কমিউনিটি ভাবনা।…….
সমাজ বিজ্ঞানী T H Marshall বলেন, The welfare state is a form of government in which the state protects and promotes the economic and social well-being of the citizens.কল্যাণ রাষ্ট্র হ’ল একধরনের সরকার যার মধ্যে রাষ্ট্র নাগরিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মঙ্গলকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রচার করে।
কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণাটি বাস্তবায়িত হতে থাকে বিশ শতকে। যখন সমাজতান্ত্রিক কয়েকটি দেশে রাষ্ট্র যখন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার ভার নিল। এটা দেখে সামাজিক বৈষম্য পূর্ণ ইউরোপ ও আমেরিকায় পুঁজিবাদী দেশসমূহের নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় পরিবর্তন আসল। দেশের নেতা নেতৃত্ব ভাবল, আমরাও তো দেশের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আরো কিছু করতে পারি। এতে একে একে প্রবর্তন হল পশ্চাৎপদ নাগরিকদের জন্য বেকার ভাতা, বিনামূল্যে চিকিৎসা, শিক্ষা, এমনকি বাসস্থান পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের জোয়ারে সরকার ও শাসন পদ্ধতিতে আসল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এক প্রকার প্রতিযোগিতা শুরু হল, কে কার চেয়ে বেশী জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থা করতে পারে। সবার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়ে উঠল মানুষের জীবন জীবিকার উন্নয়ন তথা জনগোষ্ঠীর বা কমিউনিটির জীবনমান উন্নয়ন। দেশে দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠল কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা ও বাস্তবতা। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠারও মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের কল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়বিচার। এই মহান আদর্শের উপর ভিত্তি করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসন ব্যবস্থার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল আসলে সেই কল্যাণ রাষ্ট্র। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে কুচক্রীদের হাতে নিহত হলে কল্যাণরাস্ট্রের ধারাবাহিকতা থেমে যায়। কিন্তু কল্যান রাষ্ট্রের যে বীজ তিনি রোপন করেছিলেন দীর্ঘ কয়েক দশক পর মহাবৃক্ষ হয়ে তা আবারো ফুলে ফলে সুশোভিত হতে থাকে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তিনি এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রাইমারি স্কুলের কোটি কোটি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই, প্রবীণ ভাতা, বিধবা ভাতা, খাদ্য বিতরণ ইত্যাদির পাশাপাশি এখন গৃহহীনদের করে দিচ্ছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। দিচ্ছেন স্থায়ী আবাসন। এসবই কল্যান রাষ্ট্রের উদাহরণ। তিনি মুজিববর্ষে এবং স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তিতে সমস্ত গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রথম ধাপে ৭০ হাজারের মতো পরিবারের কাছে জমিসহ ঘরের দলিল হস্তান্তর করে সেই কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুজিববর্ষে আমরা গৃহহীনদের ঘর করে দেবো। সেই ঘোষণা শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি তার রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। আজকে(২৩ জানুয়ারি) একদিনে ৭০ হাজারের মতো ঘর তিনি উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে আজকে যারা ঘর পেয়েছে তারা কখনও ভাবেনি এই ধরণের একটি জমির মালিকানাসহ দুই রুমের একটি ঘর উপহার পাবেন। এই অভাবনীয় কাজ আজকে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা করেছেন। আমার জানা নেই পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এভাবে একই দিনে ৭০ হাজার পরিবারকে ঘর দেওয়া উদ্বোধন হয়েছে কিনা। বর্তমান সরকারের এই আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, দল ও রাজনৈতিক মতাদর্শের চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এখন অধিক পছন্দনীয় হয়ে উঠছে নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করা। জনকল্যাণই কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি। এই কল্যান রাষ্ট্র নির্মাণের নিশ্চয়তায় মানুষের তথা কমিউনিটির জীবন জীবিকা ও জীবনমান উন্নয়নে যিনি বা যারা কাজ করবেন বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তাদের সাথেই থাকবে।
………….
সরোয়ার আমিন বাবু।
সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।
চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরাম (সিআরএফ).
( কমিউনিটি ভাবনা, কমিউনিটি টিভির নিয়মিত বিভাগ। এ বিভাগে যা প্রকাশ করা হয়, তা লেখকের একান্ত নিজস্ব ভাবনা। যে কেউ লেখা পাঠাতে পারেন। কমিউনিটির জীবন জীবিকা ও জীবনমান উন্নয়ন বিষয় প্রাধান্য পাবে এ বিভাগে)। লেখা পাঠানোর ইমেইল communitytvnews@gmail.com)





















