KSRM
Home ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়ানদের কাছে ৯ মে। মহান প্যাট্রিওটিক যুদ্ধে বিজয়ের দিন।

রাশিয়ানদের কাছে ৯ মে। মহান প্যাট্রিওটিক যুদ্ধে বিজয়ের দিন।

0

আন্তর্জাতিক কমিউনিটি / নিউজ ডেস্ক :

পৃথিবীর প্রতিটি জাতির ও কমিউনিটির কিছু তাৎপর্যপূর্ণ দিন থাকে। রাশিয়ানদের কাছে ৯ মে হলো সেই ঐতিহাসিক একটি বিজয়ের দিন। ১৯৪৫ সালের এ দিনে তাঁরা হানাদার হিটলারের বাহিনীকে পরাজিত করেছিল খোদ জার্মানির অভ্যন্তরেই রাজধানী বার্লিনে। মহান প্যাট্রিওটিক যুদ্ধে বিজয়ী রাশিয়ানরা প্রতিবছর আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, কোভিড পরিস্থিতিতে সতর্কতার সাথে  এবারেও পুরো রাশিয়া জুড়ে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
মহান প্যাট্রিওটিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট :
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯৩৯ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও জার্মানির মধ্যে  অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পশ্চিমা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সেই  মলোটভ রিবেনট্রপ নামে ঐতিহাসিক চুক্তিটিকে বিশ্বের কুটনৈতিক ইতিহাসে একটি চমকপ্রদ ঘটনা বলে অভিহিত করেন। তারা বলেন সেটা ছিল রাশিয়ার  সামরিক কৌশলের বড় অর্জন । চতুর হিটলারকে ঘায়েল করার জন্য রাশিয়ার ধূর্ত  স্ট্যালিনের ছিল সেটা একটি কৌশল। স্ট্যালিন ঠিকই হিটলারকে চিনতে পেরেছিলেন। কারন স্ট্যালিন ঠিকই বুঝেছিলেন হিটলার একদিন রাশিয়া আক্রমণ করবে। তাই রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত করার জন্য স্ট্যালিন জার্মানির সাথে অনাক্রমণ চুক্তি করে কিছু সময়কে কাজে লাগান। পরবর্তীতে হিটলার ঠিকই কুটনৈতিক শিষ্টতা দলিয়ে মুছড়িয়ে  রাশিয়া আক্রমণ করে। ১৯৪১ সালের ২২ জুন  হিটলার  অপারেশন বারবারোসা নামে এক বৃহৎ  সামরিক অভিযানে সোভিয়েত রাশিয়া আক্রমণ করে । তথ্যমতে, সামরিক ইতিহাসের সেই বৃহৎ  অভিযানে ১৯টি প্যানযার ডিভিশন, ৩ হাজার ট্যাংক, ২৫০০ বিমান এবং ৭০০০  কামান  অংশ গ্রহণ করে। সর্বমোট ত্রিশ লক্ষ সৈন্যের সাথে ৬ লক্ষ মোটরযান এবং ৬-৭ লক্ষ ঘোড়া ব্যবহার হয়েছিল এই অভিযানে। সেদিন  ভোর ৪টায় প্রথম জার্মান ট্যাংক সোভিয়েত সীমান্তে প্রবেশ করে। আক্রমণের প্রথম দিনেই জার্মান বিমান বাহিনী ১ হাজার সোভিয়েত বিমান ধ্বংস করে দেয়। সোভিয়েত বাহিনীর প্রতিরোধ সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে জার্মান বাহিনী রাশিয়ার ৩০০ মাইল ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা সোভিয়েত ভূখণ্ডের বিস্তির্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর মস্কো দখলের কাছাকাছি পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। নাৎসী বাহিনী কয়েক মাসের মধ্যে কিয়েভ ও রস্তুভ-অন-ডনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগরী দখল করে নেয়। কিন্তু একপর্যায়ে রাশিয়ার দেশপ্রেমিক জনতা ও সামরিক বাহিনীর দৃঢ় ঐক্য ও কৌশলগত প্রতিরোধ যুদ্ধে হিটলারের বাহিনী পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে। সেই  মহান  প্যাট্রিয়টিক যুদ্ধে সোভিয়েত জনগণ তাদের জন্মভূমির স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করেছিল। যুদ্ধটি প্রায় প্রতিটি সোভিয়েত পরিবারে জন্য বয়ে এনেছিল ট্রাজেডি যার সমাপ্তি ঘটেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এই যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষকে হারায়।
