Home কমিউনিটি বাড়ছে সবুজ স্থাপত্য। গড়ে উঠছে  সবুজ কমিউনিটি

বাড়ছে সবুজ স্থাপত্য। গড়ে উঠছে  সবুজ কমিউনিটি

0

গ্রিন কমিউনিটি/সবুজ/পরিবেশ প্রকৃতি/ নিউজ ডেস্ক :

সারা পৃথিবী এখন সবুজের দিকে। দূষণ মুক্ত পরিবেশ মানে সুস্থ জীবন, সুন্দর ও সবুজ পৃথিবী। সবুজায়নের  এই স্লোগানে বাড়ছে  গ্রিন আর্কিটেকচার বা সবুজ স্থাপত্য।  জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিন লিভিং। এর সাথে গড়ে উঠছে এক সবুজ কমিউনিটি। রাজধানী ঢাকা সহ সিলেট ও  বানিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহরের বেশ কয়েকটি নতুন আবাসন প্রকল্পে এমন সবুজ চিত্রের দেখা মেলে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ স্থপতিরা বলছেন, মানুষকে পরিবেশ সচেতন করে সবুজায়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটা ইতিবাচক দিক। নগরীতে খেলার মাঠ, সবুজ প্রান্তর, পুকুর, জলাশয় কমলেও সবুজের প্রতি মানুষের আবেগ ও ভালবাসা কমছে না। তবে এসব খেলার মাঠ, পুকুর, জলাশয়, পাহাড় সংরক্ষণ করেও বিল্ডিং স্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সবুজ স্থাপত্য বা গ্রিন আর্কিটেকচার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম চাপ্টারের চেয়ারম্যান স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, গ্রিন আর্কিটেকচার জটিল কোন বিষয় নয়, বরং সহজ ও সরল একটা বিষয়। একজন আর্কিটেক্ট যখন তাঁর মেধা, মনন ও প্রজ্ঞা দিয়ে বিল্ডিং ডিজাইন করেন,তখনই তিনি মনের মাধুরী মিশিয়ে এটিকে নান্দনিক ও পরিবেশ বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা তাই হলো গ্রিন আর্কিটেকচার বা সবুজ স্থাপত্য। আশেপাশে পর্যাপ্ত গাছপালা লাগানোর স্পেস রাখা, ইনডোর প্ল্যান্টস রাখার সুবিধার পাশাপাশি বিল্ডিং এর ভিতরে বাইরে প্রয়োজনীয়  আলো বাতাসের সহজ ব্যবস্থা রাখাও সবুজ স্থাপত্য।   তাছাড়া আমাদের মত ভূমিকম্প সম্ভাবনাময় অঞ্চলে বিল্ডিং ডিজাইন যেন প্রকৃতি বান্ধব হয়, সেটাও সবুজ স্থাপত্যের অন্যতম দিক। আশার কথা হলো আমাদের তরুণ স্থপতিরা এই সবুজ স্থাপত্য শিল্পে  অনন্য ভূমিকা রেখে  সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। একের পর এক শৈল্পিক ডিজাইনে সবুজ স্থাপত্য গড়ে তুলছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায় বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানি সবুজ স্থাপত্যে তাদের আবাসন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে। ক্লায়েন্টের চাহিদার দিকে লক্ষ্য করে  ইকুইটি,  ফিনলে প্রপার্টিজ, সানমার, এপিক, রেংকস এফসি গড়ে তুলছে এসব পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প। চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির পাশে রেংকস এফসির একটি আবাসন প্রকল্পে দেখা যায় সবুজায়নকে প্রাধান্য দিয়ে একটি নান্দনিক  স্থাপত্য। মেমোরি ৭১ নামে ১০ তলার বিল্ডিংটি গড়ে উঠেছে ভিতরে বাইরে  পর্যাপ্ত গাছপালা রেখে।

এ বিষয়ে কোম্পানিটির সিইও তানভির শাহরিয়ার রিমন  বলেন, আমাদের সব প্রকল্পই সবুজ স্থাপত্য শিল্পে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। এই মেমোরি ৭১ প্রকল্পটিও গড়ে তোলা হয়েছে সবুজকে টিকিয়ে রেখে। তিনি বিল্ডিং এরিয়ার লাগোয়া একটি বড় গাছ দেখিয়ে বলেন, এই গাছটি বাঁচানোর জন্য ছিল আমাদের কত প্রচেষ্টা। শেষ পর্যন্ত আমাদের স্থপতিরা গাছটিকে বাঁচিয়ে রেখেই বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি আরো কিছু গাছ লাগিয়েছেন। সৃজন করেছেন দৃষ্টিনন্দন ছোট  বাঁশ বাগান। তিনি আরো বলেন, বিল্ডিংটির চট্টগ্রামে তো বটেই পুরো বাংলাদেশেই নির্মিত প্রথম কোনো আবাসিক স্থাপনা যেখানে গ্রাউন্ড থেকে ৯ তলা পর্যন্ত ৯৫ ফুট দীর্ঘ ভার্টিক্যাল গার্ডেন করা হয়েছে । এই গার্ডেনে এমএস ফ্রেমে জিওটেক্স পটে  মাটি দিয়ে লাগানো হয়েছে হলুদ এবং সবুজ মনস্টেরা । এর মেইনটেনেন্স, সেনিটারি সল্যুশন, লাইটিং সল্যুশন দেয়া হয়েছে অটোমেশন এর মাধ্যমে । গ্রিন আর্কিটেকচার কনসেপ্টে  ছয় ঋতুর কথা মাথায় রেখে বিল্ডিং ডিজাইন করা হয়েছে যেখানে দিনের বেলায় কোনো ফ্লাটে লাইট জ্বালাতে হবেনা । এছাড়া প্রকল্পে খোলা ছাদে হুকাচুয়া গাছ দিয়ে চমৎকার গ্রিন এমবিয়েন্স তৈরী করা হয়েছে । এই ছাদ লাগোয়া বিজনেস লাউঞ্জ এবং ফিটনেস সেন্টার একটি অভিনব প্রচেষ্টা Ranks FC  এর । প্রকল্পটিতে ভার্টিক্যাল গার্ডেনটি রেইন ফরেস্ট এর রুপ নেয় রাত বাড়ার সাথে সাথে । একটি নির্দিষ্ট সময়ে নেমে আছে বৃষ্টির ধারা । দক্ষিণা মৃদু  বাতাসে সবুজের মেলবন্ধনে একাকার হয়ে  সৃষ্টি করে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক এক আবহ।

বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচীর অন্যতম অর্গানাইজার তানভীর শাহরিয়ার রিমন আরো বলেন, বানিজ্যিক দিক ছাড়িয়ে মানুষের সুপ্ত, সুস্থ, সুন্দর ও সবুজ স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সব উদ্যোগ। এজন্য পুরো বিল্ডিং জুড়ে আছে  প্রশস্ত সিড়ি,  অত্যাধুনিক লিফট,  টপ ফ্লোরে কমিউনিটি মিট টুগেদার  পয়েন্ট, জিম। টবে আছে কাঠগোলাপ সহ হরেক রকমের গাছ।  বিশেষজ্ঞ স্থপতি ছাড়াও আমাদের একঝাঁক তরুণ সৃষ্টিশীল স্থপতি এই সবুজ স্থাপত্য নির্মাণে  ভূমিকা রেখেছেন   স্থপতি রাহাত ইসলাম, তাসনিয়া তারান্নুম তারিক, মো. মনির হাসান, শৈবাল রক্ষিত। তাঁদের কর্ম প্রচেষ্টায় আমরা আরো সবুজ স্থাপত্য নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের মাঝে সবুজ চেতনা বিকাশের মাধ্যমে গড়ে উঠছে এক গ্রিন কমিউনিটি।
নির্মাণ শিল্পে জড়িত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিন কমিউনিটি গড়ে উঠার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রিন কনস্ট্রাকশন। শুধু গাছপালা লাগানো ও পরিচর্যা মানে গ্রিন নয়। এর সাথে আছে পুরনো পদ্ধতিতে বানানো ইটের পরিবর্তে আধুনিক ও  বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বানানো পরিবেশ বান্ধব ইট, কংক্রিটের ব্লক, সিমেন্ট, রড ও রং এর বিষয়গুলো জড়িত। তাছাড়া শিশুদের ছুটাছুটি ও খেলার ব্যবস্থা, আলো বাতাসের মাধ্যমে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকা, ছোট বড় জলাধার ইত্যাদিও সবুজ স্থাপত্যের বিষয়।

আশার কথা হলো, সারা বিশ্বে পরিবেশ সচেতনতার ঢেউ আমাদের দেশেও প্রভাব ফেলছে। বর্তমান সরকারও পরিবেশ বান্ধব নির্মাণ শিল্পে উৎসাহিত করছে। তাঁরা বলেন, মানুষ চায় তাঁর পরিবার পরিজন, শিশুদের নিয়ে একটি সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ আবাসনে জীবন অতিবাহিত করা। তাঁদের এই মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে ডেভেলপার কোম্পানিগুলো পরিবেশ বান্ধব আবাসন তথা সবুজ আবাসনে মনোযোগী হচ্ছে। এই সবুজ উদ্যোগ  সামাজিক আন্দোলনে রুপ নিয়ে  সবার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে বিখ্যাত সব কর্পোরেট কোম্পানি, শিল্প গ্রুপ ও নির্মাণ  প্রতিষ্ঠান। তারা উৎপাদন করছে পরিবেশ বান্ধব ইলেকট্রনিকস পণ্য হতে শুরু করে  জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় সব আইটেম। বাস্তবায়ন করছে  পরিবেশ বান্ধব সব গ্রিন কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট।  সুস্থ ও নিরাপদ  জীবনের জন্য  পরিবেশ বান্ধব উন্নত জীবন ধারার মাধ্যমে গড়ে উঠছে এক নতুন গ্রিন কমিউনিটি।

…….. স্পেশাল রিপোর্ট। সরোয়ার আমিন বাবু।
( পরিবেশবান্ধব জীবন যাপন ও সবুজ বিষয়কে  বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে কমিউনিটি টিভি। গ্রিন কমিউনিটি নিয়ে যে কোন লেখা, ফিচার ও কলাম যে কেউ পাঠাতে পারেন communitytvnews@gmail.com  এই ই মেইলে।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here