KSRM
Home ইন্টারন্যাশনাল রোনালদোর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ম্যানচেস্টার

রোনালদোর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ম্যানচেস্টার

0

স্পোর্টস/ইয়ং কমিউনিটি/তারুণ্য/নিউজ ডেস্ক:

সম্প্রতি শেষ হওয়া প্রি-সিজন ট্রান্সফারে শেষ মুহুর্তের নাটকীয় চমক রোনালদোর ম্যানচেস্টারে আগমন। ৪ ঘন্টার ব্যবধানে ম্যানচেস্টার সিটি’র হতে যাওয়া রোনালদো হয়ে গেলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্লেয়ার।

গার্ডিওলা- জুভেন্টাস বুঝাপড়া হয় নি এমনটা শিরোনাম হলেও এ ঘটনায় পর্দার আড়ালে ভালোই কলকাঠি নেড়েছেন স্যার অ্যালেক্স ফারগুসন ও ব্রুনো ফার্নান্দেস। রোনালদোর জাতীয় দলের সতীর্থ ব্রুনো সিআর-সেভেন এজেন্ট সেজে তুরিনে গিয়েছেন বলেও দাবি ওঠেছে।আর রোনালদোর গুরু অ্যালেক্স ফারগুসন এবং সাবেক ক্লাব সতীর্থ রিও ফার্দিনান্দ শেষ মুহুর্ত অবধি যোগাযোগ করে আসছিলেন রোনালদোকে ম্যান সিটি’র পথ হতে ওল্ড ট্রাফোর্ডের পথে ফেরাতে।রোনালদোর পর্তুগীজ এজেন্ট জর্জে মেন্ডিসের অবদান ও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। শেষ পর্যন্ত তারাই সফল হয়েছে আর এই প্রত্যাবর্তনে চোখ কপালে ওঠেছে ম্যান সিটি বস পেপ গার্দিওয়ালা’র।

এই দলবদলে আনন্দিত রোনালদো নিজেও।নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন  আবার নতুনভাবে সব শিরোপা জয় করার ইচ্ছে। এক বার্তায় তিনি বলেছেন “আমি ম্যানচেস্টারে ছুটি কাটাতে আসি নি,শিরোপা জেতার জন্যই এসেছি”।গুরু অ্যালেক্স ফারগুসনকেও ধন্যবাদ জানাতে ভুলেন নি পাঁচ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এ ফুটবলার। মুলত অ্যালেক্স ফারগুসনের শৈল্পিক হাতেই গড়ে ওঠেছে রোনালদো নামের এই কিংবদন্তি।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে রোনালদো জিতেছেন সবকটি মেজর ট্রপি।ওল্ড ট্রাফোর্ডে যোগদানের শুরুতেই জিতেন এফ এ কাপ (২০০৩-০৪)
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সেরা লীগ টাইটেল – ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ জিতেছেন টানা তিন মৌসুম (২০০৬-০৭, ২০০৭-০৮ এবং ২০০৮-০৯)  ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ ও জিতেছেন ২০০৮ মৌসুমে। সে বছর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর ও জিতেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার। জিতারই তো কথা,একই মৌসুমে যে জয় করেছেন লীগ টাইটেল,উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ আর ক্লাব বিশ্বকাপ।

ডেভিড ব্যাকহামের পর ইউনাইটেডের নির্ভরযোগ্য নাম্বার সেভেন হয়ে ওঠেছিলেন রোনালদো। ম্যানচেস্টারের হয়ে দলগত ও ব্যক্তিগত সব অর্জন করে রোনালদো ২০০৯ সালে পাড়ি জমান মাদ্রিদে।সেখানেও করেছেন রাজত্ব, লা-লীগায় ২৯২ ম্যাচ খেলে করেছেন ৩১১ গোল।স্পেনের এই ক্লাবটির হয়ে ৪৩৮ ম্যাচে করেছেন টোটাল ৪৫০ গোল। যেখানে তাঁর ম্যাচ প্রতি গোল দাঁড়ায় ১.০৩।এটি ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোল। রোনালদো ম্যানচেস্টার থেকে মাদ্রিদে এসেছিলেন সব ধরনের ক্লাব ট্রফির স্বাদ গ্রহন করে।আর এখন মাদ্রিদ থেকে তুরিন হয়ে ম্যানচেস্টারে ফিরছেন বিশ্বসেরা হয়ে।

বর্তমানে রোনালদো ১৩৪ গোল নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ১১১ গোল নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল (পুরুষ)  ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ১৪ গোল করে দখল করে আছেন ইউরো’র সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব। ২০১৬ সালে এই রোনালদোর ওপর ভর করেই ফ্রান্সকে ফাইনালে হারিয়ে ইউরো জিতেছিলো পর্তুগাল।

২০১৮-২০২১ অধ্যায়ে জুভেন্টাসে করেছেন ১০১ গোল।বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ডিফেন্ডিং লীগ বলে খ্যাত এই সিরি-আ তে প্রতি মৌসুমে অনায়াসে করেছেন ৩০-৩৫ টি করে  গোল।১৩৪ ম্যাচে করেছেন ১০১ গোল এবং জুভেন্টাসের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড ও সিআর-সেভেনের।২০১৯-২০ মৌসুমে এই ডিপেন্সিভ লীগে ৩৭ গোল করে কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
যে বয়সে রোনালদো নাজারিও কিংবা কিংবদন্তি রোনালদিনহো অবসরে গিয়েছেন,যে বয়সে জাভি কোচিং করাচ্ছেন কিংবা ইনিয়েস্তা খেলছেন কাতারের ক্লাবে, সে বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে সেরা লীগে যোগ দিলেন রোনালদো।

সবশেষ ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়নস লীগ জিতেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, তাও আবার সেই রোনালদোর হাত ধরেই।সবশেষ ২০১৫-১৬ মৌসুমে এফ এ কাপ জিতেছে ম্যান ইউ এবং লীগ শিরোপা ঘরে তুলেছিলো ২০১২-১৩ মৌসুমে। এখন দেখার বিষয় রোনালদোর আগমন কেমন প্রভাব ফেলে ম্যানচেস্টারের এই শিরোপা খরা কাটাতে।
টাকা-কড়ির হিসেবে অবশ্য প্রভাব টা ভালোভাবেই উপভোগ করছে ম্যানচেস্টার। রোনালদোকে তারা যে দামে জুভেন্টাস থেকে এনেছে তার দ্বিগুন অর্থ জার্সি বিক্রির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই তুলে নিয়েছে।

ধারনা করা হচ্ছে ১১ ই সেপ্টেম্বর নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ম্যানচেস্টারে রোনালদোর দ্বিতীয় পর্যায়। এই নিউক্যাসলের সাথে ম্যাচ দিয়েই ওল্ড ট্রাফোর্ডে ২০০৩ সালের ১৬ আগষ্ট অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর।

-রাকিবুল হাসান জুবাইর
স্পোর্টস রিপোর্টার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here