
নিউজ ডেস্ক : আজ ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ দিবস। ঢাকাস্থ জাতিসংঘ তথ্য অফিসেও এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় সামাজিক, মানবাধিকার, উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও জাতিসংঘ দিবসে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছে ।
জাতিসংঘ নিয়ে কিছু কথা : ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ অক্টোবর বর্তমান জাতিসংঘের জন্ম। তারপূর্বে বিশ্বের জাতিসমূহ ভাতৃবন্ধনে আবদ্ধ এবং শান্তি ও মৈত্রী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে যে “League of Nations” এর গোড়াপত্তন করেছিল তাই পরবর্তীতে ক্রমবিকাশের মাধ্যমেই মহীরুহ হয়ে আজকের জাতিসংঘ বা United Nations। জাতিসংঘের অপর নাম রাষ্ট্রসংঘ। বিশ্বের জাতিসমূহের এই একটিই সংগঠন, যার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরন। এসব মহান আদর্শ এই এক পৃথিবীর অভিন্ন লক্ষ্য। এসব আদর্শ বাস্তবায়নে পৃথিবীর সব জাতি এক। সেই অর্থে বলা হয় এক পৃথিবী এক বিশ্ব সমাজ বা এক মানবজাতি বা One World One Community. সত্যিকার অর্থেই সারা মানবজাতি এক এবং এই এক পৃথিবীরই বাসিন্দা। জাতিসংঘ সদর দপ্তর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত একটি কমপ্লেক্স। ১৯৫২ সালে নির্মাণের পর থেকে এটি জাতিসংঘের দাপ্তরিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেখানে প্রতিনিয়ত পৃথিবীর সব জাতির প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে যেন ঘোষণা করে চলেছে One World One World Community. জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হল ১৯৩টি। সার্বভৌম রাষ্ট্র যারা জাতিসংঘের সদস্য এবং যাদের প্রত্যেকের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সমান প্রতিনিধিত্ব আছে। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদক্ষ কুটনৈতিক নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয় জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই সদস্য পদ প্রাপ্তিতে। বঙ্গবন্ধুই প্রথম জাতিসংঘে বাংলায় ভাষন দিয়ে বিশ্ব কমিউনিটির মাঝে বাংলাদেশ ও বাঙ্গালী জাতির অফিসিয়াল প্রতিনিধিত্ব ঘোষণা করেন। সেই গৌরব ও মর্যাদা এখনো দেদীপ্যমান। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সদস্য। কারন জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সৈন্যই সবচেয়ে বেশী। এটা জাতিসংঘে বাংলাদেশকে একটি বড় ও মর্যাদাপূর্ণ আসনে অভিষিক্ত করেছে। COVID19 বা বিশ্বব্যাপী করোনা দুর্যোগে জাতিসংঘ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( World Health Organisation -WHO) এর মাধ্যমে যেভাবে সারাবিশ্বে স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসায় ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে তাতে আবারো প্রমান হয়েছে আমরা আসলেই One World One Community. শুধু তাই নয়, জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (United Nations Educational, Scientific, and Cultural Organization) বা ইউনেস্কো (UNESCO) জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা সারা বিশ্বে কাজ করছে । বিশ্বে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রসার এবং উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটানো এই সংস্থার কার্যক্রম। ১৯৪৫ সালের নভেম্বরে লন্ডন সম্মেলনে ইউনেস্কো প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৪৬ সালে এই সংস্থা জাতিসংঘের সহায়ক সংস্থা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। প্যারিসে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। জাতিসংঘের UNICEF, UNEP, UNDP, UNFP সহ শিশু, মানবাধিকার, খাদ্য, পরিবেশ, সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ন্যায় বিচার সহ আরো কয়েকটি উন্নয়নমূলক সহযোগী সংস্থা রয়েছে যেগুলো প্রতিনিয়ত মানবজাতির সেবায় নিয়োজিত। জাতিসংঘ দিবস ২৪শে অক্টোবর তারিখে বিশ্বের সকল স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে উদযাপিত হয়। সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে জাতিসংঘ সনদ অনুমোদনের দিনে ১৯৪৮ সালে এ দিবস পালনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। জাতিসংঘ দিবসের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে জাতিসংঘের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে উৎসর্গ করা হয়েছে। তাই এই দিবসটি সবাই যার যার অবস্থান থেকে পালন করে। জাতিসংঘ দিবসের পাশাপাশি একই দিনে বিশ্ব উন্নয়ন তথ্য দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৭২ সাল থেকে প্রতি বছরের ২৪ অক্টোবর এ দিনটি আন্তর্জাতিক ভাবেই পালিত হয়। জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা, দারিদ্র, অপুষ্টি দূরীকরণ, শিক্ষা, চিকিৎসা উন্নয়ন , শান্তি প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নানামুখী কার্যক্রমে মহতী ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক, বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, বিভিন্ন সময়ে কালো মেঘের আড়ালেও প্রদীপ্ত সূর্যের মতই জাতিসংঘ যেন টিকে থাকে। কারণ বিশ্বে মানব উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, শান্তি ও মৈত্রী স্থাপনে জাতিসংঘের কোন বিকল্প নেই। জাতিসংঘের বিকল্প একমাত্র জাতিসংঘই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনাও হয়। কিন্তু অনেক অালোচনা সমালোচনার পরেও শেষ বিকেলের গল্পের শেষ বাক্য হলো জাতিসংঘ আমাদের স্বপ্ন সারথি। আমাদের হ্নদয়ের ঐকতান। আমরা এক পৃথিবীর। আমরা এক মানবজাতি। One World One Community.

























