কমিউনিটি হেরিটেজ / পরিবেশ প্রকৃতি / রাজনীতি / নিউজ ডেস্ক :
” যেটা বায়ান্ন, সেটাই তিপ্পান্ন। তাই যেটা গোয়ালপাড়া, সেটাই শিরিষতলা। বায়ান্ন ও তিপ্পান্ন এর মধ্যে তেমন কোন দূরত্ব নেই, তেমনি গোয়ালপাড়া ও শিরিষতলার মধ্যে তেমন কোন দূরত্ব নেই। ডাক দিলেই শুনা যায় সেই আওয়াজ । তাই গোয়ালপাড়ায় কোন অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মাণের কুফল ও নেতিবাচক প্রভাব শিরিষতলা হতে শুরু করে আশেপাশের সিআরবি এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে “।
চট্টগ্রাম নগরের রেলওয়ে সিআরবিতে প্রস্তাবিত হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা সমাবেশের প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
তিনি আজ রোববার(১৮ জুলাই) বিকেলে সিআরবিতে প্রস্থাবিত হাসপাতালের স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও দর্শনার্থীরা তাঁকে অভিনন্দন জানান।
এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগনই আওয়ামী লীগের বড় শক্তি। সাধারণ মানুষের সুখে দুখে থেকে এ দলের এগিয়ে চলা। মানুষের উন্নয়নে কাজ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু মানুষের ক্ষতি হয় এমন কোন জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করবে না আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিবৃতি,আন্দোলন, সমাবেশের বক্তব্যে যা বুঝলাম, কেউ হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে নয়। সবাই চায় হাসপাতাল হউক, কিন্তু সিআরবি’র পরিবেশ ও প্রকৃতি বিপন্ন করে নয়। সিআরবি এলাকার অদূরে আমবাগান, পাহাড়তলী, খুলশী সহ এমন অনেক রেলওেয়ের পরিত্যক্ত জমি রয়েছে। সেখানেই হতে পারে সেই হাসপাতাল।
হাসপাতাল নির্মাণে আওয়ামী লীগের দলীয় অবস্থান কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, জনগনের কন্ঠ যেদিকে আওয়ামী লীগের অবস্থান সেদিকে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়ন করছে, তবে সে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হয় অবশ্যই পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ বান্ধব সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন কর্মসূচী সহ পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে এ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগগুলো দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ সব সময় পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে এবং জনগনের পালস(অনুভূতি) বুঝে কাজ করে।
এসময় তিনি সিআরবি এলাকায় কয়েকজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি পরিদর্শনকালে বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই সিআরবি। নৈসর্গিক শোভামণ্ডিত পরিবেশে সবুজ গাছপালায় ঘেরা এমন একটি ঐতিহাসিক ও সুন্দর জায়গা হয়ে উঠেছে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মুক্ত প্রাঙ্গন। নগরীর যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে এখানকার মুক্ত বাতাসে মুক্ত নিঃশ্বাস নিতে আসে অনেকে। পাখীর কলকাকলীতে মুখরিত এই অবারিত সবুজ। অবসরে পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন অনেকে। প্রবীণরা এখানে হাটাহাটি করেন। শিশুরা এখানে খেলা করে। অনেকে প্রাকৃতিক অক্সিজেনের ভান্ডার ফুসফুসও বলে থাকেন এই সিআরবিকে । জাতীয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের একটি অংশ বলা যায় এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে। তাই এটির সংরক্ষণ আমাদের জাতীয় ও নাগরিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
এক পর্যায়ে তিনি বলেন, মানুষের জন্যই রাজনীতি। রাজনীতির জন্য মানুষ নয়। মানুষের চিন্তা, চেতনা, আবেগ, অনুভূতি, আশা আখাংকা, ইচ্ছা ও স্বপ্নকে সম্মান জানানোই রাজনীতি।






















