
কর্মদক্ষতার সনদপত্র ছাড়া বিদেশে গিয়ে কর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে। সরকারও আশানুরূপ রেমিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদেশের শ্রম বাজারে চাহিদা থাকলেও প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে অনেকের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটছেনা। এজন্য প্রত্যেককে দক্ষ হতে হবে। দক্ষতা অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশকে সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছানো যাবে। যারা এখন থেকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে সনদপত্র অর্জনের মাধ্যমে বিদেশ যাচ্ছে তারাই চাহিদার দ্বিগুন বা তিনগুন পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রমান করতে হলে অভিবাসী কর্মীদের কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। সকল কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুব সমাজকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের টেকসই ও উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে। ১৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০২০ উপলক্ষে দেশব্যাপী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের আয়োজনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এইসব কথা উল্লেখ করা হয়। এবারের অভিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ মুজিববর্ষের আহবান, দক্ষ হয়ে বিদেশ যান’’। ‘স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবারে চট্টগ্রামেও ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০২০ পালন করা হয়। এবারের আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাচিত সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রদানকারী ৩ জন কাতার প্রবাসী আবদুল কাদের, আরব আমিরাত প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুস, আরব আমিরাত প্রবাসী এক নারী অভিবাসীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান। তাছাড়া প্রবাসীর মেধাবী সন্তানদের পিএসসি, জেএসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস প্রাপ্ত সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। পিএসসি ১৪ হাজার, জেএসি ২১ হাজার, এসএসসি ২৭ হাজার ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ৩৫ হাজার টাকার ৫৭৬ জনকে চেক বিতরণ করা হয়েছে। কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষতার সাথে দীর্ঘ ২৫ বছর কাজ করে সুনাম অর্জন করায় মীর মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম নামে এক প্রবাসীকে সম্মাননা জানানো হয়। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রবাসীদের পুনর্বাসনসহ বিদেশ গমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীদের ৭শত কোটি টাকা ব্যয়ে ৪% হারে ঋন দিচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রদানকারীদের ২% হারে প্রনোদনা দিচ্ছে। পিসিআর এর মাধ্যমে প্রবাসীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সারা দেশে ৩৮ জনকে সিআইপি নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই রয়েছে ১৪ জন প্রবাসী। www.internationalemegrationday2020ctg.org.bd এ সাইডে লগইন করে অভিবাসন সংক্রান্ত সরকারি ও বেসরকারি সকল তথ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।
দেশে দেশে বাংলাদেশ কমিউনিটি। ………………………………………….
দেশে দেশে অভিবাসীদের সংখ্যাতে শীর্ষ ২০ টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৬ষ্ট। গত এক বছরের সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ৭৫ লক্ষ হলেও বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ১ কোটিরও অধিক। বাংলাদেশি অভিবাসী তাদেরই বলা হয়, যারা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে এসেছেন। তাদের প্রায় সবাই আসেন উন্নত চাকুরী, বেশী আয় ও তাদের পরিবার পরিজনকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য। ২০১৯- ২০২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ১৮.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি প্রবাসী রয়েছে সৌদি আরবে (২৫,৪২,০৮৩ জন), মালয়েশিয়া (১০,০০,০০০), যুক্তরাজ্য(৮,৯৬,২১৬), আরব আমিরাত (৭,০৬,০০০), ওমান(৬,৮২,৭০২), কাতার(৪,০০,০০০), আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র(৪,৬০,৮৯৬), কুয়েত(৩,৫০,০০০), ইটালি(২,৯৭,১০৮), সিংগাপুর (২,৯৩,৮৬৫), কানাডা(২,২৯,৪৮৬), অস্ট্রেলিয়া (২০০০৭৩), মালদ্বীপ (১,৮৪,৪৭২), বাহরাইন (১,৮০,০০০), জাপান (৪৬,৯৩৫), সাউথ কোরিয়া (৪৮,৬৪৩), স্পেন(৩৭,০৫৯), গ্রিস(৩২,০৩১), জার্মানি (১১,০৯৩), ইন্দোনেশিয়া (৮,০০০)। এছাড়াও সাউথ আফ্রিকা, মোজাম্বিক, মিশর, লিবিয়া, ইরান, ইরাক, রাশিয়া, নিউজিল্যান্ড সহ ইউরোপের অনেক দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন বাংলাদেশী প্রবাসীরা। সে সব বাংলাদেশ কমিউনিটি দিনে রাতে পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছেন।
























