নিউজ ডেস্ক :
সামরিক শক্তিতে জাপানের পুনরুত্থানের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে। ২০২১ এ গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্সে জাপানের ৫ম স্থানে উঠে আসায় এটি আরো বেশী মাত্রা পেয়েছে। কারন গত ২০ বছরের ইনডেক্স পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জাপান ১২ থেকে ৯ ও ৭ম এবং এখন ৫ নাম্বারে উঠে এসেছে। তার মানে এই একুশ শতকে সামরিক শক্তিতে জাপান ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। তবে কয়েকজন সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকনোলজি ও স্ট্র্যাটেজী ( প্রযুক্তি ও কৌশল) দিক দিয়ে আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে জাপান সমরশক্তিতে ২য় বা ৩য় স্থানে আছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সামরিক শক্তির রেংকিং গবেষণা প্রতিষ্ঠান Global Fire Power Index গতকাল ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালের বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় এখনো ১ম স্থানে আছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। ২য় রাশিয়া, ৩য় চীন, ৪র্থ ভারত, ৫ম জাপান, ৬ষ্ট সাউথ কোরিয়া, ৭ম ফ্রান্স, ৮ম যুক্তরাজ্য, ৯ম ব্রাজিল ও ১০ম পাকিস্তান।
সামরিক শক্তিতে জাপানের এই উঠে আসার গল্পে আছে ইতিহাসের কিছু চমকপ্রদ অধ্যায়। কারন অতীতে জাপানের সামরিক উত্থান সুখকর নয়। বরং যুদ্ধের ডামাডোলে অশান্ত হয়েছিল পুরো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল পুরো প্রশান্ত মহাসাগর( প্যাসিফিক) ও ভারত মহাসাগর এলাকায়। এমনকি চীন সাগর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। দ্বীপ রাস্ট্রপুন্জ হওয়ায় জাপানের নৌবাহিনী অধিক শক্তিশালী। তাছাড়া তার বিমান বাহিনীতে আছে অত্যাধুনিক ফাইটার প্লেন, রোবটিক্স সিস্টেম, মিসাইল সিস্টেম ও হেলিকপ্টার। প্রযুক্তি ও কৌশলগত দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, জাপান আসলে চীন ও ভারত থেকেও এগিয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও ভারত ইনডেক্সে এগিয়ে রয়েছে বিশাল স্থলবাহিনীর কারনে। কারন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার এই দেশ দুটো। দীর্ঘ স্থল সীমান্তের কারনে তাদের সেনাবাহিনীর বাজেটও বেশী। তাদের তুলনায় জাপানের সেনাবাহিনী বড় না হলেও অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত দিক দিয়ে জাপান অনেক এগিয়ে। আঞ্চলিক জটিল রাজনীতির ঘটনা প্রবাহে চীন ও ভারতকে নিয়েই মনোযোগ কেন্দ্রীভূত থাকায় জাপানের পুনরুত্থানের বিষয়টি তেমন আলোচিত হচ্ছে না। তবে জাপান বরাবরের মতই বলে আসছে তার সেলফ ডিফেন্স ফোর্স তার আত্নরক্ষা, আত্নমর্যাদা ও দেশের নিরাপত্তার জন্যই নিবেদিত।
























