
বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় সবার মাঝে সম্প্রীতির মেলবন্ধন রচনা করে দুর্গা পূজা। সনাতন(হিন্দু) সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব হলেও আবহমান কাল ধরে এটি বাংলার সব কমিউনিটির মাঝে সৃষ্টি করে ভাতৃত্বের চেতনা। অহিংসাই পরম ধর্ম, এই আদর্শে সবাইকে এক করে অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধে ।
সনাতন কমিউনিটির সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত এই উৎসব। দুর্গাপূজা সমগ্র বিশ্বের সনাতন সমাজেই প্রচলিত। তবে বাঙালি সনাতন সমাজে এটি বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। বাংলা আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা করা হয়। আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। তবে শারদীয়া দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা বেশি।
দুর্গাপূজা বাংলাদেশ, ভারত,ও নেপাল সহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে থাকে। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হওয়ার দরুন বাংলাদেশসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে বেশ জাঁকজমক ভাবে পালিত হয়। এমনকি অসম,বিহার, ঝাড়খণ্ড,মণিপুর এবং ওড়িশা রাজ্যেও দুর্গাপূজা মহাসমারোহে পালিত হয়ে থাকে। তাছাড়াও পাশ্চাত্য দেশগুলিতে প্রবাসী বাঙালিরাও দুর্গাপূজা পালন করে থাকেন। বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে গ্রেট ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গ্রেট হলে ‘ভয়েসেস অফ বেঙ্গল’ মরসুম নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর অঙ্গ হিসেবে স্থানীয় বাঙালি অভিবাসীরা ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এক বিরাট দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। সেটির মাধ্যমে দুর্গা পূজা আন্তর্জাতিক কমিউনিটির মাঝে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী মহাসপ্তমী মহাষ্টমী মহানবমী ও বিজয়াদশমী নামে পরিচিত। বিজয়াদশমী বা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই উৎসব। দুর্গাপূজার এই উৎসবে বাঙ্গালী হিন্দু ( সনাতন) কমিউনিটির সাথে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ সব কমিউনিটির মানুষ শুভেচ্ছা বিনিময় করে। সার্বজনীন মৈত্রীময় আদর্শে গড়ে তুলে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন।
























