পরিবেশ প্রকৃতি/কমিউনিটি এওয়ারনেস/নিউজ ডেস্ক :
সিআরবি নতুন করে প্রাণ পেল যেন শিল্পী হাসান জাহাঙ্গীরের গানে। বহুদিন পর চট্টগ্রামবাসী তাঁর কন্ঠে মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী গানগুলো শুনে উদ্দীপ্ত হলো। শিল্পী একে একে পরিবেশন করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী সেইসব গান। আরো গাইলেন সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী এবং বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কালজয়ী কিছু গান। নাগরিক সমাজের আহবানে আমন্ত্রিত শিল্পী হাসান জাহাঙ্গীর নিজের লেখা ও সুরে শুরু করেন ‘ সকাল গেল বিকাল গেল’ এবং সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘কোটি কোটি মানুষের একটি স্লোগান’ -এই দুটি জনপ্রিয় মৌলিক গানের মাধ্যমে। এরপর তিনি একে একে পরিবেশন করেন, বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, নোঙর তোল তোল, কারার ঐ লৌহ কপাট, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, তুমি ধার্মিক হও নয় ধর্মবাজ- সহ অগণিত সব জনপ্রিয় গান। দর্শকরাও করতালিতে মুখরিত করে রাখে পুরো অনুষ্ঠান।
গানগুলো শুনে নাগরিক সমাজ,চট্টগ্রামের সদস্য সচিব এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই সব সাড়া জাগানো গানগুলো শুনে আমি অভিভূত ও আনন্দিত। তিনি শিল্পী হাসান জাহাঙ্গীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরো বলেন, সিআরবি রক্ষা আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে যেভাবে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, ছাত্র ছাত্রী,পরিবেশ কর্মী ও পেশাজীবি সহ সবাই এখানে এসে সংহতি জানাচ্ছেন তা আমাদেরকে আশাবাদী করে তুলেছে। আমরা সিআরবির পাহাড়, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা আন্দোলনে অবশ্যই সফল হবো।
শুক্রবার (২২অক্টোবর) বিকেলে সিআরবি আজকের সমাবেশে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক শিল্পী হাসান জাহাঙ্গীরের একক সংগীত পরিবেশনার পর কবি ও শিশুসাহিত্যিক তানভীর হাসান বিপ্লব সম্পাদিত যৌথ কাব্য সংকলন “সবুজ আন্দোলন ” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, শতবছরের ঐতিহাসিক সিআরবি আসাম বেংগল রেলওয়ের প্রধান কার্যালয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই সিআরবি ধ্বংস করে বাণিজ্যিক বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সিআরবিতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ১০জন শহীদের কবরস্থান রয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, সরকারি সম্পত্তি লুটপাট করতেই বেনিয়া গোষ্ঠী সিআরবিতে হাসপাতাল করতে চায়। সিআরবি রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার আপামর জনসাধারণ।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুস, অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কবি হোসাইন কবির, এডভোকেট এইস এম জিয়া উদ্দিন, শফিকুল আলম হেলাল, মিঠুল দাশ গুপ্ত, গ্রিন ক্লাবের পরিচালক সরোয়ার আমিন বাবু ও মোরশেদ চৌধুরী।
আবৃত্তি শিল্পী দিলরুবা খানমের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন ঋত্বিক নয়ন, বনবিহারী চক্রবর্তী, মাহবুব রহমান, গোলাম মুশতাক আহমেদ, হুমায়ুন কবির মাসুদ, কবি মিনু মিত্র, তাপস দে, আকরাম হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন জাফর, প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠে অংশ নেন শিশুসাহিত্যিক ইফতেখার মারুফ, কবি রাসূল বড়ুয়া, গল্পকার রুনা তাসমিনা, বিআরএফ সিদ্দিকা, নান্টু বড়ুয়া, আজিজা রুপা, সালাম সৌরভ, তানজির শিকদার, রিশাদ তানজির।
।।
























