আন্তর্জাতিক কমিউনিটি/পরিবেশ/নিউজ ডেস্ক:
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বড় অর্থনীতির বিভিন্ন দেশে। গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের কারণে দূষণ যেভাবে হচ্ছে তাতে চলমান শতাব্দীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। ২৬ অক্টোবর জাতিসংঘের এক রিপোর্টে এ তথ্য জানা গেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি ।
এই রিপোর্টে জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপদের কারণে মোট বার্ষিক গড় ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। ডব্লিউএমও বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বড় অর্থনীতির দেশ চীনের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরপরই ভারত ৮৭ বিলিয়ন, জাপান ৮৩ বিলিয়ন এবং দক্ষিণ কোরিয়া ২৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
রিপোর্টে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে আরো বলা হয়, গত প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে ঠিক হয়েছিল, তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির মধ্যে আটকে রাখতে হবে। কিন্তু তা হয় নি, বরং এ শতাব্দীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।
এদিকে জাতিসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশের প্রেক্ষাপটে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ৩১ অক্টোবর শুরু হতে যাচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ এ সম্মেলনে যোগ দেবে তিন এজেন্ডা নিয়ে। নিজেদের পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকি ফোরামের (সিভিএফ) প্রধান হিসেবেও সম্মেলনে ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ। জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনে বাংলাদেশ তিনটি দাবি তুলে ধরবে। প্রথম দাবি হলো, দূষণকারী দেশগুলোকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কার্যকর এনডিসি দিতে আহ্বান, দ্বিতীয় দাবি হলো জলবায়ু তহবিলের জন্য উন্নত দেশগুলোর বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের অঙ্গীকার পূরণ করা। এবং তৃতীয় দাবি হলো সবুজ প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান।
মোট ১৩ দিন চলবে এ সম্মেলন।
এতে সহ- আয়োজক হিসেবে থাকছে ইতালি। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে গত বছর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। এবারের আয়োজনে ১২০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
























