Home কমিউনিটি প্রস্তাবিত দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা। জীবন জীবিকার মান বাড়বে বিপুল জনগোষ্ঠীর

প্রস্তাবিত দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা। জীবন জীবিকার মান বাড়বে বিপুল জনগোষ্ঠীর

0

কমিউনিটির জীবনমান উন্নয়ন/ জনকল্যাণ/ নিউজ ডেস্ক :

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের জনপদকেই বলা হয় দক্ষিণ চট্টগ্রাম। জনসংখ্যার ব্যাপকতায় এই দক্ষিণ চট্টগ্রামে রয়েছে বিপুল  জনগোষ্ঠীর বসবাস। বিশাল চট্টগ্রাম শহরের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সহজ ও গতিশীল করার জন্য  এই জনপদকে একটি আলাদা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আনার জন্য আওয়াজ উঠছে। সরকারের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এই অঞ্চলটির জনগোষ্ঠীর মাঝে এ বিষয় বেশ জনমত তৈরী হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগনের আশা আখাংকাকেই বাস্তবায়ন করার কাজে একসময় এগিয়ে যায় সরকার। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ফোরাম থেকেও এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু ভিন্নমত আছে এর প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে। অনেকে বলছেন কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড় পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী নিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা নামে আলাদা একটি জেলা করা যেতে পারে।
এই দাবীকে জোরালো করেছেন গত রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, এমপি ।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের বর্ধিত সভায়  তিনি  এই ঘোষণা দেন। সভায় সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ দক্ষিণ চট্টগ্রামকে স্বতন্ত্র জেলা ঘোষণার দাবিসম্বলিত একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সর্বসম্মতিক্রমে সেটি অনুমোদন হয়।
এ বিষয়ে  চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান  বলেন, ‘আমরা দক্ষিণ চট্টগ্রামকে একটা স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে দেখতে চাই। বিষয়টি সর্বসম্মত দাবি হিসেবে সভায় গৃহীত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের  হুইপ ও পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম আমাদের হ্নদয়ের গভীরে। আমরা সবাই চট্টগ্রামকে ভালবাসি। তাই প্রস্তাবিত নতুন জেলার নামে  ‘ চট্টগ্রাম ‘ শব্দটি রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রাম করা হউক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল চট্টগ্রামের দক্ষিণাংশ নিয়ে একটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো। সেই প্রেক্ষিতে আমরাও চাই, নতুন প্রস্তাবিত দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলার বাস্তবায়ন। এতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কোটা বরাদ্দ বাড়বে। পাশাপাশি  দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের জীবন জীবিকার মান বাড়বে।
এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে বাঁশখালীর প্রয়াত নেতা   জাকেরুল হক চৌধুরীর সন্তান বর্তমানে দক্ষিণ জেলা  আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, আমার বাবাকে বঙ্গবন্ধু দক্ষিণ চট্টগ্রামরই গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং সড়ক, রেলওয়ে ও নদী যোগাযোগের সুবিধার কারনে এর প্রশাসনিক দপ্তর দোহাজারীর কাছাকাছি করার পরিকল্পনা ছিল। তাই  বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আলাদা জেলা ঘোষণা করা হউক।
তবে প্রস্তাবিত নতুন জেলার নামকরণ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। বিশেষ করে বৃহত্তর পটিয়ার অধিবাসীগন যারা দীর্ঘদিন পটিয়াকে আলাদা জেলা করার জন্য জোর দাবী জানিয়ে আসছেন তারা বলছেন ভিন্ন কথা। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটি সদস্য মো.সেলিম নবী বলেন, প্রস্তাবিত নতুন জেলার নাম পটিয়া রাখাই যৌক্তিক। কারন হিসেবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে  এক সময়কার সব মহকুমাকে পরবর্তীতে জেলা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পটিয়াকে জেলা করা হয় নি। আমরা নতুন প্রস্তাবিত জেলার নাম পটিয়া নামকরণের দাবী জানাই। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী  যে গভর্নর প্রথা চালু করেন তখন চট্টগ্রামের দক্ষিণাংশকে আলাদা গভর্নর ব্যবস্থায় নিয়ে আসেন। ঐতিহাসিকভাবেও পটিয়ার গুরুত্ব রয়েছে। প্রাচীন আরাকান রাজসভার অধীনে পটিয়ার চক্রশালা নিয়ে গড়ে উঠেছিল সাহিত্য ও সংস্কৃতির পীঠস্থান। তাছাড়া ২০০৭ সালে পটিয়া কেন জেলা ঘোষণা করা হবে না, এ নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টের একটি রিট আছে। সেই রিটটি এখনো নিষ্পত্তি হয় নি। তাই প্রস্তাবিত নতুন জেলার নাম পটিয়া না করলে আইনগত জটিলতা তৈরী হতে পারে। তিনি আরো বলেন, নতুন জেলায় পরিকল্পিতভাবে  পটিয়া হতে পারে প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক জোন, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও কর্ণফুলী এলাকা হবে শিল্প কারখানা জোন, চন্দনাইশ হবে হাসপাতাল  জোন এবং সাতকানিয়া লোহাগাড়া হবে শিক্ষা জোন।

