স্পোর্টস /নিউজ ডেস্ক :
ইউরোপের অন্যতম সেরা লীগ লা-লীগা তে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার জিদান মিয়া। হ্যাঁ, শুনতে গল্পের মতো ঠেকলেও বিষয়টা সত্যি। লা লীগার ক্লাব রায়ো ভায়াকানো তে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিদান মিয়া নিজেই। ক্লাব ম্যানেজমেন্টের সাথে চুক্তি সম্পাদনের ছবি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট করে দোয়া চেয়েছেন সকল ভক্তদের কাছে এবং ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁর এতোদিনের পথচলায় পাশে থেকে সাপোর্ট করে যাওয়া প্রত্যেককেই।
২০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের জন্ম যুক্তরাজ্যের কেন্ট শহরে। তাঁর পিতা সুফিয়ান মিয়ার পৈত্রিক বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার উপজেলায়।
সুফিয়ান মিয়া তার স্ত্রী শিফা মিয়া সহ দুই কন্যাকে নিয়ে স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যের স্হায়ী নাগরিকত্ব পান একবিংশ শতাব্দীর আগেই। জিদানের বাল্যকালের ফুটবল মিশন শুরু হয় ডেভিড ব্যাকহাম এর ফুটবল একাডেমি তে।যেখানে আরো অনেক শিশুর মতো জিদান মিয়ার সাথে অনুশীলন করতো ডেভিড ব্যাকহামের ভগ্নীপুত্র ফ্রেডি।
সেখানে ২ বছর নিজের ফুটবল প্রতিভা বিকশিত করে জিদান যুক্তরাজ্য ও ওয়েলস্ এর ডুলউইক হ্যামলেট এফ সি,প্রো টাচ্ স্যোসার একাডেমি ও স্যোসার এলিট এফ সি’র মতো নামকরা একাডেমি তে খেলেন।
১১ বছর বয়সে জিদান যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে এবং খেলেন কলম্বাস ক্রিউ অনুর্ধ-১৪, এরিক এফ সি’র মতো দলে।
এরপরে জিদান আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসে একজন পেশাদার ফুটবলার হয়ে।রায়ো ভায়োকানা তে যোগদানের আগ পর্যন্ত তিনি ব্রমলি এফ সি অনুর্ধ-২৩ দলে খেলতেন।গতমাসে রায়ো ভায়োকানা তে ট্রায়াল মিশনে নিজেকে প্রমান করে ফাইনাল চুক্তি করেন স্পেনের এই ক্লাবের সাথে।
রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ এর পরে ঐতিহাসিকভাবে রায়ো ভায়োকানা কেই মাদ্রিদের জনপ্রিয় ক্লাব বলে আখ্যায়িত করা হয়।
উল্লেখ্য যে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ এর স্পেনিশ তারকা ফরওয়ার্ড দিয়াগো কস্তা ২০১২-১৩ মৌসুমটা খেলেছেন ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই রায়ো ভায়োকানা তেই।১৬ ম্যাচ খেলে করেছেন ১০ টি গোল।আপাতত রায়ো ভায়োকানা’র সি টিমের সাথে অনুশীলন করবে জিদান মিয়া।রায়ো ভায়োকানার ২৩ সদস্যের মূল দলে জায়গা করতে প্রথমে কোচ এন্ডোনি আইরাওলা’র মন জয় করতে অনুশীলনে ভালোই কাঠ-কড় পোড়াতে হবে এটা অজানা নয় ২০ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের।
আপাতত জিদানের মনোযোগ অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়ে দলের নিয়মিত একজন সদস্য হয়ে ওঠা।তারপর সুযোগ পেলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিমে খেলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনিও হাটতে চান জামাল ভূঁইয়া ও তারিক কাজি দের দেখানো পথে।ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়া এখন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফুটবল টিমের অধিনায়ক আর ২০২০ এর শেষের দিকে ফিনল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসা তারিক কাজি ও এখন বাংলাদেশের রক্ষণভাগের বড় ভরসা। তারা দুজনেই ইউরোপের প্রাচুর্য্যে ভরা লীগ ফেলে দেশে এসেছেন এক অব্যক্ত মায়ার টানে। সম্প্রতি কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রি-দেশীয় আয়োজনে কিরগিজস্তান ও ফিলিস্তিন এর বিপক্ষে ম্যাচের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন আরো দুজন প্রবাসী।
তারা হলেন কানাডা প্রবাসী রাহবার ওয়াহেদ এবং ফ্রান্স প্রবাসী তাহমিদ ইসলাম। ফ্রান্স ও কানাডায় তাদের খেলার ধরন নজর কেড়েছে বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে’র। এখন উঠতি তরুণ জিদান মিয়া ও বস জেমি ডে এর নজরে আসাটা কেবলমাত্র সময়ের দাবি।
……… রাকিবুল হাসান জোবায়ের।
স্পোর্টস রিপোর্টার।
























