Home কালচার পদ্মা উৎসবে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ইলিশ রেসিপি, গান,কবিতা ও নৃত্যে মেতে উঠল চট্টগ্রাম

পদ্মা উৎসবে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ইলিশ রেসিপি, গান,কবিতা ও নৃত্যে মেতে উঠল চট্টগ্রাম

0

ঐ দেখা যায় পদ্মা সেতু, ঐ আমাদের মান। ঐ খানেতে গাও সবাই, বাংলাদেশের গান। প্রমত্ত পদ্মায় চোখ জুড়ে যায়, নতুন জীবনে যায় ছুটে যায়। এমনি সব পদ্মার গান,কবিতা, নৃত্যের আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল শিশু কিশোরদের পদ্মা উৎসব। পদ্মা সেতু নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা দিয়ে শুরু এই উৎসবে জমজমাট হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণ ও হল। ২৪ জুলাই বিকেলে অতিথি, দর্শনার্থী ও শুভার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল এই ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় পদ্মা উৎসব।
কমিউনিটি স্টুডিও ও গৌরী ললিতকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত  এই পদ্মা  উৎসবে  প্রান চঞ্চল হয়ে উঠে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক জগত।
পদ্মা উৎসবের ১ম পর্বে অনুষ্ঠিত হয় পদ্মা সেতু নিয়ে দেশের প্রথম চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। পদ্মা সেতুর অপরূপ নির্মাণশৈলী আর পদ্মা নদীর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  ফুটিয়ে তুলে একঝাঁক শিশু কিশোর তাদের  আকা ছবিতে। রং ও তুলির পরশে পদ্মা সেতু ও নদী বিমূর্ত হয়ে উঠে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায়।  শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত পদ্মা উৎসবের প্রথম পর্ব ছিল  পদ্মা সেতু নিয়ে  শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। উন্মুক্ত এই প্রতিযোগিতায় ছিল  ১ম থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে   ক বিভাগ এবং  ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছিল খ বিভাগ। প্রায় দুই শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেয়। বিজয়ী ও অংশগ্রহনকারী সবাইকে পুরষ্কার  ও প্রশংসাপত্র দিয়ে উৎসাহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে আসা শিশু কিশোরদের অবিভাবকদের অনেকে তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দেশের এই প্রথম চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা দেখে আমরা অভিভূত। আমাদের সন্তানরাও খুব আগ্রহ, আনন্দ উদ্দীপনার সাথে অংশ নিয়েছে। শাহাদাত হোসেন নামে এক প্রতিযোগির পিতা বলেন, প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার পাওয়া বড় বিষয় নয়, অংশগ্রহণই বড় বিষয়। পদ্মা সেতু নিয়ে  এই ধরনের একটি নতুন বিষয় শিশু কিশোরদের বেশী আকৃষ্ট করেছে। তাছাড়া পদ্মা সেতু এখন আমাদের জাতীয় জীবনে বড় গৌরবের বিষয়। জলি আক্তার নামে এক প্রতিযোগির মা বলেন, আজ পদ্মা নদী পাড় হই পদ্মা সেতু দিয়ে। তখন চোখ জুড়ে যায় ও আনন্দ মন  ভরে উঠে  । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য কর্ম স্পৃহা ও সাহসীকতায়  নির্মিত  পদ্মা সেতু আজ নিরেট বাস্তবতা । এই পদ্মাসেতু বিশ্বে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে সম্মান ও মর্যাদার এক অনন্য উচ্চতায় । বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ অবকাঠামোর একটি বড় উন্নয়ন মাইলফলক । এই ঐতিহাসিক অর্জনকে শিশু কিশোররা তাদের রং তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছে। এটা তাদের চিন্তা চেতনা,  সৃজনশীলতা  ও মননশীলতায় গভীর রেখাপাত করবে। আমি এই অসাধারণ উদ্যোগের জন্য আয়োজক কমিউনিটি স্টুডিও ও গৌরী ললিতকলা একাডেমিকে সাধুবাদ জানাই।
