বিশেষ প্রতিনিধি :
কাতার ও সৌদিআরবের মধ্যে জল,স্থল ও আকাশ পথ সহ সব সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে । দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের বৈরী সম্পর্ক হয়েছে স্বাভাবিক । গতকাল শেষ হওয়া Gulf Cooperation Council (GCC) সম্মেলনে উভয় দেশের মধ্যে আবারও সৌহার্দ্য পূর্ণ সম্পর্ক সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কুয়েত ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় মূলত এই দুই দেশের সীমান্ত বন্ধের সংকটের অবসান হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সিনিয়র এডভাইজার ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত জেয়ার্ড কুশনার ইতিপূর্বে এই সীমান্ত খুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।
২০১৭ সালের জুনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে মিশর,বাহরাইন ও আরব আমিরাত মিলে এক ঘোষণায় কাতারের সাথে সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলে দেশগুলো। যদিও কাতার তা অস্বীকার করে আসছে। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কাতারকে কিছু শর্তও দিয়েছিল দেশগুলো। এর অন্যতম ছিল ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন সহ কাতারের বিশ্ববিখ্যাত জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল আল- জাজিরা বন্ধ করা। কিন্তু কাতার কোন শর্তই মানে নি। বরং কাতার এ অঞ্চলের প্রভাবশালী ইরান, তুরস্কের সাথে সম্পর্ক আরো বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া তেল সম্পদ ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে কাতারের বিশাল বিনিয়োগ তাকে শক্তি যোগায়। শেষ পর্যন্ত অবস্থা বেগতিক দেখে দেশগুলো আবারও কাতারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে থাকে।
এদিকে এই সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক কমিউনিটির মাঝে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি এ নিয়ে নানান বিশ্লেষণ ও সমীকরণের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে । বিশ্বের কয়েকটি জনপ্রিয় সংবাদ মিডিয়া সূত্রে জানা যায় এটা আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ সফল ‘ ট্রাম্প কার্ড’। সূত্রে বলা হয়,
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে এই সম্পর্ক স্বাভাবিক করা জরুরি ছিল। কারন কাতার ও সৌদি আরব উভয়ই আমেরিকার বড় মিত্র। সাথে রয়েছে আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর। সবার অভিন্ন শত্রু শক্তিশালী ইরানের কারনে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে বৈরিতা আমেরিকান স্বার্থের অনুকূলে নয়। এই উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। তাই দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত জেয়ার্ড কুশনার একপ্রকার বিশেষ মিশনে নেমেছিল। কাতারের সাথে ইরান ও তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক বৃদ্ধিতে আমেরিকা ও তার মিত্র সৌদি আরবের মাঝে সন্দেহ ও উৎকন্ঠা তৈরী হতে থাকে। তাই আরেক মিত্র কুয়েতের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিককরনের প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে তারা। ইরান ও তুরস্ককে ঠেকাতে এখানে বৃহত্তর আরব জাতীয়তাবাদকে সামনে আনা হয়েছে। তবে অন্য আরেক সংবাদ বিশ্লেষণে বলা হয়, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে সৌদি আরবকে রাজি করানোর এটা একটি কৌশল হতে পারে আমেরিকান প্রশাসনের। কারন আরব আমিরাত ও বাহরাইন, ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক তৈরী করলেও সৌদি আরব এখনো করেনি। সৌদি আরব এখনো বলে আসছে ইসরাইল কর্তৃক দখলকৃত আরব ভূমি ফেরত দিলে ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাস্ট্র পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা হলেই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে।























