KSRM
Home ইন্টারন্যাশনাল আরাকানে ফিরে যেতে বিদেশী মিডিয়ায় সক্রিয় রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা।

আরাকানে ফিরে যেতে বিদেশী মিডিয়ায় সক্রিয় রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা।

0

 

বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম ভাগ্যবিড়ম্বিত এক জাতিগোষ্ঠীর নাম রোহিঙ্গা। ২০১৩ সালে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু কমিউনিটি হিসেবে উল্লেখ করলে তারা বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়ায় আলোচিত হতে থাকে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীন বার্মা রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকে নিজভূমে নির্যাতনের মুখে ১৯৭০ থেকে এ পর্যন্ত ১৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন৷ তারা এখন বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই মুসলিম হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু রয়েছে। জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি সূত্র ও তথ্যমতে, বাংলাদেশে এখন প্রায় ১৩ লাখ, ভারতে ৪৫ হাজার, পাকিস্তানে ২ লাখ, নেপালে ২ শত, থাইল্যান্ডে ১ লাখ, মালয়েশিয়ায় ৫৯ হাজার, ইন্দোনেশিয়ায় ১২ হাজার, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ হাজার রোহিঙ্গা কমিউনিটির বসবাস। এছাড়াও বৃটেন, ইইউ,জাপান, সিংগাপুর, কোরিয়া, সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য সহ কয়েকটি দেশে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন পরিবেশে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ধনী ও প্রতাপশালী বলে জানা গেছে। বিভিন্ন রোহিঙ্গা কমিউনিটির সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনকেও তারা সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন। তবে প্রবাসী হওয়ায় তাদের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। গনতন্ত্র ও মানবাধিকারের পীঠস্থান নামে পরিচিত বৃটেনে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা তাদের অধিকার নিয়ে বেশ সক্রিয়। আল জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন, জার্মান ডয়েশ ওয়ার্ল্ড এর মত বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়ায় তাদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। এমনকি বৃটেনের লন্ডন এবং আমেরিকার শিকাগো ও নিউইয়র্কে তারা গড়ে তুলেছে তাদের নিজস্ব কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। যেখানে তারা নিয়মিত তাদের রোহিঙ্গা কমিউনিটির খবরাখবর ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। সরাসরি সংযোগ বা লাইভ ইভেন্টেও সক্রিয় তারা। দেখা যায়, তাদের প্রায় সবাই উচ্চ শিক্ষিত ও আধুনিক চিন্তা চেতনার অনুসারী। ইন্টারনেট অনলাইন টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে তারা সারা ইউরোপ, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রোহিঙ্গা কমিউনিটির মাঝে প্রচারনা চালায়। ইংরেজি ও বাংলাদেশের চট্টগ্রামের ভাষায় তারা যোগাযোগের চেষ্টা করে। তবে চট্টগ্রামের ভাষা মিল থাকায় তাদের মাতৃভাষা সবার মাঝে বেশ কৌতুহল সৃষ্টি করে। চট্টগ্রামের যে কেউ তাদের ভাষা ভাল করেই বুঝে। এজন্য রোহিঙ্গাদের অনেকে চট্টগ্রামের মানুষ হিসেবে ভুল করে বসে। লন্ডন থেকে প্রচারিত বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ( BROUK) নামক এক সংগঠনের প্লাটফর্মে দেখা যায়, টান থিন নামে এক যুবক এটির প্রধান কর্নধার হিসেবে আছেন। ফেইসবুক লাইভে তিনি কিছুক্ষণ ইংরেজি ও কিছুক্ষণ চট্টগ্রামের ভাষায় কথা বলছেন । তার নেতৃত্বে আকিলা নামে আরেকজন রোহিঙ্গা তরুণী মডারেটর হিসেবে লাইভ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন। তবে পুরোপুরি স্মার্ট এই তরুণী ইংরেজি ভাষায় সবার সাথে যোগাযোগ করে লাইভ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন কয়েকজন ব্রিটিশ সাংবাদিক, মানবাধিকার নেতা ও কর্মী। উল্লেখ্য, বর্তমানে মিয়ানমার নামকরণ হলেও একসময়কার ব্রিটিশ উপনিবেশ বার্মাকে ব্রিটিশরা এখনো বার্মাই বলে থাকেন । বিবিসি সহ তাদের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও এই প্রবনতা দেখা যায়। তাছাড়া কাতার ভিত্তিক আল জাজিরা টিভি চ্যানেলেও টান থিন নামের রোহিঙ্গা যুবনেতা লন্ডনে বসে লাইভ মতামত দিচ্ছেন নিউজে। সেখানে তিনি জোরালো ভাবে বলছেন, রোহিঙ্গারা অবশ্যই তাদের জন্মভূমি আরাকানে পূর্ন নাগরিকত্ব ও পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে ফিরে যাওয়ার অধিকার রাখেন। তারা শান্তি পূর্ণ ভাবেই যেন ফিরে যেতে পারেন, সেজন্য তিনি আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সমর্থন কামনা করেন। অন্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে আরেকজন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা একসময় কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আরাকান আমাদের মা, মাটি ও স্বদেশ। অন্য সবার মত আমরাও সেখানকার বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে চাই। । সেখানে হেসে খেলে দৌড়তে চায় আমাদের শিশুরা। বার্মার সব মানুষকেই ভালবাসতে চাই আমরা। বুকে জড়িয়ে রাখতে চাই আরাকানের মাটি, ফসল, বন, বনানী, গাছপালা, নদী,পাহাড়, সাগর আর বিস্তীর্ণ দিগন্ত। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর উড়ন্ত পাখীকে ভালবেসে মুক্ত কন্ঠে গান গাইতে চাই কালাদান নদীর অববাহিকায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here