KSRM
Home ইয়ং কমিউনিটি মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির অনলাইন এন্টারপ্রিনিয়ার্স। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নসারথি

মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির অনলাইন এন্টারপ্রিনিয়ার্স। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নসারথি

0

হাইটেক কমিউনিটি /বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি /তথ্য প্রযুক্তি /
স্পেশাল রিপোর্ট।

” জাগো নারী জাগো বহ্নি- শিখা” – নারী জাগরণ নিয়ে  কবি নজরুলের এই আহবান  প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে যুগে যুগে। তবে শুধু নারী জাগরণ নয়,সময়ের প্রেক্ষিতে তা বাস্তব হয়ে উঠছে নারী পুরুষ সবার সম্মিলিত  সাহসী উদ্যোগে। নেতৃত্বে নারী থাকলেও এই মহতী উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে একঝাঁক তরুণ তরুণী। তথ্যপ্রযুক্তির সদ্ব্যাবহারে  নিত্য নতুন আইডিয়া আর কর্ম উদ্দীপনায় বদলে দিচ্ছে চিরায়ত সমাজ কাঠামো। হয়ে উঠছে আত্মকর্মসংস্থানমুখী এক দক্ষ মানবসম্পদ। গড়ে উঠছে ডিজিটাল সোসাইটি।  অনলাইন দুনিয়ায় দাপিয়ে  তারা হয়ে উঠছে হাইটেক প্রযুক্তি নির্ভর এক কমিউনিটি। যাদের মেধা,মনন ও প্রজ্ঞায় উদ্ভাসিত হচ্ছে এক নতুন বাংলাদেশ।
ডিজিটাল বাংলাদেশের সেই স্বপ্ন সারথি মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির বাংলাদেশ  অনলাইন এন্টারপ্রিনিয়ার্স এসোসিয়েশন। এটি শুধু এখন একটি সংগঠন নয়, বরং হাজারো তরুণ তরুণীর কর্মচান্চল্য, কর্ম উদ্দীপনাপূর্ণ ও সৃজনশীলতায় ভরপুর  একটি প্লাটফর্ম।
এক সাক্ষাৎকারে মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশকে একটি উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরে। তাই বাংলাদেশ অনলাইন এন্টারপ্রিনিয়ার্স এসোসিয়েশন এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছোট ও মাঝারি  ব্যবসায়ীদেরকে তথ্য  প্রযুক্তিতে দক্ষ করে  ই-বিজনেস ও ডিজিটাল মার্কেটিং এ উৎসাহিত করছি। ইন্টারনেট দুনিয়া আমাদের সামনে যে অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা আমাদের প্রয়োজন। এখন পুরো পৃথিবীতে  আমাদের মার্কেট ইকনমি।


প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে চায় এবং সে অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।  বাংলাদেশ ইতোমধ্যে  সেই সক্ষমতা অর্জন করে  চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ব্লক চেইন, আইওটি, ন্যানো টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, রোবটিকস, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মত ক্ষেত্রগুলোতে জোর দিচ্ছে । স্টার্ট আপকে উৎসাহিত করছে এবং নিত্য নতুন উদ্ভাবনের পথকে প্রশস্ত করছে।
এই শিল্প বিপ্লবে শরীক হতে আমাদের সংগঠন হাইটেক কমিউনিটির একটি আদর্শ  প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীলতা তথা স্টার্টআপে  ক্ষমতায়ন  করে তুলছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ ও নারায়নগন্জের  পর চট্টগ্রামে সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার  আয়োজন করেছে।
গত ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বেস্ট ওয়েস্ট এলায়েন্স হোটেল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত তরুণ উদ্যোক্তাদের এই সমাবেশে  মাননীয় সিটি মেয়র মো.রেজাউল করিম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সবাইকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। চট্টগ্রামের আধুনিক প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বাংলাদেশ অনলাইন এন্টারপ্রিনিয়ার্স এসোসিয়েশন  কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশে সাউথ আফ্রিকার অনারারি কনসাল সোলাইমান আলম শেঠ আমাদেরকে খাগড়াছড়ি সহ বাংলাদেশের পশ্চাৎপদ জনপদে এধরণের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মোটিভেশনাল কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও এসোসিয়েটেড প্রেস(এপি) এর ব্যুরো প্রধান জুলহাস আলম, বিশিষ্ট কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব তানভীর শাহরিয়ার রিমন সহ উইমেন চেম্বারের  নারী উদ্যোক্তাগন আমাদেরকে তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে উৎসাহিত করেছেন।

