়। বেশির ভাগ সংবাদপত্রই ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গ্রুপ এবং অন্যান্য সশস্ত্র দলকে প্রতিরোধ আন্দোলন এবং ইসরাইলকে দখলদার হিসেবে অভিহিত করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে হামাসের পক্ষে প্রচার আগে কখনো দেখা যায় নি। বিশ্লেষকরা বলছেন এসবই মিশরকে নিয়ে ইসরাইলের পানি রাজনীতির কড়া জবাব। যদিও এখানে মিশরের জাতীয় স্বার্থ বড় হলেও ফিলিস্তিনের স্বার্থও জড়িত। মিশর অনেকটা দেরীতে হলেও বুঝতে পারছে যে, ইসরাইল কথা দিয়ে কথা রাখে না। কমিটমেন্ট ভঙ্গ করে। ১৯৭৮ সালে মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে ক্যাম্প ডেভিডে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কথা। কিন্তু ইসরাইলের নানান অজুহাত ও কারসাজিতে সেটা এখনো হয় নি। ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির ফলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নির্মাণে মিশর এখনো জিম্মাদার। তাই তার প্রতিবেশী ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দায়ভার মিশর এড়াতে পারে না। এতে ব্যর্থ হলে ইতিহাস কখনো মিশরকে ক্ষমা করবে না।
সবকিছু মিলিয়ে বুঝা যায় নীল নদের পানি ও সুয়েজ খালের বাণিজ্য যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় মিশর, তেমনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেও অত্যাবশ্যক হয়ে থাকতে চায়। তার এই আঞ্চলিক রাজনীতিতে রোল প্লে করার নতুন সুযোগ ও ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে যাওয়া দুর্ধর্ষ সংগঠন হামাস।
……… স্পেশাল রিপোর্ট। সরোয়ার আমিন বাবু।
সূত্র : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত।
(আন্তর্জাতিক রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক কমিউনিটি বিষয়ক সাম্প্রতিক ইস্যুগুলো এ বিভাগে প্রকাশিত হয়।)
























