KSRM
Home ইয়ং কমিউনিটি জেসিআই। তারুণ্যের শক্তি আর সৃজনশীলতায় পরিপূর্ণ একটি কমিউনিটি প্লাটফর্ম।

জেসিআই। তারুণ্যের শক্তি আর সৃজনশীলতায় পরিপূর্ণ একটি কমিউনিটি প্লাটফর্ম।

0

ইয়ং কমিউনিটি / স্পেশাল রিপোর্ট।

” তারুণ্যের অবক্ষয় নয়, তারুণ্যের বিকাশ চাই”- এ স্লোগান একসময় বেশ শুনা যেত ক্যাম্পাসের মিটিং ও মিছিলে । চিকা লেখা হত রাজপথের দেয়ালে দেয়ালে। কিন্তু সেটা ছিল সেইটুকুই। গালভরা বক্তব্য আর রাজপথ কাঁপানো স্লোগানেই সীমাবদ্ধ ছিল সেগুলো। কিন্তু এখন যুগ পাল্টিয়েছে। সময় বদলে দিয়েছে অনেককিছুই। পাল্টিয়েছে তরুণদের স্বপ্ন দেখার স্টাইলও। এখন শুধু কথা আর স্লোগানে বিশ্বাসী নয় তরুণরা। তারা কাজে বিশ্বাসী। কবি সুকান্তের কন্ঠে তারা বলে, এখন কঠিন কঠোর গদ্য আনো। শিল্পী ভুপেন হাজারিকার গানে সুর মিলিয়ে  সুর তুলে তারা, আজ জীবন খুঁজে পাবি, ছুটে ছুটে আয়। তাঁরা ছুটে এসেছে প্রবল বেগে। এক সমৃদ্ধ আলোকিত জীবনের সন্ধানে। গড়ে তুলেছে তরুণ উদ্যোক্তা ও নবীন ব্যবসায়ীদের একটি প্লাটফর্ম। নাম জেসিআই। জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল। এ যেন একরাশ স্বপ্ন আর একবুক সাধনার ফসল। কর্ম,সৃষ্টি আর সমৃদ্ধির ত্রিমাত্রিক বুনন। তাঁদের এগিয়ে চলার গল্পগুলো শুনা গেল সেদিন চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু এর আলো ঝলমলে মোহনা হলে। ডিজিটাল স্ক্রিনের বিশাল পর্দায় সেই স্বপ্ন জাগানিয়ার কথাই বললেন জেসিআই এর প্রতিষ্ঠাতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। তিনি বললেন, যাত্রা শুরু আট বছর আগে। চট্টগ্রামের একঝাঁক তরুণদের নিয়ে ব্যবসা, শিল্প ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রয়াসে। আমাদের এই মহতী উদ্যোগে আমরা সেদিন পেয়েছিলাম অনেক সম্ভাবনাময় নবীন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের। যারা পরবর্তীতে ঠিকই সাফল্যের পথ রচনা করেছিল। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁরা আজ একেকজন যেন একেকটি শক্তি। সেই যাত্রা এখনো ধাবমান। তিনি আরো বলেন,আজ থেকে আট বছর আগে আমরা এ জুনিয়র চেম্বার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি বলেই আজ আমরা এতসব ইয়াং লিডার পেয়েছি। এই তরুণ কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়াও শিখেছি কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়, কিভাবে মাউথপিসের সামনে কথা বলতে হয়। এ জুনিয়র চেম্বারের কারণে আমি টিমওয়ার্ক এর মাধ্যমে নিজেকে গড়তে পেরেছি। জেসিআই এগিয়ে চলেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত বাংলাদেশের ভিশন ও মিশন বাস্তবায়নে। ২৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার রাতে রেডিসনে জেসিআই চট্টগ্রাম কসমোপলিটন আয়োজিত এই ‘চেইন হ্যান্ডওভার সিরোমনি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সবাইকে উৎসাহ দেন। বললেন, জাস্ট ইউ হ্যাভ টু কিপ দ্যা রেস, ইউ হ্যাভ টু ডিটারমাইন্ড এন্ড ইউ হ্যাভ টু গো এহিড। আমাদের দেশের তরুণরা স্বপ্ন দেখছে। সেই স্বপ্ন পূরণে নেতৃত্ব সৃষ্টি করছে। নির্মাণ করছে উন্নত জাতির বুনিয়াদ। আমাদের তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।তবেই তারা আরো সাহস পাবে, শক্তি পাবে।
জেসিআই’র তরুণ উদ্যেক্তাদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, এই শহরের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে কর্ণফুলী নদী। যে নদীর মোহনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম বন্দর। আছে সুবিশাল সম্ভাবনাময় ব্লু ইকনমির বঙ্গোপসাগর। পাহাড়,বনজ, সমুদ্র ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই চট্টগ্রাম । চট্টগ্রাম পথ দেখায় সমগ্র বাংলাদেশকে। তাই এমন একটি সমৃদ্ধ জনপদে আপনারা গড়ে তুলেছেন তরুণদের সৃষ্টিশীল প্লাটফর্ম। এখানে সৃষ্টি হবে আগামীর শিল্পপতি। আপনাদের এই প্লাটফর্ম নতুন করে পথ দেখাবে বাংলাদেশকে। এগিয়ে যান আপনারা।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে জেসিআই’র পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন নতুন কমিটির সভাপতি মো. টিপু সুলতান শিকদার।
জেসিআই চট্টগ্রাম কসমোপলিটনের সভাপতি টিপু সুলতান সিকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেসিআই বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ উন নবী প্রিন্স ও চট্টগ্রামের সদ্য বিদায়ী সভাপতি শহীদুল মোস্তাফা চৌধুরী মিজান।
অনুষ্ঠানে জেসিআই চট্টগ্রাম কসমোপলিটনের সাবেক সভাপতি রইসুল উদ্দিন সৈকত, জসিম আহমেদ, মো. গিয়াস উদ্দিন, মাশফিক আহমেদ রুশাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিদায়ী ও নতুন সভাপতি। জেসিআই চট্টগ্রাম কসমোপলিটনের বিদায়ী সভাপতি শহীদুল মোস্তফা চৌধুরী মিজান চেইন হস্তান্তর করেন জেসিআই চট্টগ্রাম কসমোপলিটনের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. টিপু সুলতান সিকদারকে। স্মিতা চৌধুরীর ইংরেজি ও বাংলা মেশানো স্মার্ট উপস্থাপনা অনুষ্ঠানকে আরো প্রাঞ্জল করে তোলে। নগরীর বিশিষ্ট নাগরিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি এবং তাদেরকে সম্মানজনক আপ্যায়নে জেসিআই এর আন্তরিকতা মুগ্ধ করে সবাইকে। শেষের দিকের ব্যান্ডের গান আর সুরের মূর্ছনা নতুন প্রানে উজ্জীবিত করে যেন জেসিআইকে।
….. স্পেশাল রিপোর্ট।
সরোয়ার আমিন বাবু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here