কমিউনিটি সেবা /
একসময় ছিলেন চীফ মেরিন ইন্জিনিয়ার। জাহাজ থেকে জাহাজে, দেশ থেকে দেশান্তরে বিশাল সমুদ্রে কেটেছে জীবনের বিরাট সময়। কত জনপদে দেখেছেন কত মানুষকে। কিন্তু মন পড়ে থাকত দেশের মানুষের মাঝে। নীলাকাশের নীচে লোনা বাতাসে বিশাল জলরাশির মাঝে স্বপ্ন উঁকি দিত দেশে ফিরলে মানুষের জন্য কিছু করবেন। একদিন ঠিকই ফিরলেন দেশে। মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে গড়ে তুললেন “দাদুন” নামে এক অন লাইন শপ। সময় কাটছে ব্যবসা ও কমিউনিটি সেবায়। সেই মানবিক ইন্জিনিয়ারের নাম মোহাম্মদ গোলাম জিলানী। এই করোনা দূর্যোগ আর লকডাউনের মাঝেও নিজের ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও পথশিশুদের জন্য কিছু করার। চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর এলাকায় আবাহনী মাঠের কাছে এইচ ব্লকে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, তার মানবিক কার্যক্রমের কিছু দিক। দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা আছে ” প্রতিষ্ঠানটির লভ্যাংশের একটি অংশ সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করা হয়। ”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনেকটা প্রচার বিমুখ ইন্জিনিয়ার গোলাম জিলানী বলেন, পলোগ্রাউন্ড স্কুলে ছাত্র জীবন থেকেই একটা স্বপ্ন ছিল সমাজের পশ্চাৎপদ অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু করা। একসময় সমুদ্রের হাতছানি ডেকে নিয়ে যায় কর্মজীবনে। সমুদ্র সমুদ্রে কেটেছে কত দিন আর রাত।দেশে দেশে কত জনপদে গিয়েছি,কত মানুষকে দেখেছি। কিন্তু আমার দেশের মানুষের জন্য কিছু করার জন্য যেন ডাক দিত কেউ। একসময় মহান
আল্লাহর রহমতে দেশেই ফিরলাম। পেশায় ইন্জিনিয়ার হওয়ায় পেশা সংশ্লিষ্ট কিছু করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার চিন্তা করতে করতে একসময় সিদ্ধান্ত নিলাম, এমন কিছু করব যা আমার ব্যবসার পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করা যায়। শেষ পর্যন্ত এই দাদুন অনলাইন শপ। অনলাইন শপিং অনেক নিরাপদ ও সহজ। তাছাড়া এই করোনা দূর্যোগে বেশীরভাগ কেনাকাটা হচ্ছে অনলাইনে। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করি অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু করা। গত মাসেও আমরা একসাথে অনেক পথশিশু ও দরিদ্র মানুষজনকে সাহায্য করেছি। দাদুন কাস্টমার ফোরামের উপদেষ্টা ডাঃ মোস্তফা, ক্যাপ্টেন জসিম সহ অনেকে এই মহতী কাজগুলো সমন্বয় করেন এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমেে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, মহান রব্বুল আলামীন আমাদের এই দান যেন কবুল করেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও কর্মসূচী গ্রহণের সক্ষমতা দান করেন।
আরো জানা যায়, মানবিক এইসব কার্যক্রমের পাশাপাশি গোলাম জিলানী এলাকায় কমিউনিটি সেবায় সম্পৃক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজেও ভূমিকা রাখেন। ভোরবেলায় ‘শতায়ু’ নামে এক সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের সুস্থ রাখতে ব্যয়াম ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। অনেকটা নীরবে নিভৃতেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করা ইন্জিনিয়ার গোলাম জিলানী বলেন, মানুষ বেশিদিন বাঁচে না। কিন্তু এই ছোট্ট জীবনে যার যার সামর্থ অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে অনেক কিছুই করা যায়। সামর্থ্যবানদের প্রচেষ্টায় পশ্চাৎপদ মানুষ সহ সমাজের সবাই সুখী হউক। গড়ে উঠুক এক মানবিক পৃথিবী।





















