
নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামে রাশিয়ার অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান রাশিয়ার সরকার কর্তৃক সম্মানজনক ” বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা” মেডাল এ ভূষিত হয়েছেন । ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মাইন অপসারণ অভিযানে নিহত সোভিয়েত ইউনিয়নের নাগরিক ইউরি রেডকিনের সম্মানে চট্টগ্রামের লালদীঘি এলাকায় মেমোরিয়াল স্থাপনের মাধ্যমে রাশিয়া এবং বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি এই মেডালে ভূষিত হন। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ইগনাতভ আজ সোমবার ( ১৯ অক্টোবর) দুপুরে আশিক ইমরানকে মেডালটি হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রদূত আশিক ইমরান কে তার এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই মেমোরিয়াল দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করবে । তিনি ধন্যবাদ জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ,জ,ম নাছির উদ্দিনকে এই মেমোরিয়াল বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য।আশিক ইমরান বলেন, বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক একটি শক্তিশালী ঐতিহাসিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং রেডকিন মেমোরিয়াল স্থাপনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে ,বাংলাদেশ কখনোই তার প্রকৃত বন্ধুদের ভুলে যায় না।### ইতিহাসের পথ ধরে : ইউরি ভিকতোরোভিচ্ রেডকিন (১৯৫১-১৯৭৩) ছিলেন প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের একজন নাবিক। তার নাম বাংলাদেশের সাথে ওতেপ্রাতভাবে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় কর্ণফুলী নদীর চ্যানেল ও চট্টগ্রাম বন্দর প্রচন্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী যুদ্ধে পরাজিত হয়ে কর্ণফুলী নদীতে অসংখ্য মাইন পুঁতে যায়। স্বাধীনতার পরপর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত চালু করা জরুরী হয়ে পড়ে, কিন্তু কর্ণফুলী চ্যানেল ও মোহনায় ডুবে যাওয়া জাহাজ ও অসংখ্য মাইনের কারণে তা সম্ভব হচ্ছিল না। আমদানী রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করতে ডুবন্ত জাহাজ পরিস্কার ও মাইন অপসারণ জরুরি বিবেচনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমে জাতিসংঘের নিকট চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম শুরু করতে মাইন অপসারণ ও ডুবন্ত জাহাজ অপসারনে সহায়তার আহ্বান জানান। জাতিসংঘ রাজি হলেও তহবিল সংগ্রহে বিলম্ব হবে বলে জানায়। বঙ্গবন্ধু তখন চট্টগ্রাম বন্দর চালু করতে সোভিয়েত ইউনিয়নের নিকট কারিগরি সহায়তা চান। সোভিয়েত সরকার দ্রুত সাড়া দেয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কারণে সোভিয়েত সরকার সম্পূর্ণ তাদের অর্থায়নে ডুবন্ত জাহাজ ও মাইন অপসারনে সম্মত হয়। ২১ মার্চ ১৯৭২ সোভিয়েত সরকারের সাথে চুক্তি হয়। এডমিরাল সার্গেই পাভলোভিচ্ জুয়েন্কো (Admiral Sergey Pavlovich Zuenko) এর নেতৃত্বে ২২ টি জাহাজ ও ৮০০ নৌ সেনা ডুবন্ত জাহাজ ও মাইন অপসারণে নিয়োজিত হয়। ২ এপ্রিল ১৯৭২ থেকে ২৪ জুন ১৯৭৪ পর্যন্ত এই অভিযানে সোভিয়েত নৌ সেনার অক্লান্ত পরিশ্রম করে কর্ণফুলী চ্যানেল নিরাপদ করার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণভাবে চালু হয়। ২৪ জুন ১৯৭৪ সকল সোভিয়েত নৌ সেনা তাদের দেশে প্রত্যাবর্তন করলেও একজন সিনিয়র নাবিক ফিরে যেতে পারেন নি। তিনি হলেন Yuri Viktorovich Redkin । মাত্র ২২ বছর বয়সি রেডকিন ১৯৭৩ সনের ২৩ জুলাই মাইন অপসারণ করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর সমাধি রয়েছে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে। তার নামানুসারে একাডেমির ঐ স্থানের নাম হয়েছে রেডকিন পয়েন্ট। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে রাশিয়ার অনারারী কনসাল স্থপতি আশিক ইমরানের উদ্যোগে শহরের কেন্দ্রস্থল ঐতিহাসিক লালদিঘি মাঠের পাশে রেডকিন মেমোরিয়াল স্থাপনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সহযোগিতা করে।

























