পরিবেশ বান্ধব সবুজ নগরীর অংগীকার। আলীউর রহমান ও মামুন চৌধুরী সংবর্ধিত।
নিউজ ডেস্ক : পরিবেশ বান্ধব সবুজ নগরী গড়ার আন্দোলন যারা কাজ করছেন তাদেরকে উৎসাহ দেওয়া উচিত। এতে তারা আরো বেশী করে পরিবেশ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে এগিয়ে আসবেন। আলীউর রহমান ও মামুন চৌধুরী সেই মহতী কাজগুলোও করে যাচ্ছেন। আলীউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মামুন চৌধুরী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাদেরকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বুধবার ২০ জানুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ইন্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে পরিকল্পিত মহানগর নিয়ে একটি সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বলা হয়, এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে স্মার্ট সিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলে ২০৩০ সালে খাতুনগঞ্জের মতো অচল নগরীতে পরিণত হবে চট্টগ্রাম। পরিবেশ সংগঠন জোট বাংলাদেশ গ্রীন অ্যালায়েন্স কর্তৃক আয়োজিত “পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত মহানগরী ও চসিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি” শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেছেন ওয়াসা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম। কী- নোট স্পিকারের বক্তব্যে প্রফেসর জাহাঙ্গীর বলেন আগামী ২০৩০ সালে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর বাস্তবায়িত হয়ে যাবে। তখন চট্টগ্রাম বন্দর গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে অপরদিকে মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প জোন হওয়ার কারণে সেখানে নতুন শহর গড়ে উঠবে। নতুন কর্ম সৃষ্টি হওয়ার কারণে সেখানে মানুষ ছুটবে। বন্দর অচল হয়ে গেলে চট্টগ্রাম বর্তমানের খাতুনগঞ্জ এর মত পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হবে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী এখন কমায় চলে গেছে। শাসন খনন করে কর্ণফুলীর গভীরতা বৃদ্ধি করে বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি না করলে মাতারবাড়ীর সাথে প্রতিযোগিতায় হেরে যাবে বন্দর।
বক্তারা আরো বলেন, বিগত ৩০ বছরে পরিকল্পিত মহানগরী গড়তে সুদুরপ্রসারি কোন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেয়র প্রার্থীদের কাছ থেকে আসেনি তা বাস্তবায়ন হবে কিভাবে।
সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরাও এ স্বপ্ন পূরণের কথা বলেন, প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বিজয়ী হওয়ার পর উবে যায় নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি। ফলে পরিকল্পিত নগর স্বপ্নই থেকে গেছে।
সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি আবসার মাহফুজের সভাপতিত্বে ও সমন্বয়ক সরোয়ার আমিন বাবুর সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রো ভিসি (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, সিনিয়র সাংবাদিক জসিম চৌধুরী সবুজ, কর্ণফুলী গবেষক প্রফেসর ডঃ ইদ্রিস আলী, পরিবেশ সংগঠক রেবা বড়ুয়া ও শাহেলা আবেদীন, সাদার্ন মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিএমএ সদস্য ডা.হোসেন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার এমডি রাশেদ আলম, অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ, অধ্যাপক মনোজ কুমার দেব , যুবনেতা ও ক্রীড়া সংগঠক ওহিদুল আলম শিমুল, এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার , ব্যবসায়ী নেছার আহমেদ খান, সেভক এর সভাপতি মোহাম্মদ শাহাজাহান, কর্ণফূলী নদীর সাম্পান মাঝির সভাপতি পেয়ার আহমদ, সাংবাদিক ও কৃষক পরিবার সভাপতি কামাল হোসেন , কমার্স কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি সাব্বির চৌধুরী, নগর ছাত্রলীগ নেতা এহসান কুতবী, ব্যবসায়ী ওবি রুচী, বিশিস্ট সমাজ সেবক সাহেদ সিদ্দিকী, যুব ক্রীকেটের সহকারি কোচ মো: বশার, যুব নেতা জাবেদ চৌধুরী প্রমুখ।
সেমিনারে বাংলাদেশ গ্রীন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ এর মহাসচিব আলীউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং এবং গ্রীন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ এর সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।
সেমিনারে আধুনিক নগর গড়তে দশ দফা সুপারিশ প্রদান করা হয়।
১। মহানগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি অনুপাতে নতুন আবাসন এলাকা সৃষ্টি। এক্ষেত্রে সিডিএ, জেলা প্রশাসন ও চসিককে একসাথে কাজ করতে হবে।
২। পরিচ্ছন্ন যানজটমুক্ত সড়ক যোগাযোগ।
৩। নিয়মিত নালা নর্দমা পরিস্কার ও মশা নিধন।
৪। নগরীর ফুটপাতে উন্মুক্ত হকার, রিক্সা ভ্যান ঠেলাগাড়ি নিযন্ত্রণ। ঠেলাগাড়ি রিকশাচালক হকারদের লাইসেন্সিং এর আওতায় এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৫। নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ।
৬। শিক্ষা জোন, হাসপাতাল জোন সৃষ্টিসহ নগরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি পূর্ণ হয় এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন দোকানপাট ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসপ, স্টিল আলমারী, ফার্নিচারের দোকান কারখানা, লাইভস্টক জবাই বিক্রি ইত্যাদির জন্য সুনির্দিষ্ট জোন তৈরি করা।
৭। হোটেল দোকানপাট অন্যান্য স্থানের খাদ্যসামগ্রীর শতভাগ মান (ফুড সিকিউরিটি) সুনিশ্চিতকরণ।
৮। প্রতিনিয়ত শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন ও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
৯। মহানগরীর প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় পাহাড়, উন্মুক্ত স্থান, জলাশয়, খাল নদী সংরক্ষণ।
১০। নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সুনিশ্চিত, পর্যাপ্ত করন ও সুয়ারেজ প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে নালা নর্দমা পরিষ্কার রাখা।





















