নিউজ ডেস্ক : দেওয়ালে দেওয়ালে শোভা পাচ্ছিল ইতিহাসের বিখ্যাত বীর তৈমুর লং, চেঙ্গিস খানের আকাঁ ছবিসহ মঙ্গোলীয় বীরত্ব গাঁথা আর তাদের যাপিত জীবনের নানান সব কাহিনী। আলো আঁধারের মিশেলে বিমূর্ত হয়ে উঠেছে সাহসী মঙ্গোলীয় অশ্বারোহী বাহিনীর চিত্রকলা। কান পাতলেই যেন শুনতে পাওয়া যায় দূর থেকে আসা কোন যুদ্ধের হুংকার। এভাবেই তৈমুর লং সহ ইতিহাসের মঙ্গোলীয় বীরযোদ্ধারা যেন ফিরে আসলেন চট্টগ্রামে । তবে কোন যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে নয় কিংবা অশ্বারোহী বাহিনীর বিকট চিৎকার দিয়েও নয়। আসলেন একেবারে নতুন রূপে নতুন অবয়বে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বারতা নিয়ে।

Land of Mongal থেকে তাঁরা আসলেন হরেক রকমের সুস্বাদু খাবারের ঢালি নিয়ে। Mongolian Buffett Adventure নাম নিয়ে তারা যেন দেখাতে চায় শুধু যুদ্ধ আর ধ্বংসের ইতিহাস নয়, মঙ্গোলীয়দের আছে নিজস্ব কৃষ্টি, সভ্যতা আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। আছে বৈচিত্র্যময় খাবার আর রন্ধন শিল্পের সমৃদ্ধ অতীত। যা এখনো জনপ্রিয় দেশ থেকে দেশান্তরে। সীমানা পেরিয়ে
বৈচিত্রময় নানা স্বাদের মঙ্গোলিয়ান খাবারের বড় আয়োজন নিয়ে চট্টগ্রামের তারকা হোটেল দি পেনিনসুলা চিটাগাং-এ সপ্তাহব্যাপী চলছে মঙ্গোলিয়ান ফুড ফ্যাস্টিভ্যাল। চলবে ১৯ জুন পর্যন্ত। চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশী পর্যটক ও অতিথিরা ঐতিহ্যবাহী মঙ্গোলিয়ান খাবার ও রন্ধনপ্রণালী সম্পর্কে অভিজ্ঞতা গ্রহণের পাশাপাশি একই ছাদের নিচে মঙ্গোলিয়ান খাবারের বৈচিত্র অন্বেষণ করার দুর্দান্ত সুযোগ পাবেন এই ফুড ফ্যাস্টিভ্যালে। গতকাল সন্ধ্যায় পেনিনসুলা চিটাগাং এর লেগুনা রেস্টুরেন্টে মঙ্গোলিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী নুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিটাগাং চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম। পেনিনসুলা চিটাগাং-এর জেনারেল ম্যানেজার সুমেধা গুণবর্ধন ও পেনিনসুলার অন্যান্য বিভাগীয় প্রধানদের সাথে নিয়ে প্রধান অতিথি ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গোলিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন।
মঙ্গোলিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যালের সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গোলিয়ান স্যুপ এবং স্ট্যু থেকে গ্রিল করা মাংস এবং ভেজিটবলের নানা মেনু’র স্বাদ অন্বেষণ করতে পারবেন অতিথিরা। পেনিনসুলা চিটাগং-এর এক্সিকিউটিভ শেফ এবং তার চৌকস শেফ টিমের নেতৃত্বে একশ’রও বেশি বৈচিত্রময় মেনু থাকবে ফেস্টিভ্যাল ডিনার বুফেতে। সপ্তাহ ব্যাপী লেগুনা রেস্টুরেন্টে এই মঙ্গোলিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল চলবে। জানা যায়, নির্দিষ্ট ব্যাংকের কার্ডধারীরা ফেস্টিভ্যাল বুফে উপভোগ করতে পারবেন ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি’ অফার। কয়েকজন দর্শনার্থী জানালেন, পেনিনসুলার এভাবে বিভিন্ন দেশের ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন চট্টগ্রামবাসীকে বৈচিত্র্যময় রন্ধন প্রনালী ও রেসিপির সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। এটা একটা শিক্ষানীয় বিষয় এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাথে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়বে।






















