KSRM
Home ইন্টারন্যাশনাল “প্রতিবেশীই প্রথম” নীতিতে ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভারসাম্যপূর্ন নীতিতে বাংলাদেশ।

“প্রতিবেশীই প্রথম” নীতিতে ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভারসাম্যপূর্ন নীতিতে বাংলাদেশ।

0

আন্তর্জাতিক কমিউনিটি /কমিউনিটি ডিপ্লোম্যাট/ নিউজ ডেস্ক :

” আমাদের ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব। এই অংশীদারিত্বকে আরও গভীর এবং আরও বিস্তৃত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অনন্য উন্নয়নযাত্রায় আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।” বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগে এক টুইটে এমনটিই মন্তব্য করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বাংলাদেশের সঙ্গী হতে আজ সকালে ঢাকায় আসা বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদযাপন ঘিরে মোদীর এই সফর হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানাদিক নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা বলছে উভয় দেশের সরকার। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে নরেন্দ্র মোদীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাকে স্বাগত জানানো হয় ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে।
এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শেখ হাসিনা অভ্যর্থনা মঞ্চে পৌঁছালে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল গার্ড অব অনার দেয়। জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে মুজিববর্ষের আয়োজনে মোদীর উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল। মহামারী শুরুর পর গত এক বছরের মধ্যে সেই বাংলাদেশেই তিনি প্রথম সফরে এলেন। প্রতিবেশী দেশের এই সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। টার্মিনালের উপরে এবং সামনে ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকার সজ্জা। ভিভিআইপি টার্মিনালের দুই পাশে দুই সরকার প্রধানের ছবিও স্থাপন করা হয়। মোদীর আগমন ঘিরে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। বিভিন্ন সড়কে উড়ানো হয়েছে লাল-সবুজ আর ত্রিরঙ্গা পতাকা।
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান:
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে ভারত জড়িয়ে আছে নানাভাবে। সময়ের পরিক্রমায় দুই দেশের সম্পর্ক পৌঁছে অন্য এক উচ্চতায়।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ঠিক আগে আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর শুরু হয় ভারতে প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মিত্রবাহিনীর কাছে ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ওই যুদ্ধে ১ হাজার ১৬১ ভারতীয় সেনা শহীদ হয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটির বেশি শরণার্থী সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিল; মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও হয়েছিল ওইসব এলাকায়। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাও বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, “এই সফর হবে খুব বিশেষ তাৎপর্যের এবং এর মাধ্যমে আমাদের অনন্য ও বিশেষ সম্পর্কের উদযাপন হবে। যাতে জোর পাবে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিক।”
এদিকে ভারতের সরকারি গণমাধ্যম দূরদর্শন এর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, উদযাপন অনুষ্ঠানে ‘মুজিব কোট’ পরবেন নরেন্দ্র মোদী ও তার সফর সঙ্গীরা। ইতোমধ্যে ‘কাস্টম ডিজাইনড’ একশটি মুজিব কোট সরবরাহও করেছে ভারতের খাদি অ্যান্ড ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রিজ কমিশন (কেভিআইসি)।
এসময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি ভার্চুয়ালি বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ১২ লাখ করোনাভাইরাসের টিকা উপহার দেবেন। এর আগে বাংলাদেশকে আরও ২০ লাখ টিকা উপহার দিয়েছিল ভারত সরকার।
কুটনৈতিক মহলে আলোচনা :
কুটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শত বার্ষিকীর পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তিতে মোদীর এ সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারন গত এক দশকে বাংলাদেশের পূর্বমুখী পররাষ্ট্র নীতিতে চীন-জাপানের দিকে কিছুটা বাক পরিবর্তনে এই সফর নতুন মাত্রা এনে ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাদের মতে বাংলাদেশ আসলে ভারসাম্য নীতিতে চলতে চায়। চীন ও জাপানের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি মূলত বানিজ্যিক কৌশলগত। তাছাড়া ভারত হলো বাংলাদেশের বড় প্রতিবেশী ও পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান চিরস্মরণীয়। দুই দেশের সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে টানাপোড়ন চললেও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে বাংলাদেশ ঠিকই ভারতকে বড় বন্ধু হিসেবে নিয়ে আগামীর শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে চলতে চায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here