প্রোগ্রামের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন আমাদের আশা ভরসার ঠিকানা, বিশিষ্ট রাজনীতিক, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠান পেয়েছিল নতুন প্রাণ এবং আমরা পেয়েছি এগিয়ে যাওয়ার সাহস।

ই-বিজনেস বিষয়ে জয় বাংলা এওয়ার্ড প্রাপ্ত আরাফাতুল ইসলাম আকিব, তরুণ  উদ্যোক্তা নিজাম উদ্দিন গোফরান, অনিক বড়ুয়া সহ যারা ডিসকাশন মিটিং এ সহযোগিতায় ছিলেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি আরো বলেন, বন্দরনগরী চট্রগ্রামে প্রথম বারের মতো ২০০ জন আইডিয়াবাজ তরুণ-তরুণী ও উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়ে সফলভাবে আয়োজন করেছিল এই  ” রোড টু সাসটেইনেবল ই-বিজনেস ২০২২ ”  প্রোগ্রাম । দিনব্যাপী কর্মশালায় হাতে-কলমে শেখানো হয়েছে কিভাবে একটা আইডিয়া থেকে বিশ্ব পরিবর্তন ও বিলিয়ন ডলারের বিজনেস এ রূপ দেওয়া যায় । এসব প্রোগ্রামের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, তরুণ প্রজন্মকে মোটিভেশানাল বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিতকে মজবুত করা। আউটসোর্সিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট, এপস তৈরী, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, ভার্চুয়াল নলেজ, ই- ব্যাংকিং, ই-কমার্স, স্মার্ট  মোবাইল প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে মোটিভেট করে  তাদেরকে ডিজিটাল জেনারেশনে রূপান্তর করা।

তিনি  বলেন, পৃথিবীতে এখন  বহু প্রযুক্তির এক ফিউশনে ভৌতজগৎ ও ডিজিটাল-জগৎ এবং  জীবজগৎ পরস্পরের মধ্যে লীন হয়ে যাচ্ছে। মানুষ এখন গনিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির  চরম উৎকর্ষতায় আরো উন্নত মানব তথা সুপার হিউম্যান হয়ে উঠছে। যে জাতি  যতবেশি এসব ধারণ করবে সে জাতি পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিবে। জনবহুল এই বাংলাদেশে এই সেক্টরে বিশাল জনশক্তি গড়ার এখনই সময়।
তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ অনলাইন এন্টারপ্রিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের এই কর্মসূচিগুলো অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি বলেন, দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার  ইতোমধ্যে  বিশ্বমানের ৩৯টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করেছে। এসব পার্কে যথেষ্ট কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন হবে।এসব পার্কে বিনিয়োগে কর অব্যাহতি, বিদেশিদের জন্য শতভাগ মালিকানার নিশ্চয়তা, আয়কর অব্যাহতিসহ নানা সুযোগ রাখা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক ধরণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসবই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ইতিবাচক দিক।
স্টার্টআপদের জন্য বিশাল সুযোগ রয়েছে এই অনলাইন সেক্টরে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। তেমনি একটি জাতি একটি দেশেরও স্বপ্ন থাকা উচিত।  উন্নয়নের মহাসড়কে ছুটে  যেতে স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে সমন্বয় করে কাজ করে যেতে হবে আমাদের । অপার সম্ভাবনাময় ডিজিটাল দুনিয়া আমাদের জন্য সেই আলো ঝলমলে  দ্বার উন্মোচিত করে রেখেছে। সেই অর্থে বাংলাদেশ অনলাইন এন্টারপ্রিনিয়ার্স এসোসিয়েশন আলোকিত  ডিজিটাল বাংলাদেশরই স্বপ্ন সারথি।

……………….
স্পেশাল রিপোর্ট।
সরোয়ার আমিন বাবু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here