কমিউনিটি হেরিটেজ /কমিউনিটি কালচার/নিউজ ডেস্ক:
আকাশ ও মেঘমালাকে ভালবেসে যে সব মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে হাজার বছর ধরে বসবাস করে আসছে তাঁরাই পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বা Hill Tribes নামে পরিচিত। সবুজ পাহাড়ের কোল বয়ে যাওয়া নদী হলো যেন তাঁদের জীবন জীবিকা আর সংস্কৃতির উপাদান। তাই গানে গানে নদীতে ফুল ভাসিয়ে বরন করে নেয় তাঁরা নতুন বছরকে। ফুল, নদী আর মানুষে একাকার হয়ে যে প্রাণোচ্ছল উৎসব, তাই বৈসাবি উৎসব। জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদে ১৩ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তবে প্রধান তিন নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা। বাংলা বর্ষ বিদায় ও নববর্ষ বরন উপলক্ষে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলো আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী এই উৎসবকে বলে বৈসুক। মারমারা বলে সাংগ্রাই। আর চাকমারা বলে বিঝু। বৈসুক থেকে বৈ, সাংগ্রাই থেকে সা এবং বিঝু থেকে বি, নিয়ে তারা নাম দিয়েছে ‘ বৈসাবি’। বৈসাবির মাধ্যমে তাঁদের মাঝে যেন ঐক্য, বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রকাশ পায়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সুন্দর সতেজ এক সকালে পাহাড়ি মেয়েরা ফুলে ফুলে আনন্দে মেতে উঠে। পৃথিবীর সকল মানুষের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় এবং নিজ পরিবার ও স্বজনদের সুখ সমৃদ্ধির জন্য তাঁরা নদীর পানিতে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করে। ছেলে মেয়েসহ সবাইকে নিয়ে কয়েকদিন ধরে চলে ফুল আর পানি উৎসব। একে অপরকে দেয় ফুল। একে অপরকে ছিটানো হয় পানি। ফুল আর পানিই যেন এই উৎসবের আকর্ষণীয় দিক। এবারে করোনা দূর্যোগ তাদের বৈসাবি উৎসব অনেকটা থামিয়ে দিলেও থামাতে পারে নি তাঁদের মনের আনন্দ উচ্ছলতাকে। তাই বান্দরবানে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অন্য দুই পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সীমিত আকারে এই বৈসাবি উৎসব পালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, অনেক আগে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলো আলাদা আলাদা ভাবে নববর্ষ উৎসব পালন করলেও ১৯৮৫ সাল থেকে তাদের বিভিন্ন সংগঠন সম্মিলিত ভাবে এটা ‘ বৈসাবি’ নাম দিয়ে এই উৎসব পালন করে। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব চলে প্রায় সপ্তাহব্যাপী । বৈসাবির আমেজে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে বসে জমজমাট আসর ও লোকমেলা। করা হয় বিশেষ রান্না ও পিঠাপুলি। আপ্যায়ন করা হয় অতিথিদের। চট্টগ্রামের স্থানীয় বাঙ্গালীরাও তাঁদের উৎসবে যোগ দিয়ে গড়ে তোলে সম্প্রীতির অপরূপ মেলবন্ধন। দূর দূরান্ত থেকে আগত পর্যটকরাও ছুটে আসেন এ উৎসব দেখতে । ধর্ম, বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে পাহাড়ি জনপদে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা।
……. স্পেশাল রিপোর্ট। সরোয়ার আমিন বাবু।






