পদ্মা উৎসবের বিশেষ পর্ব  ইলিশ রেসিপি প্রদর্শনী :
দেশে চলছে এখন ইলিশ মৌসুম। হাজারো ইলিশের মাঝে পদ্মার ইলিশ হলো স্বাদে গুনে অনন্য। রয়েছে স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য।  সেই পদ্মার ইলিশ রেসিপি  নিয়ে চমৎকার একটি প্রদর্শনী হয়ে গেল এই উৎসবের মাঝে।  বিশেষ করে  পদ্মার  ইলিশ রেসিপি প্রদর্শনী বিমোহিত করল সবাইকে। চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন রন্ধন শিল্পী তাঁদের বাসা থেকে ইলিশ মাছের বিভিন্ন রেসিপি রান্না করে  এই প্রদর্শনীতে নিয়ে আসেন। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া রেসিপিগুলো নিয়ে হয় প্রতিযোগিতা।  এই প্রদর্শনী  সমন্বয় করেন বিশিষ্ট রন্ধন শিল্পী ও চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক রেবেকা নাছরিন। প্রতিযোগিতায় জুরী ছিলেন সেরা রাঁধুনি খেতাব প্রাপ্ত দেশের বিখ্যাত রন্ধন শিল্পী  জোবাইদা আশরাফ।
তিনি বলেন, পদ্মা উৎসবে এই ইলিশ রেসিপি প্রদর্শনী সত্যি অসাধারণ। বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। কিন্তু  স্বাদে গুনে পদ্মার ইলিশের রয়েছে আলাদা পরিচয়। বিদেশেও এই পদ্মার ইলিশের রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা। এই রূপালী ইলিশের রয়েছে মন মাতানো সুগন্ধ। চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন গৃহিণী তাদের রান্না করা রেসিপিগুলো নিয়ে এসেছে। তাঁরা সবাই এত ভাল রান্না করতে পারে, দেখে খুবই ভাল লাগল। প্রতিটির স্বাদ ও স্মার্ট  পরিবেশনা দেখে আমি মুগ্ধ। তিনি আরো বলেন, রন্ধন একটি শিল্প। তাই শিল্পকলার এই প্রাংগনে এই রন্ধন শিল্প যোগ করেছে নতুন মাত্রা। পদ্মা উৎসবে এই সুন্দর আইডিয়াটি যোগ করায় আমি ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই আয়োজক কমিউনিটি স্টুডিও ও গৌরী ললিতকলা একাডেমিকে।
পদ্মার ইলিশ রেসিপি প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় সেরা রেসিপিগুলোকে  ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান নির্ধারণ করে পুরষ্কৃত করা হয়। তবে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সবাইকে গিফট বক্স দিয়ে সম্মানিত করা হয়। প্রতিযোগিতায়  ১ম হন ফারজানা শরিফ। তার
রেসিপির নাম ছিল ইলিশ কাবাবে জামাই আদর।
২য় আনোয়ারা রিনু। রেসিপি নাম নোনা ইলিশের পাতুরী। ৩য় হন রোকেয়া নাসরীন। রেসিপি  নাম প্রেসার কুকারে ইলিশ ভাপা।
” ইলিশ কাবাবে জামাই আদর” নামকরণ কেন, জানতে চাইলে ১ম স্থান অধিকারী ফারহানা শরীফ বলেন, ইলিশ মাছ দিয়ে জামাই আদর ও আপ্যায়ন  বাংলার একটি ঐতিহ্য। তাই আমি এমনভাবে কাবাবটি তৈরী করেছি যাতে জামাই আদরে নতুন মাত্রা পায়। সেই আপ্যায়নে যদি পদ্মার ইলিশ হয় তবে সেটা হবে স্বাদে, গন্ধে অনন্য।
