
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দ্য ফিল্ড অব ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করছে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো। ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২১০তম নির্বাহী বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে । এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন রোববার (১৩ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১১ ডিসেম্বর ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের শরৎকালীন অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিমান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ২৩টি ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। এবার বাংলাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুর নামে ইউনেস্কো পুরস্কার প্রবর্তন করলো। ড. মোমেন আরো বলেন, এ পুরষ্কার সৃজনশীল অর্থনীতিতে যুবসমাজের উন্নয়নে সংস্কৃতিকর্মী, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা কর্তৃক গৃহীত ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ ছিলেন। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ, বাক-স্বাধীনতার বিকাশে তার সংগ্রাম, স্বাধীনতার পর বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন জাতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। স্বাধীনতার পরই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শনের আন্তর্জাতিকীকরণ এবং তার আদর্শ বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইউনেস্কোর এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন খুবই সময়োপযোগী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ইউনেস্কোর প্রতি অঙ্গীকারের কথা বিবেচনায় নিয়ে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্তনে সম্মতি দেয়। ইউনেস্কোর মতো জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংস্থা কর্তৃক প্রবর্তিত এ পুরস্কার বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে ও বিশ্বময় সংস্কৃতিকর্মীদের সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে অনুপ্রেরণা যোগাবে। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যে এক ও অভিন্ন তা পুরস্কারের শিরোনামে প্রস্ফুটিত হয়েছে। এ পুরস্কার বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ও ইমেজ বিল্ডিং-এ বিশেষ ভূমিকা রাখবে। জানা যায়, প্রতি দুই বছর অন্তর এই পুরস্কার দেওয়া হবে, যার অর্থমান ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। পুরস্কারটি প্রথমবারের মতো ২০২১ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সভা চলাকালে দেওয়া হবে। ইউনেস্কো তাদের কার্যক্রমে নারী-পুরুষ সমতা এবং যুব উন্নয়নকে নীতিগত প্রাধান্য দিয়ে থাকে। পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের অনগ্রসর নারী, অভিবাসী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সৃজনশীল অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ইউনেস্কো ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ আন্তর্জাতিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আগে ১৯৯৯ সালে, ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করার মাধ্যমেও ইউনেস্কো বাংলাদেশকে সম্মানিত করে। এছাড়া ষাট গম্বুজ মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এবং সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে এবং বাউল গান, জামদানি, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও শীতল পাটি বিশ্ব অপরিমেয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা ইত্যাদি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।