আন্তর্জাতিক কমিউনিটি/কমিউনিটি কালচার/ নিউজ ডেস্ক :
ইংরেজি ভাষাই এখন পৃথিবীর সব কমিউনিটির মাঝে সবচেয়ে বেশী প্রভাব বিস্তার করছে। এখনো পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ইংরেজি ভাষাই শক্তিশালী ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থার জরীপে দেখা যায়, জনসংখ্যার অনুপাতে ভাষার ক্ষমতা নির্ধারণ হয় না। ভাষার ক্ষমতা নির্ধারণ হয় সব জাতিগোষ্ঠীর মাঝে সহজে আত্তীকরণের মাধ্যমে। তার মানে যে কোন জনপদে বা কমিউনিটির মাঝে ভাষাটি সহজে ঢুকে পড়ার সক্ষমতা। ব্রিটিশ বা ইংরেজরা একসময় পৃথিবীব্যাপী এজন্যই সহজে বিচরণ করতে পেরেছে। গবেষণায় আরো বলা হচ্ছে, চীনের জনসংখ্যা বেশী হলেও এ শতাব্দীতে ম্যান্ডারিন(চীনাদের ভাষা) ভাষার চেয়ে ইংরেজিই প্রভাব বিস্তারে এগিয়ে থাকবে। ইনসেড ইনোভেশন এবং পলিসি ইনিশিয়েটিভের বিশিষ্ট ফেলো আবুধাবি-ভিত্তিক গবেষক কাই চ্যান ভাষার শক্তি পরীক্ষা গবেষণায় বলেন, পাঁচটি সূচক ভাষার দক্ষতা ও ক্ষমতা নির্ধারণ করে থাকে।
যেমন, প্রথমত ভৌগোলিক ক্ষমতা।
ভাষার ভ্রমণের ক্ষমতা থাকতে হবে। বিভিন্ন দেশ, কমিউনিটি ও জনপদে সহজেই মিশে যাওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে এবং সেই কমিউনিটির ভাষা সহজে আয়ত্নকরনের দক্ষতা থাকা চাই।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের ক্ষমতা। এরপর রয়েছে, যোগাযোগ বা সংলাপে নিয়োজিত হওয়ার ক্ষমতা। চতুর্থত, জ্ঞান এবং প্রচার মাধ্যমে থাকার ক্ষমতা। পঞ্চমত, কূটনীতি বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার ক্ষমতা।
এসব সূচকের উপর ভিত্তি করে ইংরেজিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা। এর পরেই রয়েছে ম্যান্ডারিন, ফরাসি, স্প্যানিশ এবং আরবি ভাষা। গবেষণায় আরো বলা হচ্ছে, চীনের বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম কারন হলো তারা নিজেরাও ইংরেজি ভাষাকে সহজে গ্রহন করতে পেরেছে।
ইংরেজি এখন শুধুমাত্র ইংরেজদের ভাষা নয়, এটি এখন আন্তর্জাতিক ভাষা। গ্রেট বৃটেন সহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কয়েকটি দেশের রাস্ট্রীয় ভাষা ইংরেজি। জাতিসংঘের প্রধান ভাষাও ইংরেজি। এমনকি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের সব কমিউনিটির মাঝে ইংরেজির সহজ ব্যবহার রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ওবায়দুল করিম বলেন, ‘ভাষা মানুষকে অন্য প্রাণীদের চেয়ে পৃথক করে।এই কারণে মানুষ অর্থনৈতিক প্রাণী। ভাষা, উৎপাদনের উপায়। উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত তার, যার উৎপাদনের উপায়ও উন্নত। শুধু প্রযুক্তি নয়, ভাষাও উন্নত হতে হয়, অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত হওয়ার জন্য। ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর ভাষা দিয়ে, উন্নত সমাজ নির্মাণ করা যায়না। কারণ, ভাষার শক্তি। সুতরাং, অর্থনীতিক ব্যবস্থার উন্নয়নে, উৎপাদনের উপায় হিসেবে, ভাষার প্রচলন ও ব্যবহারের শক্তি বাড়ানো দরকার। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মহান ২১ ফেব্রুয়ারী উপলক্ষ্যে আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষার শক্তিবৃদ্ধির জন্য , সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন করা দরকার। বাংলা ভাষার ব্যবহার ও চর্চা বাড়লে ইংরেজি ভাষার মত একসময় বাংলা ভাষাও শক্তিশালী হবে।
























