KSRM
Home কমিউনিটি ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। রাসমনি ঘাটকে ঘিরে হাজার মানুষের কর্মসংস্থান

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। রাসমনি ঘাটকে ঘিরে হাজার মানুষের কর্মসংস্থান

0

কমিউনিটির জীবন জীবিকা/ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী/
নিউজ ডেস্ক :

ভোর থেকেই জেলে, ডিঙ্গি নৌকার মাঝি আর ক্রেতা বিক্রেতার আনাগোনায় সরগরম হয়ে উঠে রাসমনি ঘাট। আজ সকালে বৃষ্টির মাঝেও  দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ আর ছোট বড় হরেকরকমের মাছে পরিপূর্ণ সমুদ্র তীরবর্তী এ ঘাট। তবে এই বর্ষা মৌসুমে ইলিশ নিয়েই চলছে যেন ইলিশ উৎসব। কারন খুচরো ও পাইকারী ক্রেতাদের মাঝে ইলিশ নিয়েই বেশী আগ্রহ। তাদের মতে এ মূহুর্তে ইলিশেরই চাহিদা বেশী।
চট্টগ্রাম শহরের হালিশহরের আনন্দ বাজারের অদূরে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে রাসমনি ঘাট। সিডিএ কর্তৃক নির্মিত বন্দর এলাকা থেকে পতেঙ্গা হালিশহর হয়ে ঢাকা মুখী নতুন রাস্তাটি স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে এনেছে কর্ম চাঞ্চল্য। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় রাসমনি ঘাট এলাকায় আগের চেয়ে বেশী জনসমাগম ঘটে। অনেক পুরনো ঘাট হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছে জেলে সম্প্রদায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। বিকেলে নামে দর্শনার্থীদের ঢল। বিকাশ হচ্ছে পর্যটন শিল্পেরও।
স্থানীয় এক জেলে সুনীল বলেন, এই রাসমনি ঘাটকে ঘিরে প্রায় শতাধিক পরিবারের জীবন জীবিকা। হয়েছে হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। তারা সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে ঘাটেই বিক্রি করে পাইকারদের কাছে। অনেকে আশেপাশের হাট বাজারে নিয়ে বিক্রি করে।
এবারে ইলিশের দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বড় ইলিশের চেয়ে মাঝারি সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে বেশী, যেগুলো প্রতিটি এক কেজির চেয়ে কম। পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি হিসেবে দুইশত থেকে তিনশত টাকা দামে ইলিশগুলো বিক্রি হচ্ছে। শুনেছি বাজারে এগুলো পাঁচশ থেকে ছয়শত টাকায় বিক্রি হয়।
রশিদ নামে একজন ক্রেতা বলেন, আমি সকালে এ এলাকায় প্রাতঃভ্রমণ করতে আসি। রাসমনি ঘাটের হৈ হুল্লোড় আমাকে আকর্ষণ করে। আমি নিজেও ইলিশ কিনে নিয়ে যাই। তবে তাজা হওয়ায় এখানে অনেক ক্রেতা এসে মাছ কিনে ।
আলাউদ্দিন নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, বিআইডব্লিউটিএ রাসমনি ঘাটিট তত্ত্বাবধান করে শুনেছি। তবে ঘাটে প্রচুর মাছ জেলেরা সমুদ্র থেকে ধরে আনলেও এখানে মাছ বেচা বিক্রির কোন ব্যবস্থা নাই। সমুদ্র পাড়েই লাই বা টুকরিতে বেচা বিক্রি হয়। এলাকায় মানুষও বেড়েছে ও চাহিদাও বেড়েছে। তাই সিটি করপোরেশনের সহায়তায় নাগরিক সুবিধার জন্য পরিকল্পিতভাবে এখানে একটি ছোট মৎস্য বাজার করা যায়।
প্রাতঃভ্রমণে আসা জসিম উদ্দিন নামে এক শিক্ষক বলেন, করোনা দূর্যোগ চললেও মানুষের জীবন-জীবিকা থেমে নেই। রাসমনি ঘাট হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার স্থান। কেউ মাছ ধরে, কেউ সেই মাছ বিক্রি করে হয়ে গেছে ছোট ব্যবসায়ী। তারা কেউ কারো মুখাপেক্ষী নয়। প্রকৃতি ও সমুদ্রই তাদের কর্মসংস্থান করে দিয়েছে।  এখান থেকেই অনেকের পরিবার চলে। তাদের সন্তানরা লেখাপড়া করে। তারাও স্বপ্ন দেখে একটি উন্নত জীবনের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here