
ফ্রান্সে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম কমিউনিটির বসবাস। ফ্রান্সের জনসংখ্যা ৬ কোটি ৭০ লাখ। মুসলিমরা সেখানে মোট জনসংখ্যার ৫.৬%. সেখানে রয়েছে ৫১.১% খ্রিষ্টান, ৩৯.৬% ধর্মহীন, ০.৮% ইহুদি, ও ২.৫% অন্যান্য বিশ্বাস। ফ্রান্সের মুসলিমদের অধিকাংশই আলজেরিয়া, মরক্কোসহ উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত। উনিশ ও বিশ শতকে যেখানে একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ বা কলোনি ছিল। ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্স অনেকটা উদারপন্থী দেশ হওয়ায় মুসলমানদের আগমন সহজ ছিল। তাছাড়া মধ্যযুগে ইউরোপের স্পেনে মুসলিম আরব শাসন ও ইউরোপের আরেকটি অংশে মুসলিম তুর্কী শাসন থাকায় ফ্রান্সে উন্নত জীবনের আশায় মুসলমানদের আগমন ঘটে। ফ্রান্সের অর্থনীতি, বানিজ্য ও শিল্প উন্নয়নেও মুসলমানরা অবদান রাখছে। সেখানকার মুসলমানদের কারনেই ফ্রান্স মূলত ধনী আরব রাস্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের সাথে বানিজ্যিক যোগসূত্র সহজ করতে পেরেছে। যদিও ফ্রান্স এমন একটি দেশ যেখানে ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সার্বজনীন মানবাধিকার, উদার গনতন্ত্র, নাগরিকের সমানাধিকার ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক নজরে ফ্রান্সঃ পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ফ্রান্স। সরকারী নাম Republic of France . République Française [ʁepyblik fʁɑ̃sɛz] রেপ্যুব্লিক্ ফ্রঁসেজ়্ ) । এটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জাতিগুলির একটি। ফ্রান্স আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে থাকে। বিশ্বের প্রায় সর্বত্র এর প্রাক্তন উপনিবেশগুলি ছড়িয়ে আছে। আটলান্টিক মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর, আল্পস পর্বতমালা ও পিরিনীজ পর্বতমালা-বেষ্টিত ফ্রান্স বহুদিন ধরে উত্তর ও দক্ষিণ ইউরোপের মাঝে ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও ভাষাগত সংযোগসূত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। আয়তনের দিক থেকে ফ্রান্স ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। রাশিয়া ও ইউক্রেনের পরেই এর স্থান। আর জনসংখ্যার দিক থেকে এটি ইউরোপের চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র। ৬,৪০,৬৭৯ বর্গকিলোমিটার (২,৪৭,৩৬৮ বর্গমাইল)। মূল ভূখণ্ডের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ফ্রান্সের দশটি উপনিবেশ আছে, যেগুলি বেশির ভাগই প্রাক্তন ফরাসি সাম্রাজ্য থেকে পাওয়া। ফ্রান্সের কিছু আদর্শ ও নীতিমালা রয়েছে। যেমন, নীতিবাক্য: Liberté, égalité, fraternité লিবের্তে, এগালিতে, ফ্রাতের্নিতে। অর্থ হলো স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব। সঙ্গীত: La Marseillaise লা মার্সেইয়েজ । ভাষা ফ্রেঞ্চ বা ফরাসী। শিল্পকলা, সাহিত্যে ও ক্রীড়ায় ফরাসিরা অনেক সমৃদ্ধ ও এগিয়ে। জনগনের মধ্যে রয়েছে শান্তি ও মৈত্রী চেতনায় সহবস্থান নীতি। সেখানে ৮৯.৪% ফরাসি (জন্মসূত্রে), ৪.৪% ফরাসি(অর্জিত), ৬.২% বিদেশী এবং ৮.৯% অভিবাসী। রাজধানী প্যারিস পৃথিবীর অন্যতম একটি সুন্দর শহর। নেপোলিয়ানের দেশ ফ্রান্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। সামরিক জোট ন্যাটোর প্রভাবশালী সদস্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ফ্রান্স দেখতে মোটামুটি ষড়ভুজাকৃতির। এর উত্তর-পূর্বে বেলজিয়াম ও লুক্সেমবুর্গ, পূর্বে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও ইতালি, দক্ষিণ-পশ্চিমে অ্যান্ডোরা ও স্পেন, উত্তর-পূর্বে ইংলিশ চ্যানেল, পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তরে উত্তর সাগর, এবং দক্ষিণ-পূর্বে ভূমধ্যসাগর।
বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো জাতি-রাষ্ট্রের মধ্যে একটি হল ফ্রান্স। মধ্যযুগে ডিউক ও রাজপুত্রদের রাজ্যগুলি একত্র হয়ে একটিমাত্র শাসকের অধীনে এসে ফ্রান্স গঠিত হয়। বর্তমানে ফ্রান্স এর পঞ্চম প্রজাতন্ত্র পর্যায়ে রয়েছে। ১৯৫৮ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর এই প্রজাতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় প্রবণতার উত্থান এবং বেসরকারী খাতের উন্নয়ন এই নতুন ফ্রান্সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।ফ্রান্সের মুদ্রা ইউরো।পারমাণবিক শক্তির অধিকারী ফ্রান্স এখনো অভিন্ন ইউরোপকে আরো শক্তিশালী করার নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে । …………… তথ্য সূত্রঃ গোগল, উইকিপিডিয়া।
