সোভিয়েত রাশিয়া যেভাবে বিজয়ী হয়:
শক্তি উন্মত্ততায় মেতে উঠে যে হিটলার অপারেশন বারবারোসা নামে রাশিয়া আক্রমণ করে তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। রাশিয়ান রেডআর্মির  সমরকৌশল ও জনগনের সম্মিলিত প্রতিরোধ যুদ্ধ নাজি জার্মানির পতন ডেকে আনে। রাশিয়ানরা জার্মানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দেয়াল তৈরী করে শীতকাল পর্যন্ত প্রলম্বিত করে। এতে সাইবেরিয়ায় প্রচন্ড শীতের বরফে কয়েক লক্ষ জার্মান সৈন্য আটকা পড়ে।  খাদ্য ও আনুষঙ্গিক রসদ না হওয়ায় সেখানেই অনেক জার্মান সৈন্য মারা যায়। একপর্যায়ে তারা পিছু হটে। কিন্তু রাশিয়ানরা তাদের ধাওয়া করে জার্মানীতেই ঢুকে পড়ে। ১৯৪৫ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ২ মে, পর্যন্ত সোভিয়েত রেড আর্মি কর্তৃক জার্মানীর বার্লিন আক্রমণ ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি টেকসই এবং চূড়ান্তভাবে সফল পদক্ষেপ।মার্শাল  ঝুকভ, মার্শাল কনস্ট্যান্টিন রোকোসভস্কি,মার্শাল ইভান কোনেভ, জেনারেল ভ্যাসিলি চুইকভ এর নেতৃত্ত্বে, ২.৫ লক্ষ সোভিয়েত সেনার একটি বিশাল বহর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত  আক্রমনটি পরিচালনা করেছিল। মূলত এ আক্রমণের ফলে জার্মানীর রাজধানী বার্লিনের পতন ঘটে এবং সেই সাথে জার্মানির পরাজয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে যায়।
১ লা মে, ১৯৪৫ সালের ভোরবেলা সোভিয়েত রেড আর্মির জুনিয়র লেফটেন্যান্ট এ.পি.বেরেস্ট, সার্জেন্ট এম. ইগোরভ এবং  জুনিয়র সার্জেন্ট এম.কান্তারিয়া   জার্মানির রেইখস্ট্যাগে  সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের পতাকা উত্তোলন  করেন।
৮ ই মে ,১৯৪৫ এ, জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর শর্তহীন আত্মসমর্পণ সম্পর্কিত চুক্তি কার্লসহর্স্টে (বার্লিনের শহরতলি) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে  স্বাক্ষর করেন  সোভিয়েত রেড আর্মির মার্শাল ঝুকভ, ব্রিটিশ বিমানবাহিনী মার্শাল টেডার , মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্পাটস, ফরাসী সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল ডি ল্যাটার ডি টাসিগনি এবং জার্মান সেনাবাহিনীর পক্ষে ফিল্ড মার্শাল কেইটেল ,  অ্যাডমিরাল ভন ফ্রিডবার্গ এবং জেনারেল স্টাম্প। চুক্তিটি ৯ ই মে মস্কো সময় ০০:০১  মিনিট এ কার্যকর হয়। একই দিনে, সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্টালিন একটি ঘোষণা  জারির মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী জার্মানির বিরুদ্ধে মহান প্যাট্রিয়টিক যুদ্ধে বিজয়ের জন্য সৈন্যদের অভিনন্দন জানান।

….. তথ্য সূত্র : চট্টগ্রামে রাশিয়ার অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান ও কয়েকটি বিদেশি মিডিয়া।
স্পেশাল রিপোর্ট : সরোয়ার আমিন বাবু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here