অমিত সম্ভাবনাময় দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা। টানেলকে ঘিরে যত কর্মযজ্ঞ।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউন করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশাল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে দেশের ইতিহাসে প্রথম টানেল নির্মাণাধীন রয়েছে। এই টানেল চট্টগ্রাম নগরীর মূল শহরের সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ  পাড়কে আনোয়ারা উপজেলার মাধ্যমে  সরাসরি যুক্ত করবে এবং দুপাড়ে  নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। আর এই টানেল ঘিরে পিছিয়ে থাকা আনোয়ারা এলাকায় শিল্পায়নে বিপ্লব হবে। বর্তমানে আনোয়ারা প্রান্তে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং কোরিয়ান ইপিজেড ঘিরে বিশাল বিনিয়োগ হবে। পতেঙ্গা ও আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। মূল টানেল ২টি টিউব সম্বলিত ও ৩.৪ কি.মি: দীর্ঘ ৪ লেনের টানেল। পাশাপাশি টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫.৩৫ কি:মি: এপ্রোচ রোড এবং ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজ (Viaduct) ও নির্মাণাধীন রয়েছে।  এছাড়া আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীন সরকারের (জি টু জি) যৌথ অর্থায়নে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। China Communications Construction Company CCCC মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্ণফুলী টানেল বাস্তবায়ন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে,
চট্টগ্রাম শহরের আয়তন ১৬৮ বর্গকিলোমিটার।ভারী ও মাঝারি শিল্প-কারখানার আবাসস্থল চট্টগ্রাম।  এখানে দেশের প্রথম ইপিজেডসহ আছে বেশকটি শিল্পাঞ্চল। চট্টগ্রাম শহর কর্ণফুলী নদীর উত্তরপাড়ে অবস্থিত। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড়ে রয়েছে পাহাড়ি ভূমি, এর ভেতর রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড, ২ টি সারকারখানা এর পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে কিছু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে।আরো নির্মাণাধীন রয়েছে “চায়নিজ ইন্ডাস্ট্রিয়েল এন্ড ইকোনমিক জোন।  দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐ অংশে যেতে হলে ২০/২৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। অথচ দুই প্রান্তের দুরত্ব মাত্র ২/১ কিলোমিটার। কিন্ত নদীর মোহনায় কোন সংযোগ না থাকায় শহর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল ভারি শিল্পকারখানা অধ্যুষিত নদীর দক্ষিণ পাড়। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ হয়ে গেলে দক্ষিণ  চট্টগ্রামে হবে বিরাট একটা ভারি শিল্পকারখানা বেষ্টিত জায়গা। কোরিয়ার এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা কোরিয়ান ইপিজেড, “চায়নিজ ইন্ডাস্ট্রিয়েল এন্ড ইকোনমিক জোন, সার কারখানা সহ বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে উঠা বেশ কিছু ভারি-মাঝারি শিল্প-কারখানার অসীম সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে কর্ণফুলী টানেল। এই একটি টানেল পুরো বদলে দিবে কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড় তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামকে।
কর্ণফুলী নদীর ওপর রয়েছে দুটি ব্রিজ
কর্ণফুলী নদীর নীচে টানেলের পাশাপাশি নদীর ওপরে রয়েছে আরো দুটি ব্রিজ। একটি হলো শাহ আমানত ব্রিজ যা নদীর দক্ষিণ পাড় পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে। আরেকটি হলো কালুরঘাট রেলওয়ে ব্রিজ, যা দক্ষিণ পাড়ে বোয়ালখালীকে সংযুক্ত করেছে। তবে এই ব্রিজটি বেশ পুরনো ও নড়েবড়ে হওয়ায় পাশে আরেকটি ব্রিজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন আরেকটি ব্রিজ হলে,বিদ্যমান শাহ আমানত ব্রিজসহ টানেল দিয়ে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। এর মাধ্যমে কক্সবাজার পর্যন্ত যোগাযোগ সুবিধা বাড়বে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামে চারটি উপজেলাই সমুদ্র তীরবর্তী
দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, পটিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালী এই চারটি  উপজেলাই সমুদ্র তীরবর্তী।
মহেশখালী মাতারবাড়ীতে যে গভীর সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মিত হচ্ছে সমুদ্র রুট থাকায় এর সুফল পাবে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী। তাছাড়া  ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এর মধ্যে নতুন একটি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে । প্রস্তাবিত মিরসরাই-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ কানেক্টর হবে দক্ষিণ চট্টগ্রাম। এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন হওয়ায় এর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বেড়ে যাবে বহুগুণ। দক্ষিণপাড়ে শিল্প-কারখানার বিকাশ সাধন এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে এই যোগাযোগ অবকাঠামো  বেকারত্ব দূরীকরণসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। ভ্রমণের সময় ও খরচ হ্রাস পাবে এবং  কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপ্রান্তের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে দেশের পূর্বপ্রান্তে চকরিয়া, কক্সবাজার শহর ও টেকনাফ  পর্যন্ত  পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে।
