KSRM
Home ইন্টারন্যাশনাল জাপান-আমেরিকা সম্পর্কের নতুন দিক নিয়ে চীনের উদ্বেগ।

জাপান-আমেরিকা সম্পর্কের নতুন দিক নিয়ে চীনের উদ্বেগ।

0

আন্তর্জাতিক কমিউনিটি / নিউজ ডেস্ক :

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় যৌথ নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের মিত্র জাপান – আমেরিকা সম্পর্ক এবার নতুন বাক নিচ্ছে নতুন দিকে। আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক কমিউনিটিতে এ নিয়ে বেশ আলোচনায় চীনও প্রকাশ করছে তার উদ্বেগ।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসে বিদেশি কোন সরকার প্রধানের সাথে শীর্ষ পর্যায়ের প্রথম বৈঠক করলেন জো বাইডেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদি সুগার সাথে শনিবারের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে । কারন হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈঠকে এমন কিছু সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে যা বৃহৎ প্রতিবেশী চীনের প্রভাব বিস্তারের সাথে সম্পর্কিত। জাপান ও আমেরিকা, মিত্রতার সম্পর্ক মজবুত করে ভারত -প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্ডো-প্যাসিফিক) অঞ্চলে যৌথ নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা আবার এটাও বলেছেন, চীনের সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক রাখা শুধু ইন্ডো- প্যাসিফিক অঞ্চল নয়, আন্তর্জাতিক কমিউনিটির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা আরো বলেন, চীনের সাথে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব উদ্বেগ রয়েছে সেজন্য চীনের সাথে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। দুই নেতাই তাইওয়ান সহ ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুগুলির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাঁরা “তাইওয়ান দ্বীপ এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব” দিয়ে মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে চান। চীন থেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং পূর্ব চীন সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার মতো ইস্যুতে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আলোচনায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হংকংয়ের উপর এর কঠোরতর দখল এবং জিনজিয়াংয়ের মুসলিম উইঘুরদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন।
তবে চীন আগে থেকেই বলে আসছে তাইওয়ান, হংকং এবং জিনজিয়াং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানে কারো হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝা লিজিয়ান বলেছেন, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জোট বিষয়ক ‘যৌথ ঘোষণা’ সম্পর্কে চীন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দেশগুলোকে চীনের উদ্বেগকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী ১৯৬৯ সালের পর এবারই চীনের সবচেয়ে সংবেদনশীল আঞ্চলিক ইস্যু তাইওয়ানের উপর জাপান ও আমেরিকা যৌথ বিবৃতি প্রদান করল। এছাড়াও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কোয়াড নামে একটি গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং জাপানের সাথে যৌথ প্রচেষ্টায় চীন খুশী নয়। চীন মনে করছে এর আড়ালে আসলে দেশগুলো ইন্ডো- প্যাসিফিক অঞ্চলে তার প্রভাব খর্ব করতে চায়। যা শুধুই উত্তেজনা বাড়াবে।
তাই চীনকে এসব বিষয়গুলো ভাবিয়ে তুলছে। তবে জাপান অতি কৌশলে ভারসাম্য পূর্ণ ভাবে বৃহৎ প্রতিবেশী চীনের সাথে সম্পর্ক রেখেই পুরনো মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ উদ্যোগে এগিয়ে যেতে চায়। সুগা ইতিপূর্বে বলেছিলেন, চীনের নিরাপত্তা উদ্বেগকে জাপান- চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জো বাইডেন ও সুগা বৈঠকে চীন ও ইন্ডো- প্যাসিফিক বিষয় ছাড়াও জাপানের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস ও পরিকল্পিত করোনা মহামারী প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা হয়। আমেরিকা ও জাপান যৌথভাবে 5 জি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জিনোমিক্স এবং সেমিকন্ডাক্টর সাপ্লাই চেইনের মতো সুপার টেক উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে।

…… স্পেশাল রিপোর্ট। সরোয়ার আমিন বাবু।

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here