কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার / নিউজ ডেস্ক।
শুধু বানিজ্য নয়,থাকতে হবে মানবিকতাও। থাকতে হবে বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য জনকল্যাণ বা কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার। থাকতে হবে সামাজিক দায়বদ্ধতা। কর্পোরেট দুনিয়ায় একে বলা হয় সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি। এটা শুধু কোন কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য নয়। এটা যে কোন বানিজ্যিক মার্কেট বা শপিং মলও যে করতে পারে তার উদাহরণ সৃষ্টি করল চট্টগ্রামের খুলশী মার্ট। ১৫ বছর পূর্তিতে মানবিক সংগঠনের জন্য বড় অংকের অর্থ সংস্থান করে মানবিকতার অনন্য উদাহারণ সৃষ্টি করল চট্টগ্রামের এই আাধুনিক সুপারশপ । টুগেদার ফর হিউমিনিটি শিরোনামে ১০ দিন ব্যাপি পরিচালিত মানবিক কার্যক্রমে প্রাপ্ত অনুদানের চেক তিনটি মানবিক সংগঠনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সংগঠনগুলো হলো বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, আল মানাহিল এবং জাগো ফাউন্ডেশন। খুলশি মার্টে আয়োজিত এক অনাঢ়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিন মানবিক সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে প্রাপ্ত অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারী থেকে ২০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ১০ দিন ব্যাপী খুলশী মার্ট থেকে শপিং করার মাধ্যমে এই মানবিক উদ্যোগ পরিচালিত হয়। এতে খুলশি মার্ট থেকে শপিং করে ৫% ডিসকাউন্টের সমপরিমাণ নগদ অর্থ ক্রেতারা তিনটি মানবিক সংগঠনকে অনুদান হিসেবে দান করেন। এছাড়া ক্রেতাদের অর্থের সাথে আরো ৫০% নগদ অর্থ খুলশি মার্ট কর্তৃপক্ষ তিন মানবিক সংগঠনকে প্রদান করেছে।
খুলশী মার্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাখের হোসাইন জানান, এবার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সিইও সরফরাজ আলীর বিশেষ উদ্যোগে ‘টুগেদার ফর হিউমিনিটি’ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই মিলে মানবিক উদ্যোগে সহযোগী হওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। টুগেদার ফর হিউমিনিটি কার্যক্রমে খুলশি মার্ট থেকে শপিং করলে ক্রেতাদের ৫% ডিসকাউন্ট দিয়ে সমপরিমাণ নগদ অর্থ তিনটি মানবিক সংগঠনকে অনুদান হিসেবে দান করার সুযোগ দেয়া হয়। এই কার্যক্রমে ১০ দিনে ক্রেতাদের শপিং-এর বিপরীতে বড় অংকের অর্থসহায়তা জমা হয়। এই অর্থের সাথে খুলশি মার্ট কর্তৃপক্ষ আরো ৫০% হিসেবে অর্থ যোগকরে তিনটি মানবিক সংগঠনকে হস্তান্তর করে। ব্যতিক্রমি মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে বঞ্চিত অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য খুলশী মার্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, আল মানাহিল এবং জাগো ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
খুলশী মার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলশানা আলী বলেন, খুলশী মার্টের সাথে একাত্ব থেকে সকল দেশী-বিদেশী ভোক্তা, সরবরাহকারী এবং সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী খুলশী মার্টকে সামগ্রীকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবসা করছে না। সবসময় জনকল্যাণ এবং মানবিক কার্যক্রমে খুলশী মার্ট কার্যকর ভুমিকা রাখছে এবং আগামীতেও এমন কার্যক্রম চলমান রাখবে।
এদিকে খুলশী মার্টের এমন মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন কমিউনিটি, পেশাজীবি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমদ হোসাইন বলেন, এটি একটি মহৎ কাজ। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মলগুলো নিলে সমাজের অসহায় মানুষরা উপকৃত হবে। শুধু বানিজ্য নয়, সমাজের পশ্চাৎপদ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।





