জাপানের বিগ বি মহাপরিকল্পনায় কক্সবাজার ও  দক্ষিণ চট্টগ্রাম
বঙ্গোপসাগরকে নিয়ে  জাপানের বিগ-বি (Bay of Bengal Industrial Growth Belt) নামক এক মহাপরিকল্পনা কাজ করছে।  সমুদ্র উপকূল জুড়ে এই বিশাল কর্ম উদ্যোগের প্রধান দিক হল বাংলাদেশ, ভারত,শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও মিয়ানমারকে নিয়ে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট তৈরী করা। এজন্য হচ্ছে  মহেশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও  মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর। যদিও এটির কাজ চলছে  চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে। বন্দর সূত্রে জানা যায়,  মাতারবাড়ী আলাদা কোন বন্দর নয়, এটি হবে চট্টগ্রাম বন্দরের একটি সম্প্রসারিত অংশ গভীর সমুদ্র বন্দর। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরের কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। জীবন জীবিকার মান বাড়বে  স্থানীয় মানুষজনের । কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যেখানে পরিবর্তন হবে লক্ষ মানুষের ভাগ্য।মেরিটাইম ওয়ার্ল্ড এর নতুন গন্তব্য বা ডেসটিনেশন হতে যাচ্ছে এই বন্দর । দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিশাল অংশ সমুদ্র উপকূলীয় হওয়ায় এই সুবিশাল সমুদ্র অর্থনীতির সুফল পাবে বেশী তাঁরাই। লজিস্টিক সাপোর্ট হিসেবে গড়ে উঠবে আরো কয়েকটি ছোট বন্দর, জেটি ও ডিপো। বন্দর সুবিধা বাড়লে পাল্লা দিয়ে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। হবে উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি এর মতে  মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ উন্নয়নে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে, সমুদ্র যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হবে। আধুনিক সিংগাপুরের ন্যায় হবে তখন বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বের জনপদ কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম। এসব প্রকল্প ঘিরে বেসরকারি খাতে প্রচুর বিনিয়োগ ও উন্নয়নের ধারা সৃষ্টি হবে। বিকাশ হবে কারিগরি ও প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প কারখানা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প(এসএমই) বিকাশের মাধ্যমে গড়ে উঠবে  দক্ষ জনশক্তি । পাশাপাশি ছোট বড় অনেক লিংকেজ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।এতে হবে অনেক কর্মসংস্থান । তবে এই ব্যাপক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক ভাবে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে আশেপাশের  জনগোষ্ঠী সমূহ।
দক্ষিণ চট্টগ্রামে হতে পারে আরেকটি বিমান বন্দর ও বিশ্ববিদ্যালয়
ঐতিহাসিক তথ্যমতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের দোহাজারীতে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে  ব্রিটিশদের  একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া  অকেজো ও ছোট এই পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিকে আরো সম্প্রসারিত করে আরেকটি বিমানবন্দর করা যায়।  এখান থেকে রেল ও সড়কপথে কক্সবাজার এবং শংখ নদীর তীরবর্তী হওয়ায় নদী পথে বান্দরবান যাওয়া সহজ। এতে এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি ও ইকো টুরিজম শিল্পের বিকাশ হবে। তাছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি আরো একটি আন্তর্জাতিক মানের পাবলিক  বিশ্ববিদ্যালয় হলে এই জনপদ উচ্চ শিক্ষায় অনেক এগিয়ে যাবে।
বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার জরীপ
বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার মতে, ফিন্যান্সিয়াল এবং ইকোনমিক আইআরআর-এর পরিমাণ দাঁড়াবে অনেক বেশী। এছাড়া ফিন্যান্সিয়াল ও ইকোনমিক ‘বেনিফিট কস্ট রেশিও’র (বিসিআর) পরিমাণ দাঁড়াবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক । ফলে শিল্প কারখানা, ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার হওয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনে ও জাতীয় রাজস্বে খুব বেশী ভূমিকা রাখবে দক্ষিণ চট্টগ্রাম।
দক্ষিণ চট্টগ্রাম হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে অগ্রসর এক জনপদ
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান চট্টগ্রাম শহর ও কক্সবাজারের মধ্যবর্তী বিশাল এলাকা বনজ, পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী  হওয়ায় এবং সমুদ্র অর্থনীতির ছোঁয়ায়  আগামীর দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা হবে বাংলাদেশের  সবচেয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ  ও আলোকিত  এক জনপদ।

(নিউজটির ২য় পর্বে থাকছে প্রস্তাবিত দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা নিয়ে মন্ত্রী, সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতা কর্মী, পেশাজীবি, ব্যবসায়ী ও জনগনের বক্তব্য).

……. স্পেশাল রিপোর্ট।
সরোয়ার আমিন বাবু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here