কমিউনিটি সেবা/কমিউনিটি সোশ্যাল এওয়ানেস/ নিউজ ডেস্ক :
প্রতিটি স্কুলেই নৈতিকতা ও মানবিকতা শেখানো হয়। কিন্তু সমাজের কিছু পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা সে সব স্কুলের আঙ্গিনা থেকে রয়ে যায় অনেক দূরে। দিনে আনা দিনে খেটে খাওয়া মানুষ, কুলি আর দিনমজুর সন্তানদের লেখাপড়া করানোর সময় এই ব্যস্থ সমাজের নেই। কে তাদের শেখাবে লেখাপড়া, নৈতিকতা, সততা আর মানবিকতা? কিন্তু প্রকৃতি যেন তার সন্তানদের কাউকে বঞ্চিত করতে চায় না। কারো না কারো উদ্যোগে ও উছিলায় গড়ে উঠে মানবিক সমাজ। পৃথিবীর এই পাঠশালায় কেউ না কেউ এগিয়ে আসে। অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবায় কিছু করার জন্য কিছু বিবেকবান মানুষও এ সমাজে আছে। তেমনি একজন বিবেকবান মানুষের নাম প্রফেসর ড. গাজী সালাউদ্দিন। একপ্রকার নীরবে নিভৃতেই তিনি সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর শিশু কিশোরদের শিক্ষা ও নৈতিকতা পাঠদানের জন্য গড়ে তুলেছেন ‘ নৈতিক স্কুল ‘। চট্টগ্রাম শহরের খুলশীতে গেলেই দেখা মেলে তাঁর সেই মানবিক স্কুলের। নগরীর ধনী আর অভিজাত শ্রেনীর মানুষের সারি সারি বিলাসবহুল অট্টালিকা সমৃদ্ধ এই এলাকারই এক জায়গায় যে একজন শিক্ষাবিদ, পথশিশু ও দিনমজুরের সন্তানদের মাঝে শিক্ষার আলো বিলিয়ে যাচ্ছেন তা অনেকেই জানেন না। কিন্তু করোনা দূর্যোগের এই দুঃসময়ে দুস্থদের এই পাঠশালায় ঠিকই প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দিতে পেরেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মমিনুর রহমান। সোমবার ( ২৬ এপ্রিল)জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: উমর ফারুকের তত্ত্বাবধানে নগরীর নৈতিক স্কুলে ১১০জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দেয়া হয়। এসময় ত্রাণ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া হক এবং প্রতীক দত্ত। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সাবেক প্রফেসর নৈতিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ডঃ গাজী সালাউদ্দিন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সীমিত পরিসরে সাধ্যমত চেষ্টায় ২০১৫ সালে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। বিকাল ৩টা থেকে ৬টা এখানে অবহেলিত পথশিশু, দিনমজুর, ঘরের আয়া ও বুয়ার সন্তানদের পাঠদান করা হয়। দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি সমাজের একটি পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। কিন্তু শিক্ষা সুযোগ নয়, অধিকার। এই অধিকার বঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব ও বিবেকবোধ থেকেই তাই আমি এই স্কুলের নাম দিয়েছি ‘নৈতিক স্কুল’। অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা শিশুরা এখানে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি এই পৃথিবীর বুকে যেন খুঁজে পায় ক্ষনিকের জন্য একখণ্ড আনন্দ উদ্যান।
…………………………………………………………….
……. স্পেশাল রিপোর্ট। সরোয়ার আমিন বাবু।
…….কমিউনিটি টিভির নিয়মিত সংবাদ কমিউনিটি সেবা। জনসেবা নিয়ে যে কেউ বা যে কোন সংস্থার কমিউনিটি নিউজ, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারেন
communitytvnews@gmail.com
























