KSRM
Home কমিউনিটি আরাকান সড়কে দূর্ঘটনার নতুন তথ্য। লবন বোঝাই ট্রাকে পিচ্ছিল মহাসড়ক।

আরাকান সড়কে দূর্ঘটনার নতুন তথ্য। লবন বোঝাই ট্রাকে পিচ্ছিল মহাসড়ক।

0

কমিউনিটি সিকিউরিটি / নিউজ ডেস্ক :

আরাকান রোড নামে পরিচিত চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কটিতে ইদানীং সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত ও অনিয়মিত যাত্রীরা রয়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। এতে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এলাকা বাসীর সূত্রে জানা যায়, ইদানীং সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে বানিয়াছড়া আমতল এলাকায় এবং সড়কের সদরের ঈদগাহ থেকে রামু বাইপাস অংশজুড়ে। এজন্য রেললাইন নির্মাণে মাটি আনার ট্রাক ও লবনবাহী পিকআপ ট্রাক গুলোকে দায়ী করছেন তারা । কারন রাতের বেলা নিয়মবহির্ভূতভাবে কাঁচা মাটি টানতে গিয়ে মহাসড়কের উপর কিছু মাটি পড়তে থাকে। এই কাঁচা মাটির উপর দিয়ে লবণ বোঝাই ট্রাক চলাচল করে। এতে লবন থেকে নিঃসৃত পানিতে পিচ্ছিল হয়ে যায় মাটি মেশানো সড়ক। নিঃসৃত লবণ পানি ও কুয়াশায় ভিজে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে মরণফাঁদে পরিনত হয় তখন। এতে যাত্রীবাহী দ্রুতগামী বাস ও মাইক্রোবাসগুলো তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে দূর্ঘটনার শিকার হয়। বিশেষ করে রাতে এই ঝুঁকি বেশী থাকে। দেখা গেছে রামু বাইপাস সড়ক থেকে রশিদ নগর নাদেরুজ্জামান স্কুল গেইট পর্যন্ত স্হানে স্থানে গত সপ্তাহে মালবাহী কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক , চেয়ার কোচ,মটর সাইকেল সহ অসংখ্য ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে অনেকের। মৃত্যুর মিছিল চলছে যেন এই মহাসড়কজুড়ে। হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তাও বলছেন পরিবহণে প্রশাসনিক নির্দেশনা না মানায় সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারন । দূর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া একজন ভুক্তভোগী সদরের ঈদগাহ ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা হিউম্যান রিসোর্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট নামক সংগঠনের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, প্রতি বছর দুর্ঘটনায় আমরা বহু গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধি সহ অসংখ্য মানুষজনকে হারিয়েছি। আমি নিজেও গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ঈদগাতে একজনের জানাজা পড়ে কক্সবাজার বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে নাদেরুজ্জামান স্কুলের সামনে সড়কে কাঁচা মাটির স্তুপের উপর মটর সাইকেলরর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি। আমার বাম হাত মারাত্মক জখম হলেও মহান আল্লাহ’র অশেষ রহমতে আমরা দু জন আরোহী অলৌকিক ভাবে বেঁচে গেছি। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, সড়ককে মরণ ফাঁদ বানিয়ে এসব উন্নয়ন কার জন্য ? যদি মানুষ না বাচে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে না পারলে এসব দূর্ঘটনা হতেই থাকবে। সড়কগুলো প্রাইভেটাইজেশনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি। সাথে হাইওয় পুলিশের টহল বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। তবেই ট্রাকগুলোর স্বেচ্ছাচারীতা ও অনিয়ম বন্ধ হবে, যোগ করেন তিনি। আফছার উদ্দিন নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঢাকা ও দেশের অনেক জেলা থেকে কক্সবাজারে পিকনিকে আসে বাসগুলো। সেইসব বাসের অনেক ড্রাইভার আরাকান রোড তথা কক্সবাজার রোডের বিভিন্ন ধরনের বাকগুলো সম্পর্কে জানেন না। তাই হঠাৎ এসে তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আবার কিছু গাড়ী
ওভারটেকিং ও দ্রুত চালানোর সময় পিচ্ছিল সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ বিষয়ে আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পরিবহণ চালক সমিতির কয়েকজনের সাথে আলাপে তারা বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা, এটা কেউ চায় না। এজন্য ড্রাইভার, হেলপার সবাইকে সাবধান ও সজাগ থাকা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কড়া নির্দেশনা দিই আমরা। তবে সড়কে গাড়ী চলাচলে নিরাপত্তা দেওয়া ও সড়কের অবকাঠামো নির্মাণ উন্নত, ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ করা ইত্যাদির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থাগুলোর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here