পদ্মা উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে গৌরী ললিতকলা একাডেমির একঝাঁক শিশু কিশোর শিল্পীর প্রানবন্ত পরিবেশনা মুগ্ধ করে সবাইকে। জাতীয় সংগীত দলীয় পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
লোকসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আবদুল আলীম ও নীনা হামিদের সেই বিখ্যাত গান,  ” বাবু সেলাম বারে বার, বাড়ী পদ্মার পাড় ” দিয়ে স্বাগত জানানো হয় অতিথিদের। এই গীতি নৃত্যে পারফর্ম করে ঐশী মহাজন ও প্রজ্ঞা বিশ্বাস। কণ্ঠশিল্পী অনামিকা তালুকদারের কন্ঠে গাওয়া পদ্মা উৎসবের থিম সং টি গাওয়া হয় দলীয় নৃত্যে। তারপরেই শুরু হয় একের পর এক পদ্মা সেতু ও নদী নিয়ে  গান, কবিতা, নৃত্য ও কথামালা। পদ্মা সেতু নিয়ে সপ্তর্ষী বড়ুয়ার স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি ও প্রজ্ঞা বিশ্বাসের একক নৃত্য সবাইকে মুগ্ধ করে।  “বিক্রমপুরে বাপের বাড়ী ছিল একদিন পদ্মার  পাড়” জনপ্রিয় গানটি গায় অথৈ বড়ুয়া। সুরেলা কন্ঠে  স্বর্ণা বড়ুয়া একটি দেশাত্মবোধক গান ও আফরিদা রোবায়েত পরিবেশন করে লালনের একটি গান।
শিশু শিল্পী তরিকা বড়ুয়া, রনবীর বড়ুয়া, কৌশিক বড়ুয়া, সুকন্যা বড়ুয়া, উষ্মী তালুকদার, তূর্ণা তালুকদার, অরিত্রা দে, প্রতিম দে, প্রান্তিকা বড়ুয়া, শান্ত বড়ুয়া, ঐশী মহাজন, কৌশিক মহাজন, অর্ণব দে, জিসান শীল, প্রত্যয়, জয়তী দে, সপ্তর্ষী বড়ুয়া, গোবিন্দ চৌধুরী, জৈতি দে, প্রাচী চৌধুরী,  অথৈ বড়ুয়া,  প্রজ্ঞা বিশ্বাস,  লাবন্য  বিশ্বাস সহ আরো বেশ কয়েকজন এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বড়দের মধ্যে শিল্পী শিলা চৌধুরী, খোকন মালাকার ও মিউজিশিয়ান অরূপ বড়ুয়া গান গেয়ে শিশু কিশোরদের  উৎসাহিত করেন। তবলায় ছিলেন স্বরূপ বড়ুয়া, অক্টোপ্যাডে  কল্লোল দাশ গুপ্ত, বাঁশীতে শামীম চৌধুরী, বেইজ গিটারে অসীম বিশ্বাস।
এসময় আগত অতিথিদের স্বাগত জানান কমিউনিটি স্টুডিওর স্টার্টআপ পরিচালক সরোয়ার আমিন বাবু ও গৌরী ললিতকলা একাডেমির পরিচালক সূপর্না বড়ুয়া। গৌরী ললিতকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা উৎফল বড়ুয়ার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার সম্পাদক আলীউর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোঃ সাজ্জাদ উদ্দিন, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের লেবার উপ-কমিটির  যুগ্ন আহবায়ক সৈয়দ খুরশিদ আলম, অধ্যাপক মনোজ কুমার দেব, অধ্যাপক প্রদীপ  কুমার দাশ, বিশিষ্ট সংগীত সাধক নজরুল ইসলাম মানিক, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মামুন চৌধুরী, কণ্ঠশিল্পী অনামিকা তালুকদার,  চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান জাহাঙ্গীর, বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী দিলরুবা খানম। অনুষ্ঠান সমন্বয়ে ছিলেন রিকন বড়ুয়া, ওসমান জাহাঙ্গীর,  নিজাম উদ্দিন গোফরান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সূপর্না বড়ুয়া ও সাবরিনা সাবা।
পদ্মা উৎসবের এই  পুরো অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিল গোল্ডেন ইস্পাত, এইচ এম স্টিল ও পিউরিয়া ফুড।

………… বিশেষ প্রতিবেদন।
সরোয়ার আমিন বাবু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here