
নিউজ ডেস্ক: সাম্পান হলো একধরনের নৌকা, যা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ঐতিহ্য। বঙ্গবন্ধুর পছন্দ ছিল নৌকা। যে নৌকা পরবর্তীতে হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার প্রতীক। সেই ঐতিহ্যবাহী সাম্পানকে নিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাম্পান খেলা। ক্রীড়া ক্ষেত্রে যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠবে ক্রীড়া জগত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী “মুজিব শতবর্ষ ২০২০” উপলক্ষে আয়োজন হতে যাচ্ছে সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলা।আয়োজক চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। কর্ণফুলী ও দেশের নদ নদী দখল দূষণমুক্ত করতে জনসচেতনতা সৃষ্টির করতে এ ব্যাপক অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। সাম্পান খেলায় অংশগ্রহণকারী মাঝিদের স্থান নির্ধারণী ড্র উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর দুপুরে সিজেকেএস হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রাণের প্রতীক নৌকা। তার সেই অনুভূতিকে সম্মান জানাতে চট্টগ্রামের অহংকার সাম্পান খেলা আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আশা করবো সবার সম্মলিত প্রচেস্টায় এই আয়োজনকে শতভাগ সফল হবে। মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, কর্ণফুলী ব্যবহারকারী ও সাধারণ জনগনকে নদী দখল দূষণ বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। দেশের অর্থনীতির সঞ্চালক কর্ণফুলী এখন দখল দূষণ ভরাটসহ বহুমুখি সমস্যায় জর্জরিত। চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবী কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত হোক। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগও তাই কামনা করে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন “মুজিব শতবর্ষ ২০২০” উপলক্ষে আয়োজিত ক্রীড়া বিভাগের চেয়ারম্যান লায়ন দিদারুল আলম চৌধুরী । দেশে চলমান করোনা মহামারী কালে অনেক চিন্তা করে এই অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের চরপাথরঘাটা এলাকা থেকে উত্তর পাড়ের অভয়মিত্র ঘাট এলাকার তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাম্পান খেলা অনুষ্ঠিত হবে। যে কারনে খেলা দেখতে মানুষের নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে সাম্পান খেলা দেখার সুযোগ পাবে।
গত বিশ দিন ধরে এই অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালানো হয়েছে। যে কারনে এবার সর্বাধিক ১৩জন সাম্পান মাঝি ও তার দল খেলায় অংশ গ্রহন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কর্ণফুলী একটি ব্যস্ত নদী পাশাপাশি দশটি সাম্পান বাইচে অংশগ্রহণ করতে বড় স্থান প্রয়োজন। যে কারনে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে দশজন মাঝি ও তাদের দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলো হলো হলেন, চট্টগ্রাম ইছানগর বাংলাবাজার সাম্পান মালিক কল্যাণ সমিতি, ইছানগর সদরঘাট সাম্পান মালিক কল্যাণ সমিতি, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতি, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, পুরাতন ব্রিজঘাট ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী সমিতি, মালেক শাহ দ্বীপ কালা মোড়ল সমিতি শিকলবাহা, আহমদ উল্লাহ শাহ, শিকলবাহা ইব্রাহিম মাঝির বাড়ি, মোহাম্মদ তারেক মাদ্রাসা পাড়া, শেখ আহমদ মাঝি শিকলবাহা, নুর মুহাম্মদ, সদরঘাট সাম্পান মালিক সমিতি। অনুষ্ঠান সূচি হলো, সাম্পান শোভাযাত্রা স্থানঃ অভয়মিত্রঘাট থেকে কর্ণফুলী সেতু। তারিখঃ ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টা উদ্বোধক : মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।
“সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলা ২০২০” স্থানঃ অভয়মিত্রঘাট (নেভাল টু) তারিখঃ ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকাল ৩ টা প্রধান অতিথিঃ তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। সংবাদ সম্মেলন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরাম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলীউর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, হাসান মাহমুদ হাসনি, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মশিউর রহমান, ত্রান ও সমাজ কল্যান সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো: আবু তাহের, সদস্য মোহাম্মদ বেলাল,কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যান সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এম পেয়ার আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি জাফর আহমদ, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন আবু। প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনকারী মাঝিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ ইউসুফ, শেখ আহমেদ মাঝি, আবদুল মালেক, হাজি মাননুর রশিদ, মোহাম্মদ রাশেদ, নুরুল আমিন, আবু তাহের মাঝি, সজল দাশ প্রমুখ।
























