কমিউনিটি হেরিটেজ/কালচার/নিউজ ডেস্ক :
বসন্তের হাওয়ায় পুরো এপ্রিল জুড়ে হালকা গোলাপি (পিংক) আর সাদা চেরী ফুলে ভরে যায় জাপানের বিস্তীর্ন প্রান্তর। এসময় চেরী ফুলের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে জাপানিরা। করোনা হানা দিলেও এতটুকু দমাতে পারে নি তাদের। চেরী ফুলের সৌন্দর্যও এতটুকু কমে নি। বরং প্রকৃতি তার শৈল্পিকতা দিয়ে এবারে যেন আরো বেশী করে সাজিয়ে দিয়েছে ফুল আর সবুজের দেশ জাপানকে। বিভিন্ন সূত্রে রেকর্ড অনুযায়ী জাপান স্মরণকালের ইতিহাসে এবারেই সবচেয়ে বেশী চেরী ফুলে সুশোভিত হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলেও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে এটা হতে পারে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে জাপানিদের জীবনযাত্রা ও যাতায়াত সীমিত করলেও চেরী ফুলের প্রতি ভালবাসা কমাতে পারে নি। কারন জাপানি কমিউনিটিতে এটি প্রায় ১২ শত বছরের ঐতিহ্য। সরকার তাই দেশের জনপ্রিয় স্পটগুলোতে দলবেঁধে সমাবেশ বন্ধ করলেও মানুষের আগমন একেবারে বন্ধ করে নি। দলবেঁধে খাবার, পিকনিক ও হৈ-হুল্লোড় নিষিদ্ধ হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যার যার মত করে নাচ,গান আর ফটো সেলফি তাদের আনন্দ উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজধানী টোকিওর পার্কগুলোতে এবারে আলোকসজ্জা না হলেও নাগরিক সুরক্ষার জন্য দায়িত্বরত প্রহরীরা বেশ সজাগ কোন সমাবেশ যেন না হয়। তবে তাদের চোখে মুখেও সাকুরা উৎসবের আনন্দ।
জাপানিদের কাছে সাকুরা নামে পরিচিত চেরী ব্লসম সারা পৃথিবীর বেশ কয়েকটি শীত প্রধান দেশে সমাদৃত। রং, ঢং আর সৌন্দর্যে মিল থাকায় জাপান, চীন এবং রাশিয়ার চেরী গাছগুলিকে সেরাসাস প্রজাতির বলা হয়। ১৯১২ সালে জাপান বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে চেরী ফুলকে ছড়িয়ে দেয়। সেই থেকে আমেরিকার অনেক জায়গায় প্রস্ফুটিত চেরী ফুল জাপান – আমেরিকার সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বই যেন প্রকাশ করে। চেরী ফুলের জন্য বিখ্যাত জাপান যেন তার ভালবাসা ছড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন, লন্ডন , ভ্যানকুভার, প্যারিস, স্টকহোম এবং স্পেনের জের্ত ভ্যালি এর মতো বিভিন্ন অঞ্চলে। সেখানেও এখন প্রতি বছরে চেরি ফুল উৎসব পালিত হয়। হাজার বছর ধরে জাপানি সংস্কৃতিতে চেরী বা সাকুরার রয়েছে শক্তিশালী প্রভাব। কবিতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবনাচারে চেরী বিমূর্ত হয়েছে ভঙ্গুর জীবন, মৃত্যু আর পুনর্জন্মের প্রতীক।
…….. স্পেশাল রিপোর্ট।
সরোয়ার আমিন বাবু।






















