লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই মানপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ছাড়া চলমান থাকা ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ অব্যাহত রেখেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের শিকার ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রশাসনের এই মহতী কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ও খিরাম এলাকায় সরকারি নির্দেশনা না মেনে গড়ে ওঠা ০৫ টি ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী হাসান। উচ্ছেদকৃত ইটভাটাগুলো হল ফটিকছড়ি উপজেলার খিরামের মের্সাস খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং, মেহেরুজ্জাহা রহঃ ব্রিকস, মেসার্স এবি ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং,শাহ আমানত ব্রিকস, নেক্সাস ব্রিকস। উল্লিখিত ব্রিকস ফিল্ডগুলোর কাঁচা ইট, চুলা ও চিমনি ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী মেসার্স এ বি ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়,মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস ফিল্ডকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রসঙ্গত, ইট ভাটা গুলোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রদত্ত লাইসেন্স নেই, নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র বা অবস্থান নির্ধারণের ছাড়পত্র, বন বিভাগের ছাড়পত্র ও বিএসটিআইয়ের মানপত্র। কৃষি জমি ও পাহাড় থেকে মাটি নিয়ে ইট উৎপাদিত হয়ে আসছিল। কোন কোন ইটভাটার পঞ্চাশ থেকে একশ মিটারের মাঝেই রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী ফটিকছড়ি উপজেলায় ৪১ টি ইটভাটা অবৈধ। ফলে পর্যায়ক্রমে সবগুলো ইটভাটা উচ্ছেদ করা হবে। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উক্ত অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ আফজালুর ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, ফটিকছড়ি থানা পুলিশ, র্যাব-৭ এর একটি দল, ফায়ার সার্ভিসের একটি দল অংশ নেন। হাইকোর্ট এর নির্দেশনা অনুযায়ী উক্ত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

























