KSRM
Home কমিউনিটি চট্টগ্রামের ইতিহাসে নতুন করে নাম লেখালেন খোরশেদ আলম সুজন।

চট্টগ্রামের ইতিহাসে নতুন করে নাম লেখালেন খোরশেদ আলম সুজন।

0

কমিউনিটি উন্নয়ন/সিটি কর্পোরেশন/নিউজ ডেস্ক :

রাজনীতির মঞ্চে নায়ক অনেকেই আসেন আর যান। কিন্তু সুুুপার হিট করেন শুধু একজন। হয়ে যান একাই একশ। হয়েছিলেন তিনি কয়েক মাসের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এই অল্প সময়ে এমন একটি কাজ করলেন যা তাকে দিল ইতিহাসের বরপুত্রের সম্মান। চট্টগ্রামের ইতিহাসে নতুন করে নাম লেখালেন খোরশেদ আলম সুজন। চট্টগ্রাম বন্দরের তহবিল থেকে ১% চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দিত হয়ে চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা উপরোক্ত মন্তব্যগুলো করেন। তারা বলেন, মাত্র ১% আদায় করে হয়ে গেলেন তিনি ১০০% সফল নায়ক। চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়নের জন্য ঐ ১% যথেষ্ট। চট্টগ্রামে একসময় ‘নগর শুল্ক’ ছিল। পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। এখন এটা নগর শুল্ক না হলেও বন্দর তহবিল থেকে যে ১% চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন তহবিলে জমা হবে, তা দিয়ে নগর উন্নয়নে অনেক কাজ করা যাবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে অর্থ যোগানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় থেকে ১% অর্থ সিটি কর্পোরেশনকে দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রস্তাব করেন জননেতা খোরশেদ আলম সুজন। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহে সুজনের প্রস্তাবটি মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে পাশ হয় গত ৫ এপ্রিল ২০২১। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০২১ এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে উল্লেখ আছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি নিজস্ব তহবিল থাকবে। তার ১ শতাংশ অর্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পাবে নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য। এ প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম সুজন তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ” আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক থাকাকালীন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় থেকে একটি অংশ নগরীর উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনকে বরাদ্ধ প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছিলাম এবং এ লক্ষ্যে মাননীয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর সাথেও ফলপ্রসূ আলোচনাও করেছিলাম। আজ মন্ত্রীসভার বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০২১ এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামবাসীর জন্য এক বিরাট অর্জন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। এর ফলে চট্টগ্রাম শহরের ভাল উন্নয়ন হবে । আর এভাবে স্থানীয় সরকারসমূহ স্বাবলম্বী হলে উন্নয়ন কর্মকান্ড ত্বরান্বিত হবে। আমি আশা করি কাস্টমস এবং ইপিজেড সমূহের বিষয়েও সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ” জনাব খোরশেদ আলম সুজন একটি ঐতিহাসিক ভাল কাজ করেছেন। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক থাকাকালে তাঁর প্রস্তাবনাটি সরকারের কাছে অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার উদ্বোধনকালে বানিজ্যিক রাজধানী ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরো বেশী করে অনুধাবন করে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন।”
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সাবেক  সিনিয়র সহ সভাপতি ও বিজিএমইএ নেতা এম এ সালাম বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এরফলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যে আর্থিক সমস্যা ছিল তা কাটিয়ে উঠবে এবং সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যে রাস্তা মেরামতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজগুলো করতে সক্ষম হবে। এই উন্নয়নের সুফল বন্দরও পাবে।”
এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ” সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রামবাসীর জন্য এটা অবশ্যই বড় প্রাপ্তি। তবে এই নতুন যোগ হওয়া তহবিলের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা ও মনিটরিংয়ের জন্য যেন একটা সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকে।” তিনিও সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে এই মহতী উদ্যোগের জন্য খোরশেদ আলম সুজনকে ধন্যবাদ জানান।

…….. স্পেশাল রিপোর্ট। সরোয়ার আমিন বাবু।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here