কমিউনিটি কালচার / শিল্প সংস্কৃতি / নিউজ ডেস্ক :
প্রতি পূর্নিমার মধ্যরাতে একবার আকাশের দিকে তাকাই।গৃহত্যাগী হবার মত জ্যোৎস্না কি উঠেছে ?
এমন প্রশ্ন করতেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ। তার প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজেই দিতেন তার কবিতায়। বলতেন, আমি সিদ্ধার্থের মত গৃহত্যাগী জ্যোৎস্নার জন্য বসে আছি।
যে জ্যোৎস্না দেখামাত্র গৃহের সমস্ত দরজা খুলে যাবে- ঘরের ভেতরে ঢুকে পরবে বিস্তৃত প্রান্তর।
প্রান্তরে হাঁটব, হাঁটব আর হাঁটব-……..

জোছনার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি লিখেছেন অনেক কবিতা,গল্প। জোছনা ও জননীর গল্প নামে তাঁর রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিখ্যাত একটি উপন্যাসও। জোছনা রাত উপভোগ করার জন্য নুহাশপল্লীতে গিয়ে সময় কাটাতেন তিনি। এটাকে বলতেন তিনি জ্যোৎস্না বিলাস। সবুজ ঘাসের ওপর হেঁটে হেঁটে জোছনা দেখতেন আর মুগ্ধ হয়ে ভাবতেন। হুমায়ুন আহমেদের অসাধারণ আরেকটি উপন্যাস জল জোছনা। কাকতালীয়ভাবে জলের মাঝে সেই রোমান্টিক জোছনা দেখা গেল চট্টগ্রামের লালদীঘিতে। সেই জোছনায় বিমোহিত হলেন উপস্থিত সবাই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের এমন জ্যোৎস্না উৎসব এর নান্দনিক আয়োজনে বিমুগ্ধ সবাই। তার মেধা ও মননে এমন শৈল্পিকতা ও রুচিশীলতা দেখে সবাই তার প্রতি আবারও শ্রদ্ধাবনত হয়ে গেলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল তার প্রতিক্রিয়ায় বলেই ফেললেন, বিত্তের শহর চট্টগ্রামকে চিত্তের শহরে রুপ দেওয়ার খোরশেদ আলম সুজনের একটি প্রয়াস এই জ্যোৎস্না উৎসব। ঐতিহাসিক এই লালদিঘি ও এর পার্শ্ববর্তী মাঠ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মৃতি স্মারক। এমন একটি ঐতিহাসিক স্থানে এই জ্যোৎস্না উৎসবে পূর্নতা পেয়েছে চট্টগ্রাম একটি শিল্প সংস্কৃতির শহর হিসেবে। প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ শহরের আছে সমৃদ্ধ অতীত ও ঐতিহ্য। শুধু ব্যবসা বানিজ্য ও বিত্তের শহর নয়, চট্টগ্রাম হোক চিত্তের শহর। তৎকালীন জমিদার রায় বাহাদুর রাজ কুমার ঘোষ লালদীঘির পাশের এই একখণ্ড জমিটি দিয়েছিলেন পার্ক করার জন্য। আমাদের ইতিহাসের অংশ এই লালদিঘীকে আমরা সংস্কার করেছি। পাশের লালদীঘি মাঠে ছয় দফা উত্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আশেপাশের শহীদ মিনার, মুসলিম হল, লাইব্রেরি, বিস্তীর্ণ মাঠ, পুকুর, পার্ক হবে আমাদের সংস্কৃতির চর্চা কেন্দ্র। এই জ্যোৎস্না উৎসবের আয়োজন করে আমরা এ শহরের মানুষদের দেখাতে চাই চাঁদের অনিন্দ্য জোছনা। আমরা চাই এ জোছনা যেন সবার অন্তরে গন্ধসুধা ঢালুক। সোমবার এখানে হবে কবিতা উৎসব ও পিঠা উৎসব। যাপিত জীবনের মাঝে ক্ষনিকের জন্য মানুষকে একটু শিল্প মনা করে তুলবে এই জোৎস্না উৎসব। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম মোহিত উল আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার। জ্যোৎস্না নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব ছড়াকার আলেক্স আলীম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বিদ্যুৎ বড়ুয়া, নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু, আবৃত্তি শিল্পী মিলি চৌধুরী। তারা বলেন, গগন থেকে নেমে এসে অবারিত জোৎস্নার প্লাবন উছলে পড়েছে যেন লালদীঘির জলে।
নগর যন্ত্রণার যতসব দুঃখ কষ্ট ভুলিয়ে দেয় এই মায়াবী জল জ্যোৎস্না।
……….. স্পেশাল রিপোর্ট।
সরোয়ার আমিন বাবু।
চট্টগ্রাম।























